আর্য্যকৃষ্টি নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (১-৫০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “আর্য্যকৃষ্টি” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৭২ – ৯২ পর্যন্ত মোট ৯৪ টি বাণী রয়েছে।
নিচে ১ – ৫০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

ঠিক জানিস্ তুই ঠিক বুঝিস্ 
ভেবে-চিন্তে আরো দেখিস্—
সঙ্গতিশীল সম্বন্ধটা
ভাঙ্গেই যখন থাকিস্ না,
ভজনশীল সঙ্গতিটা
সংহত হওয়ার অনুভূতিটা
জাত-সমাজে থাকল না যেই
জীবন বেঁচে থাকল না তোর—
তা' বুঝিস্ । ১।
অমৃতেরই সন্ততি তুই 
অমৃতই তোর জীবন-ধারা,
মরণ ভ'জে মরণ খুঁজে
হ'বি কেন সর্ব্বহারা ? ২।
ঊর্জ্জী নতি দীপ্ত প্রবীণ
সঙ্গতিশীল যতই দেশ,
জীবন-বৃদ্ধির কৃষ্টি নিয়ে
দক্ষ চলার নাইকো শেষ । ৩।
জীবনটাকে ফেলবি কেন
শুধুই কেবল কোলাহলে,—
ব্যতিক্রমে থাকবি কেন
পিয়ে দুষ্ট হলাহলে ? ৪।
জীবনবেদী সত্তা যে তোর
ঐতিহ্যটা তা'রই বেদী,
কৃষ্টি-পথে ওঠ্ না হেঁকে
অজান যা' তা'র মর্ম্ম ভেদি' । ৫।
ঐতিহ্যকে যেই তাড়ালে
নষ্ট করলে কৃষ্টি-গোলা,
প্রাচীন-পর্য্যায়ী সংস্কার যা'
হ'লে তা'তে বেভুল-ভোলা । ৬ ।
প্রত্যুৎপন্নমতি তোমার
প্রাচীনেরই আবেগ-দীপ,
তা'তে আঘাত হানলে পরে
জ্বলবে কি তোর প্রাণ-প্রদীপ ? ৭।
দেখলি কত করলি কত
সংস্কারকে ক'রে আঘাত,
হ'ল কি তোর উচ্ছলতা
থামল কি রে জীবন-ব্যাঘাত ? ৮।
ঐতিহ্যেরই উৎক্রমণে
যে সংস্কার উঠল বেঁধে,
তা'র বিনাশে হয় না শুভ
ব্যতিক্রমই আসে সেধে । ৯ ।
ঐতিহ্যেরই আঘাত-ব্যাঘাত
সংস্কার যা' করল সৃজন,
তাই তো সবার জীবন-সম্বল
উৎসারণী জীবন-গঠন । ১০।
এখনও তুই ওঠ্ রে জেগে
বেচাল চলায় চলবি কত,
তালহারা ঐ বেতাল নেশা
করল কত জীবন ক্ষত । ১১।
ঐতিহ্যেরই অবদান যা'
সুসম্বৃদ্ধ সংস্কার,
সেই বেদীতে দাঁড়িয়ে ও-তুই
কৃষ্টিতে কর্ অভিসার । ১২।
ক'র্ষে নিয়ে মেধাটি তোর
প্রীতি-বিভব কৃষ্টিতে,
ফুলিয়ে তোল প্রজ্ঞা-বিভব
অমর জীবন-সৃষ্টিতে । ১৩।
জীবনটা তোর বেড়ে উঠুক
তৃপ্তিভরা বৃষ্টি নিয়ে,
ধৃতি চলুক কৃষ্টি-পথে
সৎ-করণে জ্ঞান বিনিয়ে । ১৪।
বোধ-বিকাশী প্রীতির রাগে
শুভ যা' তা'ক্ আগলে ধর, [** তাক্ অর্থ তা'কে]
সংস্কারের সন্দীপনায়
কৃষ্টিটাকে মুখর কর্ । ১৫।
লাঙলা হ'বি মনে-প্রাণে
কৃষ্টি নিয়ে বাস্তবে,
যে-বিষয়ের করবি রে চাষ
ফসলও পাবি সেই ভাবে। ১৬।
ঐতিহ্য হ'তে পাওয়া যা' সব
সংস্কার কিন্তু জানিস্ তা'ই,
ঐতিহ্য আর সংস্কার ছাড়া
কৃষ্টিপূজার ভিত্তি নাই । ১৭।
ভিত্তি যেই তোর বদলে গেল
পূর্ব্ব-পুরুষ-সংস্কৃতির,
সঙ্গতিহীন অমন কৃষ্টি
করেই সৃষ্টি বিকৃতির,
স্বাস্থ্য-সত্তা সন্দীপনায়
ভাববৃত্তির আবেগ-তৃণ,
ব্যর্থ হবে নিষ্ঠ-তেষ্টা
ব্যক্তিত্বতে ধ'রেই ঘুণ । ১৮।
কেমন আছিস্, কোথায় যাবি,
কী আবেগে চলতে র'বি,
ব্যক্তিত্বটা বৃদ্ধি পাবে
সংস্কৃতির কী ধ'রে ছবি !
