ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা-প্রসঙ্গে ২২শ খন্ড

ইষ্টভৃতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গের ২২শ খন্ডের ৩২, ৫৫, ১৫১ পৃষ্ঠায় আলোচনা রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

২৫শে বৈশাখ, ১৩৬০, শুক্রবার (ইং ৮/০৫/১৯৫৩)

শ্রীশ্রীঠাকুর বিকালে যতি-আশ্রমে আছেন। অনেকেই সমবেত হ’য়েছেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর কথাপ্রসঙ্গে বললেন—আমাদের এই ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নীর ভিত্তিতে যদি সব কিছু গ’ড়ে ওঠে, তা’হলে হয়তো রাষ্ট্রের তরফ থেকে আয়কর না নিলেও তেমন ক্ষতি হবে না। আয়কর জিনিসটাই উঠিয়ে দেওয়া চলবে। ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যরনীই প্রয়োজনের অতিরিক্ত হ’য়ে যাবে।

শ্রীশ্রীঠাকুর সন্ধ্যাবেলায় চৌকোনা তাঁবুটায় এসে বিছানায় বসেছেন। অন্ধকার রাত, তারপর আবার আলো নেই, ঝিরঝির করে হাওয়া বইছে। শ্রীশ্রীঠাকুর জনার্দ্দনদা (মুখোপাধ্যায়), অখিলদা (গাঙ্গুলী) প্রমুখের সঙ্গে টুক-টাক কথাবার্ত্তা বলছেন। কথাগুলির রকম অত্যন্ত অন্তরঙ্গ। মানুষ যেমন ক’রে প্রিয়জনের সঙ্গে ঘরোয়া কথাবার্ত্তা বলে, সেইরকমভাবে কথাবার্ত্তা চলছে।

জনার্দনদা কথায়-কথায় জিজ্ঞাসা করলেন—মানুষের কাছ থেকে আপনি যা’ প্রত্যাশা করেন, তার সবখানিই কি পেয়েছেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর—আমি চাই-ই শালা কম, তাই যা’ পাই, তাই-ই মনে হয় আমার পক্ষে যথেষ্ট।

১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৬০, বুধবার (ইং ২৭/০৫/১৯৫৩)

শ্রীশ্রীঠাকুর সদলবলে পরে অশত্থতলায় এসে বসলেন।

তিনি নিজে থেকে বললেন—নিত্য ইষ্টভৃতি ক’রতে হয়, ওতে মানুষ concentric (সুকেন্দ্রিক) হয়। Concentric (সুকেন্দ্রিক) না হ’লে মানুষের will-power (ইচ্ছা-শক্তি) বাড়ে না। Will-power (ইচ্ছা-শক্তি) না বাড়লে activity (কৰ্ম্ম) বাড়ে না। ছেলেপেলেদের পিতৃভৃতি, মাতৃভৃতি ধরিয়ে দিতে হয়। বাবা দেখবে যাতে মাকে দেয়, মা দেখবে যাতে বাবাকে দেয়। কারও কাছ থেকে পেলে যে টান হয়, তা’ কিন্তু নয়। বরং যাকে দেওয়া যায়, তার উপর টান হয়।

২৯শে ভাদ্র, ১৩৬০, মঙ্গলবার (ইং ১৫/০৯/১৯৫৩)

……
কথাপ্রসঙ্গে ইষ্টভৃতির কথা উঠলো। শ্রীশ্রীঠাকুর এই সম্বন্ধে বললেন—সাধারণের মধ্যে এ ব্যাপারে একটা conception (ধারণা)-ই ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে চারিয়ে যাচ্ছে। এতে কেমনভাবে যে একটা unconscious adjustment (অচেতন সামঞ্জস্য) হয়, তা’ ঠাওর পাওয়া যায় না। কিন্তু হয়, তা’ নির্ঘাত।
…..