আর্য্যকৃষ্টি নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “আর্য্যকৃষ্টি” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৩৫১ – ৩৬৫ পর্যন্ত মোট ৪৫ টি বাণী রয়েছে। নিচে বাণীসমূহ দেয়া হলো।

আর্য্য ভারতবর্ষ আমার 
          জ্ঞান-গরিমা-গরবিনী,
দ্যুতিপ্রেক্ষা স্ফুরক প্রজ্ঞা
          দ্যুলোক দীপকমালিনী,
রক্ত তপন ক্ষিপ্ত আলোক
রশ্মিপুলক ঝলক-ঝলক
দীপ্ত রিক্ত পাবক অনঘ
          মৃত্যুবিজয়-দায়িনী !
নভোমণ্ডলে সামগীতিকা 
নাচে দোদুলে তারা-বালিকা
থির চঞ্চল কত ছলিকা
অমর ছন্দে প্রণব-লিখা
ঋষি-মানস ঋক্-প্রতীকা 
প্রজ্ঞাপুরক জ্যোতিষশিখা
         দুরিত দাপট বিনায়িনী !
হোমের অনল নাচে ছল-ছল
বহে সরস্বতী সিন্ধু প্রবল
দৃষদ্বতী দিল অর্ঘ্য আঁচল 
স্ফুরিত ইন্দু স্মিত ঢল-ঢল
চলে ভাগীরথী ডাকে কল-কল
সাগর-ধৌত চরণ-যুগল
       তুঙ্গ ধবল কিরীটিনী; 
অযুত রশ্মি দীপ্ত কেন্দ্র
পুরুষোত্তম চির অতন্দ্র
জাগে আহ্বান বিপুল মন্দ্র
অমর লপনা জীবন সান্দ্র
আর্য্যগরিমা গভীর মন্ত্র
ছলকি' সত্তা একটি তন্ত্র
      ভারত বিশ্বঋতায়িনী । ১।
ধ্বনিয়া ধমনী হৃদয়তন্ত্রী
        বাজিল প্রণবে নাচিল যন্ত্রী
আলোক-পরশে জাগিল তন্দ্রী
        গাহিল ঋক্ ঋষি মহান—
বন্দে পুরুষোত্তমং বন্দে আর্য্যপিতৃন্ 
        বন্দে মাতৃবর্গান বন্দেহং কৃষ্টিদৈবতান্;
গরজি' গহনে গবেষী প্রাণ
        অযুত প্রজ্ঞা করুক দান
স্বস্তি-মন্ত্রে দীপিয়া তান
        রহুক অমর আর্য্যস্থান—
বন্দে পুরুষোত্তমং বন্দে আর্য্যপিতৃন্ 
        বন্দে মাতৃবর্গান্ বন্দেহং কৃষ্টিদৈবতান্;
মথিত সিন্ধু উলসি' অমর
        অমিয়-প্রলেপী দ্যুতিয়া বর
সৃজন জলদে নাশি' ঊষর
        পূরণ-অর্ঘ্য করুক দান—
বন্দে পুরুষোত্তমং বন্দে আর্য্যপিতৃন্
        বন্দে মাতৃবর্গান বন্দেহং কৃষ্টিদৈবতান;
ঋদ্ধি-সমিধ আহরি' আবার
        টুটিয়া বাঁধন ম্লেচ্ছ আচার
মুক্ত হউক আর্য্য বিভার
       দীপালি দীপনে বিশ্বপ্রাণ—
বন্দে পুরুষোত্তমং বন্দে আর্য্যপিতৃন্
       বন্দে মাতৃবর্গান্ বন্দেহং কৃষ্টিদৈবতান্  । ২।
ফেনিল ঊর্ম্মি গর্জ্জি ধায় ঐ
তরঙ্গের তালে নাচি থৈ-থৈ
দীপন দক্ষ অমোঘ অবাধ
টানে টেনে লয় সবারে,
আর্ত্তী ডাকিছে, কে আছ কোথায় ?
