ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা-প্রসঙ্গে ১৮শ খন্ড

ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গের ১৮শ খন্ডের ৫৬, ৭৫, ১৫৪ পৃষ্ঠায় আলোচনা রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

২৭শে শ্রাবণ, ১৩৫৬, শুক্রবার (ইং ১২/৮/১৯৪৯)

……
তারপর শ্রীশ্রীঠাকুর যতি-আশ্রমে এসে বসলেন। মন্মথদা (ব্যানার্জ্জী), বিষ্টুদা (ব্যানার্জ্জী) ও অন্য এক ভদ্রলোকসহ আসলেন। মন্মথদা কলকাতা থেকে চারটে ভাল ঘড়ি, কয়েকটা তোয়ালে, সাবান, তেল প্রভৃতি এনেছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর এঁদের আগমনে মহাখুশী। হেসে বললেন—কী খবর, বল দেখি।

মন্মথদা গল্পচ্ছলে একজন নবদীক্ষিত দাদার কথা বললেন—তিনি বলেন, রোজ নামধ্যান, ইষ্টভৃতি করা পোষায় না।

শ্রীশ্রীঠাকুর—অবশ্য করণীয় করা যদি না পোষায়, তাই-ই তো শাসায়।

মন্মথদা বললেন, ঐ দাদা ইষ্টভৃতি ক’রে কিভাবে রক্ষা পেয়েছেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর—ইষ্টভৃতি করা খুব ভাল। ‘যো যাকো শরণ লে সো তাকো রাখে লাজ, উলট জলে মছলি চলে, বহি যায় গজরাজ।’
……..

৩০শে শ্রাবণ, ১৩৫৬, সোমবার (ইং ১৮/৮/১৯৪৯)

…….
শ্রীশ্রীঠাকুর একটু পরে ডঃ মেহরাকে বললেন—গুরুকে রোজ প্রীতি-অবদান স্বরূপ ভোজ্য নিবেদন করার প্রথাটা খুব ভাল। এতে শরীর-মনের একটা যুক্ত আগ্রহসন্দীপ্ত টান গজায় তাঁর উপর। ছেলের জন্য করি ব’লে যেমন তার উপর টান হয়। সকালে উঠে মুখটুখ ধুয়ে ধ্যান-সুমীরণ ক’রে ভক্তিভরে নিবেদন ক’রে রেখে দিলাম। মাসান্তে অনুকল্পে অর্ঘ্য পাঠিয়ে দিলাম। যখনই এর ভুল হয় তখন বোঝা যায় যে, আমার চলায় কোন গোল হ’চ্ছে। হয়তো কোনও বিপদ আসতে পারে। তাই তখন বিহিত প্রায়শ্চিত্ত ক’রে কঠোরভাবে এটা আঁকড়ে ধরা লাগে।
……..

২৯শে আশ্বিন, ১৩৫৬, রবিবার (ইং ১৬/১০/১৯৪৯)

…….
শ্রীশ্রীঠাকুর —……. আমাদের Common Ideal (এক আদর্শ) নেই। আমাদের ছিল এক অদ্বিতীয়কে মানব, পূর্ব্ববর্ত্তী পূরয়মাণ ঋষিদের মানব, পিতৃপুরুষকে মানব, বর্ণাশ্রম মানব, বর্তমান পুরুষোত্তমকে মানব। একে বলে পঞ্চবর্হি। তর্পণ-টর্পণ তো উঠে গেছে।

অধ্যাপক—আমি করি।

শ্রীশ্রীঠাকুর—ভাল। উৎসে যোগ যত হবে ততই ভাল। আসল কথা, ছেলেপেলের বাপ-মার প্রতি টান যাতে হয়, তাই করতে হয়। ছেলে খেলতে গেল। খেয়ে-দেয়ে বেড়িয়ে খেলে-টেলে আসল। বাবা হয়তো বলবে—অমুকটা খেলে মার জন্য কী আনলে? মা হয়তো আবার ছেলেকে নিয়ে বাপঠাকুরদা, পূর্ব্বপুরুষের গল্প করছে। এতে concentric (সুকেন্দ্রিক) হয়, ঝোঁক হয়। জমিটা প্রস্তুত হয়। তা’ তো করি না, বলি—birth is an accident (জন্ম একটা আকস্মিক) ব্যাপার। আমরা কতকগুলি ভাবে অনুপ্রাণিত হ’য়ে ছেলেপেলে মানুষ করতাম, তা আজকাল নেই। আমাদের যদি active love (সক্রিয় ভালবাসা) না থাকে for superior (গুরুজনের প্রতি), ছেলেরা তা আত্মস্থ করতে পারে না। সংহত হয় না। তাতে বাপেরও কষ্ট ছেলেরও কষ্ট। আমাদের যেমন ইষ্টভৃতি অর্থাৎ তাঁকে নিত্য নিবেদন করার রীতি আছে, জেমস বলেছেন, ঐ ধরনের অভ্যাসে একটা energy-insurance (শক্তি সঞ্চয়)-এর মতো হয়, যা’ বিপদে রক্ষা করে।

শরৎদা—গীতায়ও আছে।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সে-কথা আপনাদের আবার তত ভাল লাগে না। জেমস-এর কথায় হয়তো সাড়া দেবেন, তাতেই বুঝবেন।
……..