অনুরাগ নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “অনুরাগ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ২২০ – ২৩৭ পর্যন্ত মোট ১১৪ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

করবে দরদ যা'তে যেমন 
মমতাও র'বে তা'তে তেমন। ১।
টানটি ধরে যেমন রূপে
সত্তারূপও বদলে চুপে। ২।
পারগতা দেখবি যা'তে
চাওয়ার টানটি জানবি তা'তে। ৩।
থাকতে পারিস্ যাই না ভুলে
চাহিদা-ঝোঁকও কম তা'র মূলে। ৪।
যা'র যেখানে বুকের টান
তেমনই তা'র করার প্রাণ। ৫।
পরাক্রমের জেল্লা যেমন
ভালবাসার রূপটি তেমন। ৬।
টান-চাহিদার 
যেমনি চড়া,
সন্ধিৎসা তেমনি
তেমনি করা। ৭।
ভর-দুনিয়ায় যেই যা' করুক
ঠিক জানিস্ তুই থোক,
সব করারই মূলে আছে
প্রিয়-উপভোগ । ৮।
অভীষ্ট আর বৃত্তিপথে
যাহার যতই দ্বন্দ্ব কম,
সে-মানুষটি ততই সহজ,
আবোল-তাবোল তা'র খতম । ৯।
ভালবাসার টান—
কর্ম্মে আনে সবলতা
জীবনে উত্থান। ১০।
ভালবাসা বাধা পেলেই
নিবিড় পাওয়ায় উদাম ধায়,
এইটি জানিস্ লেখা আছে
ভালবাসার লক্ষণায়। ১১।
ভাবভক্তি-অপঘাতী
ভাবা-বলা-চলা,
সঞ্জীবনী শক্তিটিকে
আস্তাকুঁড়ে দলা;
নিছকভাবে বুঝে নিও
এই কথাটি সার,
ও হারালে থাকলো কী আর?
দুনিয়া অন্ধকার। ১২।
নিষ্ঠা-নেশা-প্রত্যয় কু
চরিত্র ধায় কু-পানে,
সুপ্রত্যয়ে নিষ্ঠা-নেশায়
চলে চরিত্র সু-টানে। ১৩।
ইষ্টপ্রাণ অনুরতির 
সাম্যদীপ্ত নয় জীবন,
এমন জনার বিচার-বুদ্ধি
দোলুল দোলায় খায় দোলন। ১৪।
ঝোঁক যেখানে রত রে তোর
ইচ্ছাও তোর তাই করা,
পুনঃ পুনঃ তাই তা' করিস্
ঝোঁকেও আছে তাই ধরা। ১৫।
যে-প্রয়োজন মুখ্য রে তোর
অনুরাগ জানিস্ সেইখানে,
অনুরাগের লক্ষণই ওই
হীন অনুরাগ ওই বিনে। ১৬।
সঙ্গ, সেচন, পোষণ পেয়ে
সংস্কার যা'র যেমনি,
অনুরাগটি সেই ধাঁজেতে
বাস্তবে ধায় তেমনি। ১৭।
চিন্তা, কথন, করণ নিয়ে 
অনুরাগী যেমন চলে,
তেমনি চিন্তা-কথন-করায়
অনুরাগও উচ্ছলে। ১৮।
মনের রোখটি যা'ই থাকুক না
একটুখানি এড়িয়ে গা',
কওয়া-করায় চলবি যেমন
ঝোঁক হবে তোর তদনুগা। ১৯।
অনুরাগটি যেমনতর
তেমনি মানুষ ধরে সে,
তেমনি তা'র চাল-চলন
বেড়ায়ও সে সেই বেশে। ২০।
ভাবা, কওয়া, করার আচার