ধ'রে তোল মোরে রাখ বেদনায়,
মৃত্যুমথিত আঘাত-বিপাকে
ঐ ঐ ওরে সাবাড়ে;
শোন্ ওরে শোন্ হাঁকে নারায়ণ
জ্যোতিনিক্কণ প্রণবে—
ইষ্টস্বার্থী প্রাণে
দীর্ণী বজ্র-টানে
অমরণ পায় মানবে । ৩ ।
আলোক পায়ে লালচে শাড়ী
       প'রে পথটি বেয়ে,
চলছে বোধি-বিনয়গড়া
       আমার পল্লীমেয়ে;
মুখে মাখা চাঁদনী আভা
      চোখে জীবন-উদ্দীপনী,
কথায় বাজে আগল-ভাঙ্গা
      আদর লাজুক সন্দীপনী;
হাতে তাহার সুধার পেলব
      স্পর্শে ফোটে পদ্ম-শ্নেহী,
নজরপারের সতী যেন
      ঘনিয়ে এসে হ'ল দেহী;
সরল আভায় শরীরটি ওই
      উঠছে ফুটে দীপ্তি জ্ঞানের,
বুকের মাঝে খেলছে যেন
      বীচিমালা ভক্তি-প্রেমের;
স্নেহের গাঁথায় মুক্তি যেন 
      ছুটছে চ'লে শক্তি পায়,
দেবতা-অসুর যক্ষ-মানব
     ভক্তি-বিভোর নতি জানায়;
আর্য্য মেয়ে অমনি হ'য়েই
     জ'ন্মে থাকে আর্য্য ঘরে,
সঞ্জীবনী উচ্ছলতায়
     ওই কোলই তো আর্য্য ধরে । ৪।
তন্দ্রী অরুণ-ললিত দীপ্তি 
লিপ্ত কপোল-প্রতিভা,
স্মিত গৌরব ললাটে ক্ষরিছে
অমর ইন্দু লালিভা;
স্থির চঞ্চল আয়ত নয়ন
খরদর্শন ক্ষরণে,
পলকে মৃদুল ছলকি'-ছলকি'
ধায় সম্বিৎ হরণে;
স্ফীত বহি-দৃপ্ত কুটিল
কঠোর সুন্দর ক্ষপণে,
বীর্য্যগরিমা দ্রোহ-ঈক্ষণে
রুধিছে শীতল মরণে;
বপু-বিচ্ছুরিত অমর নিক্কণ
ঘোষিছে আর্য্য-গরিমা,
নতিবিহ্বল প্রেষ্ঠ-পূজারী
দেখিয়া শিহরে কালিমা;
চরণ-চলনে বিজলী লিখনে
ভরসা করিছে লপনা,
আর্য্যপ্রতীক বালসুন্দর
দীপ্ত ব্রাহ্মী বপনা । ৫।
মিহির রাগে অগ্নিতেজে
জ্বালিয়ে দিয়ে পাপের পাঁজা,
বাঁধন যত খড়্গে কেটে
জাতটা ওরে কর্ রে তাজা । ৬ ।
আর্য্যকৃষ্টি তপনদীপ্তি 
দ্যুতিয়া সৃজিল অযুত ইন্দু,
দ্যুলোকদীপনা তারকা-লসিত
লাজললিত দিকিনী হসিত
বিজয় প্রজ্ঞা অমরা ধ্বনিতে
দানিল তরণ-জীবন-সিন্ধু;
ঋদ্ধি হোমে সকল দিক
নাচায়ে তুলিল ঋষির ঋক্
ছলকি' শ্রবণা সম্বিৎতালে
বরিয়া বীজিল ব্রহ্মা-বিন্দু;
অন্ধ তমসা দীপ্ত হৌক
আর্য্যকৃষ্টি জীবিত রৌক
হিন্দোল তালে স্বস্তিমন্ত্র
করুক দীর্ণ জাতির অন্দু । ৭ ।
আর্য্যশোণিত লাল লালিমায়
নিঝুম গর্ব্বে এখনো রয়,
এখনো শিথিল আর্য্যধমনী
অমরণ-গানে রুধির বয়;
বেতাল বেভুল বাতুলের মত
যদিও আর্য্য আপন-ভোলা,
অমরণ-সুর এখনো তা'দের
স্নায়ুর তন্ত্রে দিচ্ছে দোলা;
