জনন-নীতি নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “জনন-নীতি” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১০৭-১১৩ পর্যন্ত মোট ৩৫ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

কৃষ্টিজাত সংস্কারের জৈবী সংগঠন
সৃষ্টি করে রজোবীজের ধরন-ধারণ,
বিসদৃশ সম্মিলনে অসমত্বে ধায়
সমত্বকে হারিয়ে ফেলে বিকৃতিতে পায় । ১।
মৃত্যুকালে যে-ভাব ধ'রে
ছেড়ে শরীর যায় জীবন,
জন্মে আবার তেমনি স্থানে
ওই ভাবের পথ পায় যখন । ২।
অতিদৈহিক সত্তা জানিস্ 
কাম-কামনার ভরে
ঘন হ'য়ে শুক্রাণুতে
বীজ-শরীরটি ধরে,
শুক্রাণুটি সঙ্গত তা'র
ডিম্বকোষে মেশে,
কোষ-বিভাগে বেড়ে ওঠে
বৈশিষ্ট্যতে ভেসে। ৩।
এক নিষেকে রেত-শরীরী
অযুত জীবন ধায়,
ডিম্বকোষটি যেমন ধরে
তেমনি শরীর পায়;
জীবাণুটি লিঙ্গ-শরীর
কামের পথে বীজেই স্থির,
ভাবসঙ্গত ডিম্বকোষে
গিয়েই দেহাধারে,
স্ত্রীদেহেতে তা'র ফলেতে
ক্রমবিকাশে বাড়ে। ৪।
রজ-বীজে যা'-কিছু সব
হ'লো রকমফের,
রং-বেরং এ ঢং-বেঢং এ
হরেক রকম জের। ৫।
নারী হ'তেই জন্মে জাতি
থাকলে জাত তবেই জাতি;
স্বামীতে যা'র যেমনি রতি
সন্তানও পায় তেমনি মতি । ৬।
নারী হ'তে জন্মে জাতি
বৃদ্ধি লভে সমষ্টিতে,
নারী আনে বৃদ্ধি-ধারা
নারী হ'তেই বাঁচাবাড়া,
পুরুষেতে টানটি যেমন
মূর্ত্তি পায় তা' সন্ততিতে । ৭।
সদ্বংশজ নিম্নঘরের
শ্রেষ্ঠ মেয়ের সেবানতি,
টানবুভুক্ষায় চিন্তা-কর্ম্মে
আনলে স্বামীর উপরতি,
ডিম্বরেতে অচিনদাগে
সঙ্গতি হয় অনুরাগে,
দীপ্ত ঝাঁঝাঁল তরতরে হয়
দ্বীপন-স্বভাব সে-সন্ততি। ৮।
কাম কামিনীর অনুরাগে
ডিম্বরেতের হয় মিলন,
ঐ টানেতেই জন্ম জীবের
বাঁচে চলে তা'র জীবন । ৯।
চিন্তায় কর্ম্মে সুসঙ্গতি
উঠলে ফুটে টানে,
জাতকেও পায় তাহাই
সুভাব ফোটে প্রাণে । ১০।
চিন্তা-কর্ম্মে টানের চাপ
ডিম্বরেতেও তা'রই ছাপ। ১১।
বীজদেহেতে অচিন্ দাগ
আকাশ-পাতাল জনন ফাঁক । ১২।
চিন্তা-কর্ম্ম-সংস্কারেতে
দাগ উপজয় ডিম্বরেতে,
তেমনতরই ধরে শরীর
মেয়ের কোঁখে পুত,
জীবন-চলনা ঠিক রাখিস্ তুই
পেতে সুষ্ঠু সুত। ১৩।
ঘুমিয়ে থাকা পবিত্রতা
অন্তরেরই কোলে,
পুত্ররূপে জন্ম নিয়ে
ওঠে প্রাণন-দোলে । ১৪।
বৈধানিক যে ব্যবস্থিতি
সংস্কৃতিরই পথে,
নিহিত রয় সংস্কারেতে
গুণ ফোটে সেই মতে । ১৫।
বৈধানিক যা' ব্যবস্থিতি
গুণও ফোটে তেমনিতর,
