ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা-প্রসঙ্গে ১৫শ খন্ড

ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গের ১৫শ খন্ডের ১০২,২৩৬, পৃষ্ঠায় আলোচনা রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১৭ই মাঘ, রবিবার, ১৩৫৫ (ইং ৩০/০১/১৯৪৯)

শ্রীশ্রীঠাকুর প্রাতে গোল তাঁবুতে আসীন। কাশীদা (রায়চৌধুরী) ও অশোকদা (রায়) শ্রীশ্রীঠাকুরের সামনে বসে যাজন-সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—মানুষকে manipulation (নিয়ন্ত্রণ)-এর ভিতর দিয়ে আদর্শে উন্নীত করে তোলাই যাজন। যাজন এসেছে যজ-ধাতু থেকে, যজ-ধাতু মানে সম্বর্ধনা। অনুরাগের উৎসারণায় ইষ্টে সম্বর্ধিত বা সমুন্নত করে তোলাই যাজনের প্রাণ। একে psycho-therapy (মানসিক চিকিৎসা)-ও বলতে পার। ইষ্টানুরাগের ভিতর দিয়ে যাবতীয় মানসিক ক্ষত ও ব্যাধির নিরসন হয়, তাতে শরীরও তাজা হয়ে ওঠে। যাজনে যেমন অপরের ভাল হয়, তেমনি নিজেরও ভাল হয়। এতে অনেক কিছু বোধ নতুন ক’রে ফুটে ওঠে, পরিষ্কার হয়। যা’ বলেছি বা শুনেছি অথচ feel (বোধ) করি নি, তা’ feel (বোধ) করা যায়, এতে সেই বোধ চরিত্রে প্রতিফলিত হয়, তাতে মানুষ বড় হয়ে ওঠে—সদগুণের বিকাশের ভিতর দিয়ে। তিনটে জিনিস একসঙ্গে চাই—তা’ হল যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি। যজন মানে নিজেকে ইষ্টীপুত করে তোলা—মননে, করণে। যাজন মানে পরিবেশকে ইষ্টচেতনায় সম্বুদ্ধ ও সমৃদ্ধ ক’রে তোলা, ইষ্টভৃতি মানে জীবন-উৎসকে পুষ্ট ক’রে নিজের ইষ্টানুরাগকে প্রতিদিন আরো আরো সঞ্জীবিত ও সন্দীপ্ত ক’রে তোলা। যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি ঠিকভাবে করলে চরিত্র স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য-অনুযায়ী ইষ্টের ভাবে রঙিল হয়ে উঠবেই। এমন কি, চেহারার মধ্যেও একটা দেবভাবের দীপ্তি ফু’টে ওঠে।

অশোকদা—রামকৃষ্ণদেব যেমন বলেছেন—রাজাবাবুর সঙ্গে আগে পরিচয় হওয়া দরকার, তখন তা’র ঐশ্বর্য্যের পরিচয় আপনিই পাওয়া যায়। তাই, ইষ্টের ভাবধারার চাইতে ইষ্টের সঙ্গে পরিচিত করানই ত বেশি প্রয়োজন।

শ্রীশ্রীঠাকুর—যেখানে যেভাবে হয় সেখানে সেইভাবে। মানুষের inferiority (হীনমন্যতা) থাকে। তাই গীতায় আছে, শ্রদ্ধাহীন অসূয়াপরায়ণ লোককে আমার কথা বলবে না। সুতরাং তোমার কথাবার্তা, ব্যবহারে যতক্ষণ একজন তোমার প্রতি সশ্রদ্ধ ও অনুরক্ত না হয় ততক্ষণ তুমি তার কাছে তোমার ইষ্টকথা বলতে যাবে না। অনেক সময় idea (ভাব)-গুলি ভাল লাগে বলেই তাঁর উৎসের দিকে নজর যায়। আবার বিপরীতভাবেও হয়। এর কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। যে যেমন, তাঁর ক্ষেত্রে তেমন।

৭ই চৈত্র, সোমবার, ১৩৫৫ (ইং ২১/০৩/১৯৪৯)

…..
কালিদাসদা—স্থানীয় শাখা যদি কেন্দ্র থেকে চালু রাখা হয়, কেমন হয়?

শ্রীশ্রীঠাকুর—যেখানে কেন্দ্র করলে সেখানকার লোক পকেটের থেকে খরচ ক’রে যদি না করে, তাদের অবদান যদি না থাকে, তবে তার উপর তাদের দরদ হয় না। হ’য়ে ভেঙ্গে যাওয়া আরো খারাপ। তার থেকে না হওয়া ভাল।

কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—ইষ্টভৃতি করায় যে শুধু শক্তি হয় তা’ নয়, ঐ করাটা আকূতিও বাড়ায়।
…….