ইষ্টভৃতি নিয়ে অনুশ্রুতি ৪র্থ খন্ড

অনুশ্রুতির ৪র্থ খন্ডে “ইষ্টভৃতি” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৪৭ – ৫০ পর্যন্ত মোট ১৫ টি বাণী রয়েছে।
বাণীগুলো নিচে দেয়া হলো।

দেবতা-ইষ্ট-শ্রেয়জনে 
         অপ্রত্যাশী অবদান,
প্রার্থনাকে সতেজ করে, 
         কৃতিদীপ্ত করে প্রাণ । ১।
স্বার্থবিহীন অবদানে
নিশ্চেষ্ট হয় না অনুরাগ,
জ্ঞানদক্ষ উদ্দীপনায়
দীপ্ত করে কৃতি-যাগ । ২।
ইষ্ট-আচার্য্য-প্রেষ্ঠে তোমার 
সৎকৃতিফল দেওয়ার আবেগ
বাড়ায় কিন্তু বাস্তবতায়
নিষ্পাদনী কৃতি-সম্বেগ । ৩ ।
জীবন-যজ্ঞের প্রথম অৰ্ঘ্যই 
ইষ্টভৃতি ঠিক জানিস,
অস্খলিত আনুগত্যে
উছল প্রাণে নিত্য সাধিস্ । ৪ ।
ইষ্টভৃতি জীবন-যজ্ঞ
প্রাত্যহিক প্রাণন-আহুতি,
সেটায় যে তোর বাধা হানে
সর্ব্বনাশের সে মূরতি । ৫।
ইষ্টভৃতি জীবন-যজ্ঞ
অপ্রত্যাশী হ'য়ে যেমন কর,
তা'তেই উছল প্রেরণা দিয়ে
সেটাই করে ঊর্ধ্বতর । ৬।
অপ্রত্যাশী ইষ্টভৃতি
জীবন-যজ্ঞ উদযাপনে
ইষ্টে করলে অর্ঘ্য দান—
দীপ্তি ফুটে ওঠেই প্রাণে ।৭।
স্বতঃস্বেচ্ছ ইষ্টভৃতির
অপ্রত্যাশী উদযাপন,
ঊর্জ্জী-দীপী শিষ্ট কৃতির
এনেই থাকে উন্নয়ন । ৮
স্বার্থলোলুপ বুদ্ধি করে
ইষ্টভৃতির আচরণে,
ঐ স্বার্থই বাধা হ'য়ে
কৃতি-আবেগ কমায় প্রাণে । ৯।
শিষ্ট আচার সদ্-দীপনায়
ইষ্টভৃতি যা'রাই করে,
নিষ্পাদনী তৎপরতায়
তারাই কিন্তু ক্রমে বাড়ে । ১০।
সব অন্তরটার উৎসারণায়
ইষ্টনিষ্ঠায় ইষ্টভৃতি,
কৃতি-যাগে শিষ্ট চলায়
নন্দনায় আনে আবেগ-প্রীতি । ১১।
নিষ্ঠা-সম্বেগ-সন্দীপনায়
ইষ্টভৃতি হোমানল
জীবন-আবেগ উর্জ্জী দীপ্ত
ক'রেই রাখে সৎ সবল । ১২।
রাতে ঘুমিয়ে যখন উঠিস্— 
আরাধনা ক'রে তখন
ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য দিয়ে
করিস্ যজ্ঞ সংসাধন । ১৩।
ইষ্টার্ঘ্যটা আগে দিবি,
পিতামাতার ভরণপোষণ
ক'রে পরে করবি কিন্তু
পরিবারের পরিপালন ;
এই চলনে চ'লে যদি
ফতুর হ'য়েও চলতে হয়—
সে নিঃস্বতাও এনে থাকে
সৰ্ব্বাঙ্গীণ উপচয় ;
পরখ করতে যাস নে কিন্তু
আপনিই পাবি পরিচয়—
নিষ্ঠানুগ কৃতিসম্বেগ
বৰ্দ্ধনাকে কেমন বয় । ১৪ ।
অস্খলিত নিষ্ঠানিপুণ 
অনুগতি-কৃতি নিয়ে
সন্দীপিত রাগরতির
আগ্রহতে দীপ্ত হ'য়ে
নিষ্পাদনার মর্য্যাদাকে
নিষ্পন্নতায় বাড়িয়ে তুলে,
ইষ্ট কিংবা প্রেষ্ঠকে দেয়
উৎফুল্লতার প্রাণন-দোলে,—
সেই তে সাধন, সেই তো তপ,
ওতেই নিষ্ঠা-পরাক্রম,
অনুগতির আবেগ নিয়ে
স্বতঃই ফোটে তা’র উদ্যম,
কৃতবিদ্য হ’য়ে তা’রই
ব্যক্তিত্বটা সিদ্ধ হয়,
অজানা যে এমনি ক'রেই
ক্রমান্বয়ে করে জয় । ১৫।