আদর্শ নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম (৪১-৮২)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “আদর্শ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ২৬৯ – ২৮১ পর্যন্ত মোট ৮২ টি বাণী রয়েছে। নিচে ৪১ – ৮২ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

আদর্শেরে বলি দিয়ে
দৈন্য যাহার উপচে ধায়,
সেই দীনতা হীনই ক'রে
হীনত্বেতে তা'য় বসায়। ৪১।
অতিক্রমি' অভাব-ব্যাঘাত
সেবা ক'রে গুরুজনে
লভে যবে আত্মপ্রসাদ—
শক্তি চলে উদ্দীপনে । ৪২।
লাখ সেবা তোর পরিস্থিতির
হৃদয়-উজাড় দান,
ইষ্টার্থে না হ'লে সার্থক
সবই তোর হয়রান। ৪৩।
ইষ্টস্বার্থ-প্রতিষ্ঠাতে 
ব্যাপক-বেদন স্বার্থভরে,
বিস্তারে তোর ব্যক্তিত্বটা
অটুট চলায় বিরাট ধরে। ৪৪।
নিজের স্বার্থ যেমন দেখিস্
দোষ ঢেকে গুণ বলিস্,
প্রেষ্ঠতরে তেমন হ'লেই
পাবিই বিধির আশিস্। ৪৫।
তুই যদি তোর প্রেষ্ঠ-নিদেশ
চলায়-বলায় না মানিস্,
ভরদুনিয়ায় তোরে মেনে
চলবে না কেউ ঠিক জানিস্ । ৪৬।
সেবাচৰ্য্যায় নিত্য রত 
পাপ-পঙ্কিল অভ্যাস-মন,
মারে শুরু নিজেও মরে
যা'দের থাকে রোখ এমন। ৪৭।
ইষ্টস্বার্থ বাদ দিয়ে তুই
ব্যাপক স্বার্থ যেই না হ'লি,
টুকরোমিতে ডুক্কারিয়া
ধরলো মরণ, ঐ না ম'লি। ৪৮।
লোকমতের ঝোঁক যা' দেখ
দলন ক'রে চ'লো নাকো,
সমবেদনায় সামঞ্জস্যে
বিনিয়ে আদর্শে চলতে থাক । ৪৯।
উপকারীর করতে ভাল
আদর্শে করে হেলা,
সব শুভ তার উল্টো ধেয়ে
দেয় আপদের ঠেলা। ৫০।
পরের ইষ্টে নিন্দা ক'রে
হ'লি ইষ্টনিষ্ঠ,
নিজেরই পা ভাঙ্গলি নিজে
বুঝলি না পাপিষ্ঠ ! ৫১।
স্বার্থদ্যুতি যা'ই দেখাক না
দিয়ে বিজ্ঞ যুক্তিজাল,
ইষ্টীপূরণ-সংহতিহীন
চোরাই শ্রেয়ে পয়মাল। ৫২।
গুরু কিংবা গুরুজনে
আগ্রহাতুর সেবার ফলে,
অনটনটি যাবেই ছুটে
চলৎস্নায়ুর পুষ্টি-বলে। ৫৩।
আত্মপ্রসাদ মাতাল-নেশায়
গুরুসেবা করবি যত,
চলৎস্নায়ু সবল হবে
শক্তি উছল হবেই তত। ৫৪।
উদ্দেশ্যহারা উপলক্ষে 
অলসকাজে প্রেষ্ঠপাশে,
কাটালে সময় জানিস্ কিন্তু
হারায় দিশে বুদ্ধি নাশে। ৫৫।
গুরুর দয়ায় নয় বিনীত
দাবীর তোড়ে গুরুর খায়,
গুরুর স্বার্থে অন্ধ-বধির
শকুনযোনি তা'রাই পায়। ৫৬।
গুরুর-নিয়ে খায় নিজে যে 
উছল পূরণ করে না তাঁয়,
ধান্দা-আকুল দক্ষ-চলন
বয় না ইষ্ট দক্ষিণায়;
অবশ-স্নায়ু নিথর-গতি
ক্লৈব্যহৃদয় মন্দমতি,
নিপট কঠোর দুর্দ্দশাতে
সবংশে সে দৈন্যে ধায়। ৫৭।
চরস্নায়ুর দক্ষ প্রভাব
সমাহারী সংবেদন,
গুরুর সেবার বিনিময়ে
নিলেই হয় তা'র নিরসন । ৫৮।
স্বার্থবশে গুরুর ক্ষতি 
স্তব্ধমতি বুদ্ধিনাশ,
অকালমরণ আগলে আসে
ক্ষীণমস্তিষ্ক জীবন-ত্রাস । ৫৯ ।
গুরু কিংবা গুরুকুলের
কোন সেবার বিনিময়ে,
যা' নিবি তা'র অনটনে
সচ্ছলতা যায়ই ক্ষ'য়ে। ৬০।
গুরুকে দিতে নেয় গুরুরই