শঙ্খচক্রী আজও নারায়ণ
ধর্ম স্থাপনে জনম লন,
বৃত্তিমদির যদিও তাহার
ব্যগ্র তবুও করিতে বোধন;
ওঠ্ রে আর্য্য বজ্রদম্ভে
মুষ্টিকরে ধ'রে আয়ুধ যত,
কৃষ্টি মেখলা বেদ-কিরীটে
তাড়া রে তোদের বিপাক শত । ৮।
আর্য্যকৃষ্টি সৎনীতি সব
জাগিয়ে রাখতে সংস্কারে
আচার-বিনয়-বিদ্যা-তপে
নিষ্ঠা-ব্রতে সৎকারে,
দান-প্রতিষ্ঠা-আবৃত্তি আর
তীর্থ-পর্য্যটন ক'রে
কুলের ঝাঁঝাল রোখ বিশেষে
সজাগ রাখে অন্তরে,
এমন যে তা'র কুলের ধারা
নিরাবিলই মুক্ত রয়,
কুলীনত্ব সেই তো রাখে
তা'কেই লোকে কুলীন কয় । ৯।
ঝঞ্ঝারাগে ঝড়ের বেগে 
বজ্রসুরে ধর্ রে তান,
আর্য্যস্থান, পিতৃস্থান
উচ্চ সবার পূর্য্যমাণ । ১০।
কোন্ বেকুব শিখিয়ে দেছে
আর্য্য যা'রা পৌত্তলিক,
পুতুল-পূজো করে না তা'রা
পূজক আপ্তবীর-প্রতীক;
ভরদুনিয়া দেখ খুঁজে তুই
স্মারক-পূজক কেই বা নয়,
যা'র যেমনটি লাগে ভাল
তেমনি পুজোয় সবাই রয় । ১১।
ইষ্টীপূত রক্ত তোদের
      বীর্য্যবাহী আলোকময়,
প্রেষ্ঠ একে সংহতি তোর
      রুদ্র-শিঙ্গায় গাচ্ছে জয়;
কৃষ্টি-বৃষ্টি সৃষ্টি তোদের
      দৃষ্টি নাশে ধৃষ্টতায়,
গবেষণায় মত্ত গভীর
      নাচছে জীবন জাতীয়তায় । ১২ ।
আর্য্য তা'কেই বলে—
কৃষ্টি-পথে দৃষ্টি নিয়ে
ইষ্টতপে চলে,
রক্তে গাঁথা আর্য্য আভা
তপঃ-কুতূহলে । ১৩ ।
বৃত্তিপথেই কৃষ্টি যা'দের
সত্তা মেরে ভোগ,
ম্লেচ্ছতপার শ্লেষ্য নীতি
অনার্যকৃৎ রোখ । ১৪।
ছোট্ট যা'রা দৃকদুরতার
সহজ জ্ঞানে নাই সঙ্গতি,
কোন হুজুগে প্রাজ্ঞদিগের
হীনত্বে চাস্ পরিণতি ?
শ্রেষ্ঠ উচ্চ যাঁ'রাই জানিস্
তাঁ'রাই সাথী বিবর্দ্ধনে,
তাঁদের যদি করিস্ রে হীন
ভ্রষ্ট হ'বি উৎ-চলনে;
তাই, ওরে শোন, অবোধ বেকুব,
কৃষ্টিধারায় ইষ্টরথে
চল্ ছুটে চল্ মহৎ পেতে
মহান বেগে তাঁ'দের পথে । ১৫।
দীপ্ত-তেজা আর্য্যজাতি 
পূরণ-গড়ন স্বভাবপ্রাণ,
এক ত্রাতা এক মন্ত্র
তন্ত্র একে অধিষ্ঠান । ১৬।
অমর রাগে শম্ভু হাঁকে
শোন রে আর্য্য ! ঐ রে শোন,
ফণীর মালায় মরার হাড়ে
বাজে অমরণ ফণাৎ ঠন্ । ১৭।
আর্য্যবিষাণ উঠল হেঁকে 
মন্ত্রসুরে বজ্রদীপী,
সূর্য্য-আলোয় ঝকঝকে ওই
কৃষ্টিমাণিক কপাল-লিপি,
ঋক্ নাচনে সাম-দোলনে
যজুর সুরে আবার সাধ,
আর্য্য জাতি বাঁচুক উঠুক
অমর রহুক আর্য্যবাদ । ১৮।
দশবিধ সংস্কার 
আ্যাচারে কেন জানিস্ ?