হয় যেখানে যেমনই,
টান গজায় তেমনতর
স্বভাবও পায় তেমনই। ২১।
যা'র ইচ্ছা আর প্রয়োজনের
করতে পূরণ উতাল ধাবি,
সেই পথেতেই তেমনি ভাবে
গজিয়ে চলন স্বভাব পাবি। ২২।
যা'কে না পেলে যা'কে নিয়ে
অনায়াসে থাকতে পারিস্,
টান জানিস্ তুই সেইখানে তোর
প্রয়োজনে অন্যে ধরিস্। ২৩।
বুক-ফাটান টান যেখানে
প্রাণ সেখানে ধায়,
তাহারই মন পেতে গিয়ে
তা'র ভাবই সে পায়। ২৪।
বাধা-বিপত্তি-অভাবপথেও
অভীষ্টেতে টান,
অতিক্রমি' দরদ-চলায়
তবেই ঋদ্ধিমান্ । ২৫।
বাধা-বিপত্তি-অভাবপথে
নিঝুম চাওয়া যা'র,
আকাশ-পাতাল হ'লেও দেওয়া
পাওয়া ঘটে না তা'র। ২৬।
দেখতে-শুনতে-কইতে কিছু 
         এসেই পড়ে প্রিয়র কথা,
চক্ষু সজাগ কানটি সজাগ,
          সজাগ প্রাণের তোড়টি তথা;
প্রিয়র দরদ এমনি ক'রেই
         দরদী ক'রে তোলে,
প্রিয়-হারা চায় না কিছু 
        টানটি ওরেই বলে। ২৭।
প্রেম-বকুনি লাখ বকিস্ না 
অনুরাগ তোর সেইখানে,
যা'রই স্বার্থ মুখ্য রে তোর
বৃত্তি কাবু যেই টানে। ২৮।
সঙ্গগুণে সহবাসে
পোষণ পেয়ে টান গজায়
টানটি যাহার যেমন ভাবে
তেমনতরই রয় বজায়। ২৯।
বাগ্-বিলাসী তাত্ত্বিকতায়
হয় না জানিস্ ঝোঁকের টান,
আগ্রহে দায়িত্ব নিলে
উপচে ওঠে তা'তেই প্রাণ। ৩০।
অনুরাগের টান ধরাতে
কাউকে তো কেউ পারে না,
টান ফোটে তা'র তেমনতর
যেমনটি তা'র কামনা। ৩১।
সম্বেগ আর লাগোয়া-ঝোঁকের
যেথায় যেমন আধিক্য,
কৰ্ম্মপটুতা দক্ষতারও
সেথায় তেমনি ঐক্য। ৩২।
ভালবাসায় চাহিদা-সিদ্ধির
যেমনই অভাব,
দোষ-নজরী খতিয়ানটির
স্বতঃই অপলাপ। ৩৩।
প্রবল টানে বৃত্তি কাবু 
বৃত্তিকে চেনায়,
বিনিয়ে তোলে, রয় না বাঁধা
তা'র প্ররোচনায়। ৩৪।
একটি টানের ভাবায়-করায়
সার্থক পূরণ হয় যেথায়,
পরস্পরের স্বার্থ হ'য়ে
বন্ধুত্বটি গজায় সেথায়। ৩৫।
উচ্চে যা'রা সহজানত
তা'রাই শ্রেষ্ঠ-বংশজাত। ৩৬।
গুরুর টানে আপ্রাণতায়
কৰ্ম্মনেশা যেমনি হয়,
নির্ভরতা নিনড় পায়ে
তেমনি এসে গায় রে জয়। ৩৭।
বুকের টানটি উপচে যতই
পরাক্রমে বহমান,
ততই রে তোর হ'চ্ছে জানিস্
দুর্ব্বলতা ক্ষীয়মাণ। ৩৮।
ভালবাসা খাঁটি যখন 
শুনবি তা'র কী লক্ষণা ?