বীজ-শরীরেও তেমনিভাবেই
সংস্থিতি পায় তেমনি দড়। ১৬।
মানুষ কেমন তাই নয় শুধু
তা'রই পরিমাপ,
জন্মে কেমন সুষ্ঠু তাতেই—
কেমন ছেলের বাপ। ১৭।
সত্তাজড়িত সিদ্ধি যেথা
চিন্তা-চলন সমস্রোতা,
জননেতেও অর্শে সে-গুণ
হয়তো তীক্ষ্ণ, নয়তো ভোঁতা । ১৮।
অনুরাগী আবেগ-টানে
পেতে গিয়ে স্বামীর প্রীতি,
পাওয়ার পথের বাধার তোড়ে
ঘটলে মনের কু-বিকৃতি,
যেমনভাবে যে-অঙ্গেতে
নারীর যেমন বিকার ফলে,
সন্তানেরও সে-অঙ্গটি
বিকৃতি পায় তেমনি হ'লে । ১৯।
স্বামীর প্রতি যেমনি টান
ছেলেও জীবন তেমনি পান । ২০।
অভ্যাস-ব্যবহার যেমনতর
সন্তানও পাবি তেমনতর। ২১।
যে ভাবেতে স্বামীকে স্ত্রী
করবে উদ্দীপিত,
সেই রকমই ছেলে পাবে
তেমনি সঞ্জীবিত। ২২।
শ্বশুর-শাশুড়ী দেওর-ননদ
জা-জাওয়ালী নিয়ে
পারিপার্শ্বিক মানুষ-গরু
সব সকলই দিয়ে,
অভ্যাস-ব্যবহার যেমন নারীর
এদের প্রতি প্রীতি,
তেমন রং-এ হবেই রঙ্গিল
সন্তান-প্রকৃতি । ২৩।
উচ্চ নারীর নিম্নে টান—
ডিম্বরেতে ছাপটি ম্লান;
অনুরাগের অসঙ্গতি—
নিম্ন রতির কুসন্ততি । ২৪।
রতিকালে উদ্দীপনী 
শুভ সম্বেগ-প্লাবন ছাড়া,
নারীর মনের বিপাক যেমন
সন্তানও হয় তেমনি ধারা। ২৫।
কামার্ত্তীদের প্রলোভনে 
মশগুল হ'য়ে মত্ততায়,
পিতৃপুরুষ সজাত জাত
ক্ষুইয়ে ফেলে অবহেলায়,
সর্ব্বনাশে গা ঢেলে দেয়
বংশ নিপাত করে,
এ-সব হ'তে বাঁচতে নারী
সজাগ থাকিস্ ওরে। ১৬।
প্রবৃত্তি সব নিজেই স্বাধীন
বাধ্যবাধক নয়কো যা'র,
স্বৈরিণী তো সেই নারী হয়
মূর্ত প্রতীক ধৃষ্টতার । ২৭।
প্রবৃত্তি সব বাধ্য স্ব-এর
শ্রেয়নিষ্ঠ মন-প্রাণ,
একমুখতায় উদাম চলে
সাধ্বী স্বাধীন লোকত্রাণ । ২৮।
সব প্রবৃত্তির সমাহারে
উদাম হ'য়ে শ্রেয়-সেবায়,
অচ্যুতিতে সাধ্বী যা'রা
বাধ্য প্রাণে ধায়ই ধায় । ২৯।
দ্বৈধী সেবায় মেয়েদের ধী
দ্বিধায় ফাটল ধরে,
প্রজননেও তাই নিয়ে সে
গর্ভেতে বীজ বরে। ৩০।
বাপ হ'তে পায় ধী-প্রকৃতি
মায়ে জোগায় ধাত,
বিসদৃশ মিলন হ'লে
জন্মে কুপোকাৎ। ৩১।
দ্বৈধী সেবাই ফাটল ধরায়
মেয়ের কোমল ধীয়ে,
বহু আচারে কী যে হবে
রুখবি কী দিয়ে? ৩২।
পুরুষ নষ্টে যায় না রে জাত
মেয়ে নষ্টে জাত কুপোকাৎ। ৩৩।
হীনত্বতে জন্ম যা'র
মিত্রদ্রোহী ভাব তা'র । ৩৪।
স্ত্রীর বিরাগ কমাতে গিয়ে
কামাসক্ত হবে না,
শিশু হলে খিন্ন হবে
তুমিও ভাল থাকবে না । ৩৫।