জন্মগত সংস্কারের
তোষণ-পোষণ ওতেই মানিস্ । ১৯।
গর্জ্জরোলে চমকভাঙ্গা
        জাগ্ রে ওরে আর্য্য জাত,
ঊষার আলোয় চোখ মেলে চা'
        বিদায় ক'রে দুঃখরাত;
শোন্ ওরে শোন্ বিষাণ বাজে
        চমক-দোলায় ডিডিম ডীন,
ফুল্লতালে ওঁকারে গা'
        ইষ্টস্বার্থী ধ'রে বীণ;
অমল-ধবল মলয় রোলে 
        গর্জ্জে পিনাক ঐ গাণ্ডীব,
মরণ-তরণ আহব ডাকে
        সঞ্জীবনীর সৃজনদীপ । ২০। 
কাৰ্ম্মুকেরই ঝিমিৎ ঝনক
        বজ্রবহ্নি জ্বলন-রোলে
পিনাকেরই দৃপ্ত মাতাল
       ডমরুরই ডিডিম বোলে,
গাল বাজিয়ে থিয়াথিয়ায়
      পাগলা ভোলার ববম দুলে
চল্ রে ওরে চলন্ত প্রাণ
      মুহ্যমানব ধর্ রে তুলে । ২১।
ঝমঝমিয়ে চমচমিয়ে 
স্বস্তি-নিশান ধ'রে ধা,
ধাপে-ধাপে দাপে-দাপে
ছেঁটে-কেটে সব বাধা । ২২।
ইষ্টস্বার্থী মাতাল বেগে 
       মৃত্যু-ঘাতী অমরতা 
লভেই লভে আর্য্যকৃষ্টি,—
      ওতেই তো তা'র বিশিষ্টতা । ২৩।
বিপ্লব আন্ বিদ্রোহ আন্ 
রুধিতে মরণ-আয়োজনে,
বজ্ররে ধর্ মরিস্ তো মর্
পেতে নিরন্তর অমরণে । ২৪।
হোক না সাধু পাপী ধনী
       হোক না গরীব আর্য্য যা'রা,
       হৃদয়-চাপে ফিনকি দিয়ে
       রক্তে ছোটে আর্য্যধারা;
যে যেমনই হোক না জানিস্ 
অবাধ বোধে নিছক বুঝিস্,
মরণ-দানব নিধন-স্পর্দ্ধী
       ভারত-আর্য্য শ্রেষ্ঠ তা'রা । ২৫। 
অত্যাচারে নির্য্যাতনে 
        কৃষ্টি আজি মলিনমুখ,
করতে দলন ইষ্টপথে
       ঘুচিয়ে ফেল কৃষ্টিদুখ । ২৬ ।
স্বস্তি-ভেরী অনাহতে 
      বাজছে শুধুই স্বাধীন হ',
ইষ্টনেশায় কৃষ্টি ধ'রে 
      ক্ষিপ্ত কৃপাণ-বৃত্তি ব' । ২৭।
আবেগ যদি থাকেই ওরে
        অন্তরায়ে ধ্বসিয়ে ধা,
বাধ-হননী তীব্র চালে 
        দক্ষতাতে রেখেই পা;
ফুৎকারে সব কুটিল কাল
        অগ্নিনালের জ্বলনদাপে,
উড়িয়ে দে, পুড়িয়ে দে
        অবশ করা যতেক পাপে;
সার্থকতায় বেঘোর নেশায় 
        কর্ম্মে করি' হাতিয়ার,
ছুটলে ওরে আর্য্য ছেলে
        ভরদুনিয়ায় কী ভয় তা'র । ২৮।
সিংহরাগে কাঁপিয়ে কেশর
        ওরে আর্য্য প্রবীণ যুবক !
মরণটাকে মুষড়ে এনে 
       দিবি পুড়িয়ে ধ'রে পাবক;
শোকের আঘাত মৰ্ম্মদিগ্ধ 
       হারান ব্যাপার ঘুচিয়ে নিতে,
পারবি কি রে ব্রাহ্মী ছেলে 
      এক চুমুকেই সাবাড় দিতে ?