সংস্কার যদি না থাকে তোর
নিজ সংস্কারে গাঁথবি কী !
নিজস্বহারা পরগৌরব
শৃঙ্খলহারা হবে ধী;
প্রাচীনতম কাল থেকে তুই
পিতৃপুরুষের ধারা নিয়ে
গজিয়ে উঠলি এখানে তুই—
তা'য় বাড়াবি কী দিয়ে ? ১৯।
ঐতিহ্য যা' বীজ-বহনে 
তো'তে হ'ল আবির্ভাব,
সেই বেদীতে অটল থেকে
উচ্ছলে কর্ কৃষ্টিলাভ । ২০।
বীজকোষেতে বিদ্ধ থেকে
সংস্কারের সন্দীপনা,
বিধান হ'তে পুষ্টি নিয়ে
বাঁচায় আপদ্ উদ্বেজনা । ২১।
জীবন তোদের দাঁড়িয়ে আছে
কৃষি-শিল্প-সন্দীপনায়,
সুবিবাহ, সুপ্রজনন—
দেশটা জাগে যে উজ্জ্বলায়। ২২।
ঐতিহ্যেরই উদার স্রোতে
সংস্কৃতির সন্দীপনা,
কৃষ্টি-চলন তা'রই চাষে
করেই যে দূর কি লাঞ্ছনা ! ২৩।
কৃষ্টি জানিস্ সৃষ্টি খুঁজে
সাত্বত সঙ্গতে আসা,
ঐতিহ্যেরই বেদীমূলে
বাঁচাবাড়ার তপে বসা । ২৪।
কৃষ্টি যা'তে ধর্ষিত হয়
তপ-দ্যোতনার বর্জ্জনায়,
ঐতিহ্যকে হেলা করে
কু-কৃতিরই কুসর্জ্জনায় । ২৫।
ঐতিহ্য কিংবা সংস্কারের
প্রথা কিংবা কুলগৌরব,
নাই যেখানে, অপাত্র সে,
গর্ব্বে ফোলেই তা'দের রৌরব । ২৬।
ঐতিহ্যকে ডাঙ্গস মেরে
কৃষ্টিসেবা যে-জন করে,
কৃষ্টি তাহার সৃষ্টি নিয়ে
জাত-জীবনকে সাবাড় করে । ২৭।
ঐতিহ্যেতে দাঁড়িয়ে ও-তুই
কৃষ্টি-পথে আরো চল,
ঐ বাদের তুই বাদী হ'য়ে
বাড়া বুকে সবার বল;
অমন বাদে বাদ নাই তো কেউ
সত্তায় কিন্তু জীবন-ঢেউ,
সত্তার ধৃতি সবার ধৃতি
ঐ ধৃতি বাদ নাই রে কেউ । ২৮।
ঐতিহ্যেরই সমাহারে
বৈশিষ্ট্যেতে শিষ্ট যেমন,
কৃষ্টি-ব্যাকুল তৎপরতায়
তুর্য্য-প্রাজ্ঞ যেমন চলন,
কৃতিদীপ্ত জীবনটা তোর
উঠবে ফুটে তেমনিতর,
বড় ক'রে সবায় তুমি
তেমনিতরই হবে বড় । ২৯।
বাঁচার সাথে মৃত্যু-নিরোধ
চলন যেমন স্বাভাবিক,
ইষ্টনিষ্ঠ অনুচর্য্যায়
কৃষ্টিও তেমনি মাঙ্গলিক । ৩০।
ঐতিহ্য আর প্রথা-রীতি
কৃষ্টি-সহচর—
সার্থকতায় সবকে নিয়ে
উৎসারণায় ধর্। ৩১।
শুক্রকীটেই সংস্কৃতি রয়
সংস্কারও বয় তা'ই জানিস্,
যেমনতর ঐটি হবে
জন্মও তা'র তা'ই-ই মানিস্ । ৩২।
সব যা'-কিছু উড়িয়ে দিয়ে
সংস্কারে মারলে লাথি,
হ'বি পরপদলেহী
দুর্ভোগই তোর হবে সাথী । ৩৩।
সংস্কারে জন্মে সবাই 
ঐতিহ্যও ঐ সংস্কার,
প্রাচীন হ'তে আসছে চ'লে
জীবন-গতির ব'য়ে ভার;

সংস্কার যা'র যেমন শুভ
বিনায়িত যেমন তালে,
শিক্ষা-দীক্ষাও তদনুগ
প্রতিষ্ঠাও হয় তেমনি ভালে;