প্রেমাস্পদের অনাদরেও
মোটেই দুষ্ট ক্ষুব্ধ না। ৩৯।
প্রেমেই থাকে দক্ষতা আর
ক্ষিপ্র-নিপুণ সহজ জ্ঞান,
তা'রই ফলে মানুষ করে
বাস্তবতায় অধিষ্ঠান। ৪০।
খাঁটি চাওয়া হ'লে—
করার তালে পড়বি মেতে
কষ্ট যাবে চ'লে । ৪১।
হ'লে তুমি ইষ্টপ্রাণ
হবেই দক্ষ জ্যোতিষ্মান । ৪২।
বৃত্তিভেদী ইষ্টে টান
কর্ম্মে ফুটলে পরিত্রাণ । ৪৩।
আকাল-পাকাল থাক না যত
ইষ্টপদে থেকোই রত । ৪৪।
ইষ্টস্বার্থী যে হয়
ব্যর্থ পাওয়া তা'র নয়। ৪৫।
শক্তি যদি চাও—
ভক্তিটাকে অটুট ক'রে
দক্ষপথে ধাও। ৪৬।
আদর্শেতে আপ্রাণতা
উছল হবে যত,
শৌর্য্য-সাহস-সহিষ্ণুতা
উথলে উঠবে তত। ৪৭।
মাতৃসেবার অমোঘ টানে
চল্ ওরে তুই চল্,
থাকবি হ'তে বীর্য্যবান
পাবিই বুকে বল। ৪৮।
পিতামাতায় অটুট টান
পূরণপ্রবণ ঝোঁক,
সেই ছেলেই ভবিষ্যতের
মহান্ একটি লোক। ৪৯।
যে-ভাব-ভাষায় ভক্তিভরে
পিতায় করিস্ বর্দ্ধনা,
কর্ম্মে তাহা ফোটেই যদি
তবেই পিতার অর্চ্চনা। ৫০।
ছেলের নেশা মায়ের উপর
মেয়ের নেশা বাপে,
এমনতর ছেলেমেয়ে
নষ্ট পায় না চাপে। ৫১।
অনুরাগে বৃত্তি কাবু 
মমতায় আত্মবোধ,
স্নেহে থাকে ভরণবুদ্ধি
প্রেমে তামাম শোধ। ৫২।
আগল-পাগল হাল-বেহালে
বেহদ্দ চাল যতই থাক,
সবই হয় তা'র সিধে-সটান
প্রেষ্ঠটানে লাগলে তাক্। ৫৩।
আবেগভরা পরাণকাড়া
উৎস ধরা মন,
অনুরাগের অটুট ধারায়
উচ্ছল চলন;
ভক্তিযোগের সেই তো যোগী
বৃত্তিপূজায় বীতভোগী,
টান-প্লাবনে উতাল করি'
আনেই সন্দীপন। ৫৪।
আগুন-জ্বালা আবেগ যদি
বুকেই তোর থাকে,
এক চুমুকে করবি নিকেশ
চলার বাধাকে। ৫৫।
ভালবাসার ছোট্ট সাবুদ
আরও একটি লক্ষণা—
হাজার লোকই থাক না প্রিয়র
করুক না তা'র অর্চ্চনা,
না থাকলে সে, না দেখলে তা'র
কিছুতেই যেন চলছে না,
যতই বেকুব ঝোঁকটি ঐ তা'র
লাখ বোঝালেও বুঝছে না। ৫৬।
ভালবাসা গাঢ়-নিবিড়
প্রেষ্ঠস্বার্থী যত,
সমবেদনাও তেমনি গভীর
প্রকাশও তা'র তত। ৫৭।
ভালবাসায় দেখবি না তুই
বৃত্তিস্বার্থী টান,
না পাবি কভু দেখতে সেথায়
জ্ঞানটি শিথিল ম্লান,
রোগে-ধরা বাইটি সেথায়
খুঁজেও পাবি না,
