কর্ম্ম নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (৫১-১০০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “কর্ম্ম” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৯৩ – ১২২ পর্যন্ত মোট ১৫৩ টি বাণী রয়েছে ।
নিচে ৫১ – ১০০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

তোমায় যেটা বলা হ'ল
শুনলে নাকি, বুঝলে নাকি !
বুঝে-সুঝে ঠিক যদি হয়—
কাজে তৎপর হ'লে নাকি !
তৎপরতা বিদায় দিলে
কৃতিনিষ্ঠা থাকবে কি ?
এলোমেলো গোল পাকিয়ে
তৎপরতায় হবে মেকী । ৫১।
প্রয়োজন তোর যখনই হবে
মূর্ত্ত করিস্ তা' কাজে,
বাস্তবতায় হাজার করা
নইলে হবে সব বাজে । ৫২।
যখন যেটি করণীয়
ক'রে রেখ ঠিক মতন,
এমনতর সমাধানে
সার্থকতায় ভরবে জীবন ;
যেথায় যা'-যা' বলতে হবে
ভেবে ক'রো সমাধান,
বিশেষ স্থানে বিশেষ ভাবে
করণীয়ের ক'রো বিধান;
নিষ্ঠানিপুণ উচ্ছলাতে
সাত্বত তেজ রইবে যেমন,
সুসতর্ক সমীচীনে
করণীয় যা' করবি বরণ;
করণীয়কে করলে হেলা
ফেলবে ঠেলে তা' তখনি,
কৃতির নেশা ভেঙ্গেই যাবে
হেলা করবি তা' যখনি । ৫৩।
কল্যাণপ্রসূ যা'
করণীয়ই তা',
না করলেই হয় বিড়ম্বনা
ফলে ব্যর্থতা । ৫৪।
খুঁজে-পেতে সুঝে-সেধে
করণীয় যা'-যা' তোর,
অভ্যস্ততায় স্বতঃ করায়
কর্ না চলায় জীবনভোর । ৫৫।
কী বা তোমার করণীয়
না করলে কী হ'তে পারে,
সব সময়ে নজর রেখো
করণীয় যা' করতে তারে;
করবে না যা' সেই ফলটি
বেকুব বোধে থেকে তোমার,
নষ্ট করবে জীবন-গতি
নষ্ট করবে চলন তোমার;
করণীয় যা' সমাদরে
করবেই তা' নিষ্ঠাসহ,
ঐ নিষ্ঠাই শ্রেয়-নিষ্ঠায়
করবে তোমায় সব সুবহ । ৫৬।
দেখিস্ শুনিস্ বুঝিস্ করিস্ 
করবার কিছু থাকলে তোর,
নিষ্পাদনে ক্ষিপ্র হ'বি
আয়ত্ততায় র'বি ভোর । ৫৭।
দেখে-শুনে বুঝে-সুঝে 
আয়ত্ত ক'রে সমীচীন,
প্রয়োগরূপ তা'র জেনে নিয়ে
রাখিস্ তা'রে তোর অধীন । ৫৮।
দেখবি-শুনবি বুঝবি যা' সব
অনুকম্পী বোধটি নিয়ে,
বাস্তবে যা' করবি রে তুই
করিস্ ক্ষিপ্র হৃদয় দিয়ে । ৫৯।
ফন্দি আঁটার চিন্তা তোমার
সমাধানে নিখুঁত যত,
মন্দ এড়িয়ে সুপ্রতিষ্ঠা
কর্ম্মে তোমার ফুটবে তত । ৬০।
নিখুঁত করার নিষ্পাদনে
সার্থকতার উঠুক রোল,
দিগবলয়ের অটুট ধৃতি
কৰ্ম্মনিপুণ ক'রেই তোল । ৬১।
বুঝের ফেরে যা'ই আসুক না
করবি না তা' ঠিক না হ'লে,
বাস্তবতায় মিলবে যেটা
করলে তা'তে শুভ ফলে । ৬২।
যা'র কথাতে যেমন সাড়া
ভাববৃত্তি তোমাকে দেয়,
সেই তালিমই অন্তরে তোমার
কৃতি-সাড়ায় নিয়োজয় । ৬৩।
সত্তা-চৰ্য্যায় সঙ্গতি রেখে
বুঝে-সুঝে জ্ঞানালোকে,
কর্ত্তব্য ব'লে বুঝবি যেটা
করবি দক্ষ নিপুণ তুকে;
সত্তা-সঙ্গতি বজায় রেখে
করণীয় যা' করবি তা',
ঐ হিসাবটা বরবাদ হ'লে
ঠকবি কিন্তু করবি যা' । ৬৪।
সব জিনিসটা চিন্তা কর
বোধে আন বাস্তবে,
কেমন ক'রে কী করলে কোথায়
সাত্বত-চৰ্য্যায় সম্ভবে;
দূরদৃষ্টির ঝলক দিয়ে
সপর্য্যায়ে দেখে নিও,
করা যদি ভালই হয় তা'
বিহিতভাবে ক'রে যেও;
অকরণীয় দেখবে যেটা
শুধু-শুধুই করবে কেন — ?