ওঠ ওরে ওঠ, হান্ ওরে হান,
      নিভে গেছে কত দীন প্রধান,
ব্রাহ্মী বজ্রে মরণটাকে
      নিকেশ ক'রে জীবনে আন্ ! ২৯।
উৎপাতে সব হকচকিয়ে
স্বস্তি-চলায় অটুট চল,
পূর্ণতেজে চূর্ণ ক'রে
পাপকে ভেঙ্গে বাড়াও বল । ৩০।
বাঁচন-বাড়ন গানে তোরা
নাচন-দোলায় তান ধরি',
রবাব-বীণার নিলয় তানে
তালে বাজা কিঙ্গরী । ৩১।
আপন ভাল বোঝে না যা'রা
আরাম পেলেই খুশি হয়,
এমনি লোকের মত নিয়ে কি
নিয়ম-নীতি কৃষ্টি রয় ? ৩২।
কুটিল ধুয়োয় চললি ওরে 
      মিথ্যা স্মৃতির দোহাই নিয়ে,
পূর্ব্ববাহী বর্ত্তমানে 
      ধরলি না রে হৃদয় দিয়ে;
হ'লি নিপাত মারলি রে জাত
       আর্য্যকৃষ্টির গর্ভস্রাব,
বিষাণ-রাবে পিনাক হাঁকে 
      কী বলে শোন্ রুধির চাপ ! ৩৩।
পিতৃকৃষ্টি পূরণ-প্রবণ 
থাকলে অটুট সেই ধারাটি,
শাক্ত হ'স্ আর বৈষ্ণবই হ'স্
খৃষ্টান মুসলিম সবই খাঁটি;
ঐ চলা তোর বাতিল করে
স্বর্গেও যদি যাস্ রে তুই,
জোর গলাতে বলছি আমি
স্বর্গও তোর নরকভুঁই । ৩৪।
আর্য্যজাতির স্বভাব-ধাঁজই
বস্তুপথে ভাবকে দেখা,
সেইটি এনে বাস্তবতায়
ওরই আরো ধরতে শেখা;
বস্তুবিহীন ভাবের বিলাস
অনার্য্যদের পাগলা ধাঁজ,
নাই-এর পথে নাই-নারায়ণ
আর্য্যেতরের স্বপ্নরাজ ! ৩৫।
অঘমর্ষী যজ্ঞ ক'রে
      মন্ত্রে করি' হোম,
পঞ্চবর্হির স্মরণ নেওয়াই
      পরিশুদ্ধি-ক্রম । ৩৬ ।
অঘমর্ষী যজ্ঞ ক'রে 
পঞ্চবর্হি কর পালন,
শুদ্ধ হ'বি বুদ্ধ হ'বি
নাচবে বুকে সৎবোধন । ৩৭।
অঘমর্ষী যজ্ঞ ক'রে 
পাতিত্য সব পুড়িয়ে দে,
সপ্তার্চ্চিকে বরণ ক'রে
পঞ্চবর্হি স্মরণ নে । ৩৮।
দৃপ্ত তপা তৃপ্তি নিয়ে
      ভৃত্যজীবন রুধেই ধর,
জৃম্ভি' কৰ্ম্মে ধর্ম্মে বর্ম্মে 
      ঋকদৃকেতে হ' তৎপর;
ঋষির ছেলে আর্য্য তোরা
      ছুঁস্ নে কভু গোলামখানা,
অবাধদাপে অন্তরায়ে
     কররে নিকাশ দিয়ে হানা । ৩৯।
প্রেষ্ঠ-পূজা উবিয়ে দিয়ে
      অবজ্ঞা আর অপমানে,
দম্ভী-সেবায় চাটু পালি'
     দক্ষ দাঁড়ায় সমুত্থানে !