উড়িয়ে দিয়ে ঐ সংস্কার
বৃদ্ধিপর-বিন্যাসহীন
করলে জানিস্ গোল্লায় যাবি,
হবেই জাতটা নিত্য দীন । ৩৪।
সংস্কার আর প্রথা যখন
মিলন-প্রভায় যতই চলে,
সত্তা-আসন তেমনি নিরেট
তেমনতরই আরোয় বলে । ৩৫। [** বলে অর্থ বৃদ্ধি পায়]
ইষ্ট-ঐতিহ্য-প্রথানিষ্ঠা,
কুলনিষ্ঠায় অটুট থেকে,
সমবেদনী নিয়মনায়
চলিস্ কিন্তু বুঝে-দেখে। ৩৬।
ঐতিহ্য আর প্রথা যেমন
সংস্কারও হয় সেই মতন,
অন্তরবিদ্ধ যা' হ'য়ে রয়
উদগতির হয় সেই ধরণ । ৩৭।
অন্তরবিদ্ধ সংস্কার যা' 
বিশেষ ক'রে পোষণ দিয়ে,
দক্ষদীপ্ত কৃতিপটু
করবি তা'কে সুবিনিয়ে । ৩৮।
সংস্কার গোঁড়ামি নয়কো
বুঝে ক'রে সাজিয়ে নেওয়া,
কৃষ্টির অর্ঘ্যই ঐ সংস্কার
ঠকাই যে তা'য় ডুবিয়ে দেওয়া । ৩৯।
নিষ্ঠারাগে শিষ্টাচারে
আগ্রহেরই উচ্ছলা—
গড়তে শুভ যে ক্ষতি হোক
হয়ই কিন্তু সচ্ছলা । ৪০।
যা'ই না কিছু কর তুমি 
সুসংরক্ষী গোঁড়া হবেই,
সমীক্ষিত সব যা'-কিছু
সংসাধিত হয়ই তবেই । ৪১।
সুসংস্কৃত কুলের আচার
রীতি-নীতি-ব্যবহার,
সব যা'-কিছুর পরিচর্য্যায়
উচ্ছলতা আন্ সবার । ৪২।
কোন্ বংশেতে জন্ম তোমার
সম্ভব করা কী তোমার,
অতিক্রমি' সেই গরিমা
আনিস্ নাকো অশিষ্টাচার । ৪৩।
সংস্কারে সাত্বত আধান
বর্ণ গড়া তাইই দিয়ে,
সংস্কার-অনুগ সংস্কৃতি
সৃষ্টি করা তাই-ই নিয়ে । ৪৪।
জাতক যেথায় সৎ-সুনিষ্ঠ
তপস্যাতে সুনিরত,
(সেথায়) কৃষ্টি নামে বৃষ্টিধারায়
উন্নতিও অবাধ তত । ৪৫।
জন্মবিদ্ধ সহজ বোধে
যে-বৈশিষ্ট্যে সৃষ্ট তুই,
সেটা ভেঙ্গে বেচাল চলায়
সত্তা-ধৃতি পড়েই নুই'। ৪৬।
বিশেষিত সংস্কার যা' 
সত্তাটিকে তুললো গ'ড়ে,
বৈশিষ্ট্য মানে তাই-ই কিন্তু
তা' ছাড়া আর নয়কো ওরে। ৪৭।
সত্তাচর্য্যা, কৃষ্টিচৰ্য্যা
চর্য্যা সমাজ-দেশের,
সঙ্গতিশীল এমন চর্য্যা
স্বতশ্চর্য্যা ধরমের । ৪৮।
ব্যক্তি-স্বাধীনতা মানেই বুঝিস্—
ঐতিহ্য আর কুলের প্রথায়
যে-ব্যক্তিত্ব জেগে ওঠে
স্বাধীনভাবে অটুট থাকায়;
ব্যতিক্রমদুষ্ট যখনই যে হয়
ঐ স্ব-কে ভাসিয়ে দিয়ে,
বিকৃতিতে তা'রাই চলে
স্বাধীনতার নামটি নিয়ে । ৪৯।
চলার পথে ধাপে-ধাপে
সত্তাটাকে ক'র্ষে নিয়ে,
ব্যক্তিত্বটাকে রাখ না স্বাধীন
নিষ্ঠানিপুণ চলন দিয়ে;
নয়তো যাবি অধঃপাতে
সংক্রমণে মরবে সব,
ব্যক্তি-মেরুদণ্ড ভেঙ্গে
জাহান্নমের হবে উদ্ভব । ৫০।