ব্যাধির ছলে প্রেষ্ঠে ত্যক্ত
করতে দেখবি না। ৫৮।
প্রাণের টানটি উপচে উঠে
        কথায় মূর্ত্ত হয়,
সেই প্রেরণাই সেবায় ফুটে
        অভাব মুছে লয়। ৫৯।
বেশ ক'রে তুই খতিয়ে দ্যাখ্
চাস্ যা' বলিস্—চাস্ কিনা,
পাওয়ার চলায় বাঁধ ভেঙ্গে চল্
দ্যাখ্ ওরে তা' পাস্ কিনা। ৬০।
বিশেষ দেখে বিশেষেরে 
বিশেষ পুরণ করতে পারা,
এইটি হচ্ছে সমানভাবে
ভালবাসার সত্যি ধারা। ৬১।
প্রেষ্ঠনেশায় বৃত্তিকাবু 
সেই তো আসল টান,
সেই টানই তো ভালবাসা
শক্তি মুর্ত্তিমান। ৬২।
বাধার বিপাক-বিপত্তি ডাক
যতই কঠোর হো'ক,
অতিক্রমী গর্জ্জনী টান
থাকলে অটুট রোখ—
জ্ঞানের মুকুল হ'য়ে ও-সব
উথলে তোলে পাওয়ার বিভব
ফলিয়ে তুলে পাওয়াটাকে
আরোয় আনে ঝোঁক। ৬৩।
বৃত্তিভেদী শ্রেষ্ঠে টান
থাকলে আসে পরিত্রাণ,
যেমন ক'রেই পারিস্
যা' করেই তুই থাকিস্
ঐটি ক'রেই চল্—
স্বার্থবুদ্ধি দিয়ে ফাঁকি
শ্রেষ্ঠেই তোর স্বার্থ রাখি'
চল্ না ওরে অটুট হ'য়ে
পাবিই বুকে বল। ৬৪।
ভাব, ভক্তি, ভালবাসা
যতই বাধা পায়,
ততই তা'রা উচ্ছলতায়
শ্রেষ্ঠপানেই ধায়। ৬৫।
প্রয়োজনটি যেথায় তোমার
চলছ তুমি সেই টানে
অনুরক্ত তা'তেই জেনো
হীন অনুরাগ আরখানে । ৬৬।
আদর্শে টান, কর্ম্মে পটু,
যত নীচই হো'ক,
উন্নতি তা'র হবেই হবে
পাবেই আলোক। ৬৭।
বুকচোঁয়ান মদির নেশায়
অবাধ হ'লি ইষ্ট প্রাণে,
স্বর্গ যে ওই আসল নেমে
বীণ-মৃদঙ্গী ধাতার গানে। ৬৮।
ইষ্টানুগ জীবের সেবা
ছাড়িস্ না রে জীবনভোর,
প্রেষ্ঠনেশায় বৃত্তিগুলি
বিনিয়ে গুটিয়ে আন রে তোর;
কৰ্ম্মপ্রাণ সাশ্রয়তায়
ইষ্টস্বার্থে আঁকড়ে ধর,
লক্ষ্মী এসে অঢেল চলায়
ফুল্লগানে দেবেই বর। ৬৯।
বৃত্তিভেদী অটুট টানে
চঞ্চলতা হ'লে স্থির,
শান্তি তখন নিবিড় হ'য়ে
আগলে তোরে রাখবে ধীর। ৭০।
ইষ্টে রেখো ভক্তি অটুট
শক্তি পাবে বুকে,
তাঁ'রই কর্ম্মে রাঙ্গাও স্বভাব
পড়বে নাকো দুখে। ৭১।
ইষ্টে যদি না র'ল ভাব
অভাব কি আর যায়?
ডাইনী অভাব নানান ধাঁচে
রক্ত চুষে খায়। ৭২।
ভাবীর সাথে না করলে ভাব
অভাব যাবে কিসে?