হামবড়ায়ী বৃত্তিপুজায়
     লাগিয়ে করে বাজিমাৎ,
শিবশ্রেষ্ঠে তখনই সে
     অপমানেই করে কাত;
দক্ষের মেয়ে সতী তখন
     মর্ম্মদিগ্ধ শিবনিন্দায়,
আত্মাহুতি যজ্ঞে দিয়ে
     পুড়িয়ে ফেলে আপনায়;
সতীর ব্যথায় গর্জ্জে তখন
     ভূতরা নাচে থিয়া-থিয়ায় 
চুরমারি' সব দিমিক-দিমিক
      যজ্ঞ অনল নিভিয়ে দ্যায়;
প্রলয় নাচন ধিন-তা-বিন
      চূর্ণ করি', দীর্ণ করি',
উবিয়ে দেয়, পুড়িয়ে দেয়
     চৰ্ম্ম করীর হাতে ধরি';
সাপের ফণা গর্জ্জে ওঠে
     মরার খুলি ঠঠন্ ঠন,
শব-সতীরে কাঁধে ল'য়ে
      পাগলা তখন শিবনাচন;
দম্ভী অহং অবনতির 
      কুটিল কঠোর দীর্ণীঘাতে
ওড়ে মাথা, অজের মুন্ডু 
      শোভেই তখন দক্ষ কাঁধে;
দক্ষতা যদি সার্থকতায় 
      প্রেষ্ঠ-পূজা নাই রে ধরে,
দক্ষযজ্ঞ অমনি হ'য়েই
      মানুষ-মাথার নিকাশ করে । ৪০।
রক্তে এখনো আর্য্য-আলোক 
লুকিয়ে বহে আর্য্যকুলে,
তপের পথে চল্ ছুটে চল্
দেখবি রে তুই চক্ষু খুলে;
বিদ্যুতেরই আর্য্য-চমক
উঠছে ফুটে ধমক-ধমক,
লকলকিয়ে টগবগিয়ে
বহ্নি হোমের উঠছে দুলে' । ৪১।
পূর্ব্বতনে পারম্পর্য্যে 
তাঁ'দের দেওয়া কৃষ্টি-পথ,
আবিল কালের ময়লা মাটি
জুটিয়ে যবে আনে বিপদ,
সবগুলি তা'র নিকেশ ক'রে
পরিষ্কারে ফুটিয়ে ফেলে,
আরোতরের অমোঘ খবর
জীব-জগতে দেন রে ঢেলে,
পূর্ব্বানত বিরাটি প্রাণ
পূরণ-গড়ন সিদ্ধ মানুষ,
আর্য্য ভজে পুরুষোত্তম
প্রতীক সেই মহাপুরুষ । ৪২।
ক'জন ওরে মহৎ জোটে 
        দীন দুনিয়ার সমাজ-পটে,
শ্রেষ্ঠ বিনা কৃষ্টি কোথায় 
        ব্যষ্টি-বৃদ্ধি কোথায় ঘটে ?
বাঁচা-বাড়াই বুদ্ধি যদি 
        শ্রেষ্ঠ-পথে যদিই প্রীতি,
ধর্ ওরে ধর্ পূজায় বিভোর 
        হ'য়ে শ্রেষ্ঠে বাড়াস্ স্থিতি । ৪৩। 
ফাগুনেরই আগুনফাগে
ভর-দুনিয়া লালে লাল,
দেখিস্ নাকি পুড়ছে ওরে
জগৎজোড়া পাপ-জাঙ্গাল !
অমর-গানের স্বস্তি-হাওয়া
সঙ্গে তা'রই দিয়ে যোগ,
ওরই মাঝে দুলছে রে দেখ্
জীবন-জয়ের অটুট ভোগ । ৪৪।
পদ্ম আসন ধান-ভরা ক্ষেত
মায়ের পায়ে কৃষি-শিল্প,
বাহন মায়ের তা'রই যন্ত্র
         ওড়না মায়ের একীতন্ত্র;
আর্য্য-গরিমা কেয়ূরহস্ত
নেত্র মায়ের স্নেহলদীপ্ত,
মায়ের মাথার মুকুটে ঝলসে 
        ইষ্টস্বার্থ দীপন-মন্ত্র !
অগণিত সুত জড়িমা টুটিয়া 
        ললাটে লসিত অমর ইন্দু,
ক্ষীরভরা পীন অযুত ধারে
       ক্ষরিছে জীবন অমিয় সিন্ধু;
স্মৃতির বোধন মাল্য কণ্ঠে 
      নাকের বেশর উপনিষৎ,
শ্রুতির চুমকি ঝকমকে ওই
      চলনে চমকে ওঁ তৎসৎ !
চারিবর্ণে ঝলকে কেশ 
      আমার মায়ের এমনই বেশ,
 …….এই তো দেশ !
স্বস্তি স্বস্তি ওঠে কলরব
       সাম্য দুলিয়া ফুলিয়া ধায়,
ইষ্ট-আনত বিপ্লবী প্রাণ 
      বিদ্রোহ দলি' নতি জানায় ! ৪৫।