দারিদ্র নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “দারিদ্র্য” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১৩৩ – ১৩৫ পর্যন্ত মোট ১৮ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

আলস্য আর অবিশ্বাস 
আত্মশ্লাঘা কৃতঘ্নতা,
দারিদ্র্যকে খুঁজছো কোথায়?
এদের কাছে দরিদ্রতা। ১।
পাওয়ার কাজে নাইকো নেশা
অভাববোধে হা-হুতাশ,
দৈন্য-কথা কয় কেবলই
দুর্দ্দশাতেই তা'র নিকাশ। ২।
আগম নাইকো ঘরে—
খরচের বহর বাড়ালি কেবল
মরবি না কি ক'রে ? ৩।
দরিদ্রতার শ্রেষ্ঠ বর
নেওয়ায় গরজ, দেওয়ায় ডর। 8।
উপায় ক'রে দেয় না, খায়—
পাওয়া যায়, থোওয়াও যায় । ৫।
পয়সার দিকে ঝোঁকটি গেলে
কাজের নেশা ছুটবে,
কাজের নেশা টুটলে জানিস
দরিদ্রতা জুটবে। ৬।
কোন কিছু করতে যেতেই
মনের মাঝে যা'র
দিন-গুজরান পেটের চিন্তা
করেই অধিকার,
বেকুব ধান্দায় নিঝুম ক'রে
ঝোঁকটি খেয়ে ফেলে,
দারিদ্র্য-ব্যাধি নিছক সেথা
আছেই চক্ষু মেলে।৭।
খেতে চায় যে পরের উপর
সেবার ধান্দা নাই,
ক্ষুধাই তা'কে ফেলবে খেয়ে
এড়াতে বালাই। ৮।
দারিদ্র্য-ব্যাধি ধরে যত
করার দফা নিকেশ তত । ৯।
পিছন দিকে সম্বেগ যা'র
করতে যেতেই ধায়,
লক্ষণ সেই দারিদ্র্য-ব্যাধির
দারিদ্র্যে তা'য় পায়। ১০।
ধীটি যখন কুয়াশাভরা
বুঝলেও কাজে ফুটল না,
না ক'রে পাওয়ার বুদ্ধি শুধুই
বেকারের ওই লক্ষণা। ১১।
অভাব যখন মারবে ছোঁ 
যা' জোটে দিস্ পাবিই জো। ১২।
পালকের স্বার্থ দেখিস্ আগে  
নিজের স্বার্থ পরে,
এমন স্বভাব থাকলে বজায়
র'বেই অন্ন ঘরে। ১৩।
সঙ্গতিহীন কর্জ্জে দান
আহাম্মকী অভিমান । ১৪।
কেমন ক'রে কী করলে বা
কী হবে পাওয়ার,
বুঝে করিস্ নইলে বেকুব
ঘুচবে কি বেকার? ১৫।
তোর থাকেই যদি ঘরে—
সাধ্যমত ফিরাস্ নাকো
চাইলে তোরে ধ'রে। ১৬।
খেয়েই যদি বাঁচতে চাও
তবে আহরণ কর,
অভাব পূরে' পরিস্থিতির
নিজের পূরণ ধর। ১৭।
নিজে ইষ্টে অটুট থেকে
সবায় করিস্ তুষ্ট,
অভাবেতে আগলে ধ'রে
পারলে করিস্ পুষ্ট;
এই নিয়মে চলিস্ যদি
ক্রমেই দেখতে পাবি তুই,
দারিদ্র্য তোর হাঁটু গেড়ে
মাথা নুয়ে ছুঁচ্ছে ভুঁই। ১৮।