এমনতর চিন্তা-চৰ্য্যায়
এগুবে দূরদৃষ্টি জেন' । ৬৫।
কৃতি-কৌশল না-জানলে কি
অনুশীলনে দক্ষ হয় ?
অনুশীলনের মাঝেই কিন্তু
কুশল-কৌশল লুকিয়ে রয় । ৬৬।
সাবধান হ'য়ে করবি সব
আপদ না হয় যা'তে,
আপদ্-বিপদ্ ব্যাঘাত হানে
কৃতার্থতার মাথে;
যা'-কিছু তুই করতে যাস্ না
সাবধানতা ডেকে রাখিস্,
সাবধানতায় সঙ্গী ক'রে
সুকৌশলে করিস্ সাধিস্,
সতর্কতা বজায় রেখে
দেখে-শুনে বুঝে চলিস্,
বেকুব চলার বেঘোর তালে
দেখিস্ যেন কভু না পড়িস্ । ৬৭।
যা' করিস্ তুই, সার্থকতায়
সব রকমে কুড়িয়ে আন,
সার্থকতার সম্পাদনে
নিষ্পাদনে রেখে টান । ৬৮।
কোথায় কেমন করবি কী তুই
বোধে সেটা এঁচে নিস্,
ধরিস্-করিস্ তেমনিভাবে—
সার্থকতায় উপচে দিস্ । ৬৯।
কর্ম্মগুণে অর্থ আসে
ভাল কিংবা মন্দই হোক,
ভালর পথে ভালই তো হয়
মন্দে বাড়ায় মন্দ ঝোঁক । ৭০।
লক্ষ্যেতে তুই সার্থক হ'লে
অর্থ-অভাব থাকবে না,
অর্থ ব্যর্থ না হ'লে তোর
সার্থকতা টলবে না । ৭১।
ধরবি যেটা করবি সেটা
আপূরণী উদ্যমে,
নিষ্পাদন তো করাই শ্রেয়
আগ্রহেরই মাধ্যমে । ৭২।
যে-সময়েই ধরিস্ যে-কাজ
করবি ত্বরিত নিষ্পাদন,
যেন জোগান দিতে পারিস্
যখন সেটার প্রয়োজন । ৭৩।
নিষ্পন্নতায় তৃপ্তি আসে 
চিত্ত ফোটে উচ্ছলায়,
কৃতির সাহস ক্রমেই বাড়ে
স্থৈর্য্যশীল হয় মননায় । ৭৪।
যে কাজটি ধরবি যখন
করবি তেমনি উদযাপন,
উদযাপনের আত্মপ্রসাদ
নিয়ে সব কর্ পর্য্যালোচন । ৭৫।
ধর, ধর, ধর,
কর, কর, কর,
ধরবে যেটা
করবেই সেটা,
ব্যর্থতা না হয় দড় । ৭৬।
করবে যেমন
হবেও তেমন;
যে যেমন বয়
সে তেমন পায় । ৭৭।
করলেই তবে হয় কিন্তু
করাটাই তো হওয়া বাড়ায়,
হওয়াটারই বিনায়নে
ধৃতিটা তো স্বতঃই চারায় । ৭৮।
সত্তাভিষিক্ত নিষ্ঠা-শ্রদ্ধা
রাগচর্য্যী সন্ধিৎসা নিয়ে,
করবে যেমন বাড়বে তেমন
নিদেশ পেলে' হৃদয় দিয়ে । ৭৯।
বাড়ী-পরিবেশ-অফিস্-চৰ্য্যা
তোমার ভাগে চাপবে যেটা,
নিষ্পাদনে ক্ষিপ্র রাখিস্
দক্ষ ক'রে সে-অভ্যেসটা । ৮০।
যে সময়ে ধরলি যে-কাজ
করলি যখন নিষ্পাদন,
এর মাঝেতে যেটুকু সময়
দক্ষতার তা'ই পরিমাপণ;
কাজ-ধরা আর নিষ্পাদনের
মাঝখানেতে যেটুকু ফাঁক,
দক্ষ তুমি তেমনতর
তেমনতরই কৃতিরাগ । ৮১।
সৎসন্দীপী যে-কাজই হোক
যা'তে তুমি রও প্রবৃত্ত,
তা'র সমাধান না ক'রে তুই
হোসনে কভু তা'য় নিবৃত্ত। ৮২।
যখন যেটা করা উচিত
ঠিক জানিস্ তা' করাই ভাল,
নইলে করণ ফসকে গিয়ে
ধরণটাও তোর হবে কালো । ৮৩।
যখন যেটা করা উচিত
তখনই সেটা ক'রে দ্যাখ,
সমাধানটি কেমন আসে
বাড়ে কেমন কাজের 'ন্যাক্' । ৮৪।
সময়মত বাস্তবায়ন
করতে যদি নাই পারিস্,
সময়কে কেউ রুখতে পারে?