সব চাওয়াটাই ভাবহারা তোর
তাইতো হারাদিশে । ৭৩।
যা'রাই জানিস্ প্রেষ্ঠনিদেশ
নয় পালনপর তৎক্ষণাতে,
নয়কো অবাধ ভক্তি তা'দের
বৃত্তি টানে আত্মঘাতে। ৭৪।
টানের ঝোঁকে করণ ফোটে
কর্ম্মে ফোটে টান,
কৰ্ম্ম-টানের সমাবেশে
স্বভাবগত প্রাণ। ৭৫।
যা'রেই ভালবাসিস্ না তুই
যেমন মনে যেমন প্রাণে,
প্রেষ্ঠ-প্রীণন না হ'লে তা'য়
ফেলবে নিয়ে কাল-তুফানে। ৭৬।
অভীষ্টতে টানটি যেমন
শ্রদ্ধা-আবেগ-নন্দনায়,
তেমন গভীর সুপ্ত গ্রন্থি
চেতনভূমে দীপ্তি পায়। ৭৭।
বৃত্তি যা'দের সমন্বয়ী
একনিষ্ঠ প্রাণে,
সার্থক-সেবা ভ'রে ওঠে
ধনসম্পদ-জ্ঞানে। ৭৮।
এক জনেরই তুষ্টি লাগি'
দশ হাতেতে দশটি দিক
সেবায় সফল সার্থক যে-—
পুজেই তা'রে দিগবিদিক। ৭৯।
ইষ্টশাসন-ভর্ৎসনাতে 
তৃত্তিদীপ্তি যে-জন পায়,
বৃত্তিকাবু প্রেষ্ঠনেশায়—-
শ্রেষ্ঠ সে-জন লক্ষণায় । ৮০।
ক্ষিপ্র-চতুর দক্ষ-নিপুণ
যেমন ইষ্টটানে,
বৃত্তিস্বার্থ হবেই মলিন
বজ্র-জীবন আনে । ৮১।
লক্ষ বাধা ডিঙ্গিয়ে চলে
প্রীণন-পোষণ বেগে,
সার্থকতায় বৃত্তি পাগল
রয় সেথা প্রেম জেগে । ৮২।
মুখ্য প্রিয়-প্রয়োজনের
আকর্ষণী মোহন টান,
লাট্টু-দোলে দোলায় মানুষ
প্রস্তুতও রয় তা'তেই প্রাণ । ৮৩।
ইষ্টস্বার্থী প্রভাব ভরা
কামকল্লোলী টান,
এমন 'টানই রঙ্গিল নেশায়
দীপ্ত রাখে প্রাণ। ৮৪।
ইষ্টটানের অমোঘ চলায়
দেখবে অনেক গ্রহের ফের,
খাবি খেয়ে পাল্টে গেছে
রেখে সৎ-এর ঝলক জের । ৮৫।
বৃত্তিগুলো ইষ্টঝোঁকে
ঐ স্বার্থেতে ছুটলে,
জীবন-জগৎ শৃঙ্খলাতে
বিন্যস্ত হয়, বুঝলে ? ৮৬ ।
তুই যেমনই যা' হ'স্ না—-
ইষ্টস্বার্থী অবাধ টানে
পারবি না এমন পাস্ না। ৮৭।
প্রত্যয়েরই উদ্দীপনায়
আগ্রহেরই বেগে,
কৰ্ম্ম ফোটে কৃতিত্বতে
উন্নতি রয় জেগে। ৮৮।
বাধার নিরোধ যতই কঠোর
করুক না হয়রান,
প্রেষ্ঠে অটুট টান ও চলন
গায়ই জয়ের গান। ৮৯।
প্রিয়স্বার্থ-প্রতিষ্ঠাটি 
যেমন কৰ্ম্মময়,
ভালবাসার সত্তাটিও
জানিস্ তেমনি হয়। ৯০।
বৃত্তি কাবু, সুখ উপজয়
যেমনতর যেই টানে,
ভালবাসাও কর্ম্মমুখর
তেমনতর সেই প্রাণে। ৯১।
সৎ-অসৎ তুই যা'ই করিস না
থাকলে মূলে ইষ্টে টান,
সব কেটে তুই উঠবি ফুঁড়ে
পরবি মুকুট সুমহান। ৯২।
প্রেষ্ঠনিদেশ বাস্তবেতে
ত্বরিতভাবে মূর্ত্তি দেও,
এটাই এক পন্থা শুধুই
ঊর্জ্জা ও প্রেম বাড়িয়ে নেও । ৯৩।
প্রেষ্ঠে যদি থাকে কা'রও
দরদভরা বুকের টান,
চিন্তাকর্ম্মে শ্রেষ্ঠ চলায়
হবেই হবে বর্দ্ধমান। ৯৪।