অর্জ্জে' কিন্তু নিজেই খায়,
ফাঁকির ভাঁওতায় আগুন-রাগে
দগ্ধে দৈন্যে নিপাত যায় । ৬১।
গুরুর জিনিস করলে হরণ—
হৃত-সম্বেগ স্নায়ু তা'য়
ব্যাধির বিষে পাগলপারা,
ডাইনী-বিপাক পিছেই ধায়। ৬২।
লোক-পালক শ্রেষ্ঠ যা'রা
আদর্শে আপ্রাণ,
তা'দের ভালয় করবি যাহা
তাহাই সত্য জান্। ৬৩।
সিদ্ধ নয় মন্ত্র দেয়
মরে মারে করেই ক্ষয় । ৬৪।
নিজে সিদ্ধ না হ'য়ে যে
লোকে মন্ত্র কয়,
নিজের করে সর্ব্বনাশ
যজমানেরও ক্ষয় । ৬৫।
ইষ্টনেশায় নয়কো অটুট
পূরণপ্রবণ ইষ্টপ্রাণ,
আচার্য্য বা গুরুপদে
হ'তেই নারে অধিষ্ঠান। ৬৬।
ভক্তি অটুট নারায়ণে
দক্ষপটু যা'র সেবা,
ঝঞ্ঝা আসুক শতেকরূপে
রুদ্ধ করে তা'য় কেবা। ৬৭।
ইষ্টগুরু লোকসারথি 
নয় দূরিতকারী,
পুরণপুরুষ দয়াল ঠাকুর
সৎ-অশনি ধরি'। ৬৮।
সবার পুরণ করেন যিনি
তাঁ'রই মুখে বিধির বাণী। ৬৯।
পুরণপ্রবণ যেমন মানুষ
বিধির বাণী তেমনি ব'ন,
পূরণ-গড়ন-প্রবণবিশেষ
ব্যক্ত বিধি তা'তেই র'ন। ৭০।
যে-মনীষী জন্মেন যখন
সময়-কালের গর্ত্ত ফুঁড়ে,
সার্থকতার বিরোধবার্ত্তা
অর্থ দিয়ে হটান দূরে। ৭১।
যুগের বাঁচা-বাড়ার মূলে 
গ্লানি যেথায় দেখতে পান,
পূরণপুরুষ সে-সবগুলি
বদলে আনেন অভ্যুত্থান । ৭২।
যুগ-পুরুষের আবির্ভাবে
দেবশক্তি, সিদ্ধশক্তি,
আতিদৈহিক সমাহারে
তাঁ'তেই পূরণ-অভিব্যক্তি ;
যতেক তন্ত্র ব্রাহ্মী মন্ত্র
সার্থকতার লভে যন্ত্র,
আতস-কাচে সূর্য্যরশ্মি
যেমন স্বভাব-সংহতি । ৭৩।
পুরুষোত্তমই রাজা-প্রজা
জীবন-যশের খেই,
জন্মগত গুরু-আচার্য্য
ঋত্বিক্-অধ্বর্য্যুও সেই;
যাজক-পূজক-শিষ্য তিনি
গরীব-ধনী একই জন,
হৃদয়-জোড়া সৃষ্টিছাড়া
সৎ-অসৎ-এর বিশ্রয়ণ। ৭৪।
পূর্ব্বতন প্রেরণাতেই
পরবর্ত্তীর অভ্যুত্থান,
চেষ্টা করলেই দেখতে পাবি
তাঁ'তেই তাঁ'দের অধিষ্ঠান । ৭৫।
ইষ্টগুরু পুরুষোত্তমদের
এমন বাণীই নেই,
পূর্ব্বতনে বাতিল করে
ধরাতে নিজের খেই। ৭৬।
বুদ্ধ-ঈশায় বিভেদ করিস্
শ্রীচৈতন্যে রসুল কৃষ্ণে,
জীবোদ্ধারে হ'ন আবির্ভাব
একই ওঁরা তা'ও জানিসনে ? ৭৭।
ইষ্টস্বার্থে অমল হ'য়ে
অমর নিত্যে ধা',
মরণ-তরণ বজ্র হানি'
নাশ্ রে ব্যর্থতা । ৭৮।
অমর-নেশায় মনটা রে তুই
ইষ্ট-আভায় রাখ্ রে লাল,
বৃত্তিগুলি গুছিয়ে নিয়ে
মৃত্যু-কালোয় ধররে ঢাল। ৭৯।
রক্ত-আভার লাল লালিমায়
ইষ্টস্বার্থে জ্বালিয়ে বুক,
ঈশানদেবের বিষাণ-রাবে
জাগিয়ে তোল্ বধির-মুক। ৮০।
ভাবছ ব'সে চলবে কিসে 
ভাববার তুমি কে?
ভাববার যিনি ভাবছেন তিনি
ভাব তুমি তাঁকে। ৮১।
অসীম পথের অশেষ চলায়
অনাচারের ধ্বংস আনি,
যেজন চালায় বিভুর পানে
দিয়ে বিশাল দৃপ্ত বাণী,
জ্ঞানের খড়্গে কেটেকুটে
পথের আড়াল ছেঁটেছুটে
ধবল অশ্বের মহান বেগে
নিজে চ'লে চালায় প্রাণী,
প্রাণের পথের প্রেমিক সে যে
ধূমকেতুবৎ অট্টতেজে
কল্কি এলো মৃত্যুশিরে
করাল কুটিল দৃষ্টি হানি'। ৮২।