তাই বুঝে তুই চলিস্-ফিরিস্ । ৮৫।
সমীচীনভাবে কাজের ফাঁকে
অন্য কাজ যদি ধ'রেই থাকিস্,
ভালই তো তা'—সুসমাধান
সবারই যা'য় করতে পারিস্ । ৮৬ ।
ঈক্ষণাটা দক্ষ ক'রে
আয় তো নেমে কাজে,
যেমন করায় যা'-যা' লাগে
লাগ্ ফেলে যা' বাজে । ৮৭।
বলা-করার যোগাযোগ
যেমনই হয় মিষ্টি,
ভাগ্যদেবীও তেমনতর
করেন পুণ্য দৃষ্টি । ৮৮।
না ক'রেই যা'রা পাওয়ার লোভে
হ'য়ে থাকে মুহ্যমান,
ভাগ্যদেবী তা'দের হ'তে
ক'রেই থাকে প্রস্থান । ৮৯।
করা-চলা যেমনতর
ফলও হবে তেমনি,
বিধির বিধান বিধায়িত
হ'য়েই আছে সেমনি । ৯০।
যেমনতর কর্ম্মপটু
সিদ্ধ হবে তা'তেই,
কর্মানুগ ফলটি জেনো
সবখানেতে খাটেই । ৯১।
করবে যেমন, চলবে যেমন—
পাবেও তেমনি ঠিক মেনো;
দুষ্টকৃতি ধৃতিহারা
সুকৃতি সৎ-দীপ্ত জেনো । ৯২।
যেমনতর কর্ম্ম তোমার
ফলও পাবে তেমনি,
কৃতিচর্য্যী স্মৃতিলেখায়
পটুত্ব যা'র যেমনি । ৯৩।
অপকর্ম্মের বেদনা যখন
ব্যথা নিয়ে আসে,
'ঠিক ক'রেছি'—ব'লে তখন
ঢাকা দিতে হাসে । ৯৪।
যখন 'যেদিন করবি যা' তুই
ঠিক সময়ে ক'রে রাখিস্,
(এই) ক'রে রাখায় কত আরাম
কাজের সময় মিলিয়ে দেখিস্ । ৯৫।
কী-সময়ে কী বা ক্ষণে
আবহাওয়ার কী-অবস্থায়,
তোমার পক্ষে কী-কাজ শ্রেয়
বুঝে-সুঝে করবি তা'য়। ৯৬।
শরীর-মনের স্বস্তি রেখে
কৃতি নিয়ে চলতে থাক্,
কৃতির পথে বেঘোর হ'য়ে
শুনিস্ নে কো দুষ্ট ডাক । ৯৭।
শরীর জাগে মনও জাগে
বোধ জাগে তোর যেমন কাজে,
রইতে সজাগ তা'ই ভাল তোর,
এ যা'তে নয় তাই তো বাজে । ৯৮ ।
কাজের মূলধন ঠিক জানিস্ তুই
আগ্রহ আর তীক্ষ্ণ আবেগ,
যা' থাকলে তোর বাড়বে শক্তি
সমাধানে হ'বি সবেগ;
কর্ম্ম করার তুকই যে রে
আগ্রহ-আবেগ বাড়িয়ে নেওয়া,
ভাববৃত্তির অনুরঞ্জনায়
কাজে তাহার মূর্ত্তি দেওয়া;
বোধ-উপায়ে মিতালী হ'য়ে
সরঞ্জামে যতই জোটে,
কৰ্ম্ম-আবেগ, পরিণয়ন
তেমনতরই কাজে ফোটে । ৯৯।
ফলের লোভে যদি কর
চাচ্ছ কী-ফল সেইটি ভাব',
নিখুঁত চলায় ক'রে-চ'লে
দীপ্ত কৃতিত্ সেইটি লভ; [কৃতিত্ = কৃতিতে]
চাচ্ছ যেটা তা'রই পিছে
শক্ত হ'য়ে লেগে যাও,
লাগার নেশায় করার টানে
উৎসর্জ্জনায় সেইটি পাও;
চাওয়াই যদি থাকে কিছু
করতে হবে তা'র মতন,
লাগে যেথায় যেমনতর
জোগাড় দিয়ে ক'রে যতন;
'চাই-চাই'—বুলি চেঁচিয়ে শুধু
পাওয়ায় আশা যদি করিস্,
এমন কিছু করতে হবে—
ক'রে সেটা পেতে পারিস্;
চাহিদাটি বাজিয়ে নিয়ে
ধরতে হবে করার তালে,
নিষ্পাদনে নিষ্পন্ন ক'রে
যেমন করা তেমনি ফলে । ১০০।