সব প্রবৃত্তি ন্যস্ত যাহার
ইষ্টস্বার্থ-প্রতিষ্ঠায়,
উন্নতি তা'র সদাই চলে
নিত্য নূতন চলৎপায়। ৯৫।
প্রত্যয়েরই অমোঘ টানে
বিবেক ফুঁড়ে কাজ,
বাস্তবতায় না গজালে
রুখবে কে তোর লাজ ? ৯৬।
টান কেমন তা'র সাক্ষী হ'ল
পূরণ-প্রবণ দান,
কপট পীরিত চায়ই কেবল
করেই অভিমান। ৯৭।
সংস্পর্শেতে কেহই যাহার
প্রেষ্ঠে যুক্ত হয় না যখন,
প্রেষ্ঠে টানটি শিথিল তাহার
দৃঢ়প্রত্যয় নয়কো সে-জন। ৯৮।
পতিব্রতা পত্নী যেমন
নষ্ট নাকাল হয় না,
ইষ্টনিষ্ঠাবানেও তেমনি
পাতিত্যতে পায় না। ৯৯।
প্রকৃত টান যেথায় জানিস্
সেই হবে তোর অর্থ,
কর্ম্মে সেটি ফুটেই বেরোয়
পাওয়া করে না ব্যর্থ। ১০০।
সার্থকতায় তৃপ্ত হ'য়ে
দীপ্ত যাঁকে দিয়ে,
অবশতায় মুষড়ে যাবি
তা' হ'তে তুই নিয়ে। ১০১।
একমুখতায় হৃদয় যখন
অবাধে হয় বাধ্য,
বৃত্তিবাধা বিনিয়ে চলে
তাই জীবনের সাধ্য। ১০২।
দুঃখ-আঘাত-অভিঘাতে
স্বার্থে-সুখে কি সম্পদে
ইষ্টস্বার্থী ঝোঁক-সমতা
যেমনই তোর নড়ল,
বৃত্তিবাগী চরিত্র তোর
তেমনি চলন-বলনে ভোর
প্রলোভন বা বিক্ষেপণের
খিদমতেতেই পড়ল। ১০৩।
ইষ্টস্বার্থ-প্রতিষ্ঠাপ্রাণ
যাই কেন না হোক,
সবার ভিতর চলবেই তা'র
ঐ মাতালী ঝোঁক
যা-ই করুক আর যেমনই চলুক
যতই করুক দুশমণি,
নরক তাহার স্বর্গ হ'য়ে
গায় চিরদিন বন্দনী। ১০৪।
সুখ-অভ্যাসী কষ্ট ভয়ে
প্রিয়-প্রীণন পারলি না !
প্রিয়তে প্রাণ স্পর্শেনি তোর
এটাও কি তুই বুঝলি না ? ১০৫।
চাহিদা অযুত হ'লেও পুরণ
তৃপ্তি কিন্তু মিলবে না,
প্রেষ্ঠটানের একপ্রাণতায়
তৃপ্তি কভু টলবে না । ১০৬।
প্রাণ-সম্বেগ যে-উদ্দেশ্যে
স্ফীততেজা যেমনই,
তদর্থে দান তেমনইতর
রয়ও শক্তি তেমনই। ১০৭।
বাঞ্ছিততে চেতন আবেগ
দেখবি যাহার যেমন,
বুদ্ধি-বিচার-পারগতায়
দক্ষ সে-জন তেমন। ১০৮।
নীচে সমতা, উচ্চে ভক্তি,
শ্রেষ্ঠে আকর্ষণ,
পবিত্র তা'র বংশধারা
ঊর্ধ্বে নত মন। ১০৯।
অপ্রত্যাশী ভালবাসা
তুমি-প্রবণ প্রাণ,
সেথা স্বতঃই ফুল্ল থাকে
হৃদয়ঢালা দান । ১১০।
শ্রেষ্ঠই যদি স্বার্থ তোমার
তাঁ'কেই বাস ভাল,
সব করারই মধ্যে তবে
তাঁ'রই স্বার্থ জ্বাল। ১১১।
ঈশ্বরেরে ভালবেসে 
যা'র যেমনই তৃপ্তপ্রাণ,
সেইতো পারে ভরদুনিয়ায়
করতে তেমন শান্তি দান। ১১২।
ইষ্টমুখীন অটুট টানটি
পরাক্রমে উপচে
দক্ষ-সেবায় গড়লে জীবন—-
অভাব-বাধা ঘুচছে । ১১৩।
একটানা তোর অবাধ আবেগ
শতেক বাধা বেদনায়,
প্রেষ্ঠস্বার্থ-সন্ধিৎসাতে
চললে পাবি সান্ত্বনায় । ১১৪।