ধর্ম্ম নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (১-৫০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “ধর্ম্ম” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১১ – ৩৮ পর্যন্ত মোট ১৫৪ টি বাণী রয়েছে । নিচে ১- ৫০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

ধর্ম বলে কা'রে ?
চলা-বলা-করা দিয়ে
জীবনটা যা'য় বাড়ে । ১।
সত্তা-সহ জীবনটাকে
ধ'রে রাখে যা'তে,
ধৰ্ম্ম-কর্ম্ম তা'কেই বলে
জীবনও বয় তা'তে । ২।
সত্তা যা'তে ভাল থাকে
জীবনীয় যা' সত্তার—
তা'ই-ই যে তা'র ধর্ম্মাচরণ
জীবনসত্তা তা'ই-ই তা'র । ৩।
ধৃতিমুখর চলন নিয়ে
        কৃতী হওয়াই ধৰ্ম্ম করা,
স্বার্থলোলুপ অলসতা 
       নয়কো কিন্তু ধৰ্ম্ম-ধরা । ৪।
ধর্ম্মাচরণ, ধৃতিপোষণ 
সব-জীবনের শুভ আলো,
বুড়োকালে ধৰ্ম্ম করা
যদিও খাঁকতি, তা'ও ভালো । ৫।
ধর্ম্ম মানে আর-কিছু নয়
     যোগ্যভাবে বাঁচা-বাড়া,
নিজের সহ পরিবেশের
        ধৃতি-চর্য্যার এইতো ধারা । ৬ ।
ধারণ-পালন-পোষণ-চৰ্য্যায় 
সত্তাটিকে পেলে চল্,
ঐটিই তো ধৰ্ম্ম-কর্ম্ম
ঐটিকেই ধর্ম্ম বল্ । ৭।
ধর্ম্মকথা আগে শোন
বুঝে-সুঝে বেশ ক'রে,
হাতে-কলমে করতে থাক
বিহিতভাবে বোধ ধ'রে । ৮।
সৎ-আচার্য্যে নিষ্ঠা রেখো 
আচারসিদ্ধ যিনি হন,
শুভ-সুন্দর নিষ্পাদনে
চল, পাবে উৎসারণ । ৯।
সৎ-আচার্য্যে যুক্ত হ'য়ে 
দীক্ষার দক্ষ অনুশীলন,
যোগ্য হওয়ার এইতো সুপথ
এতেই যুক্ত, ধৃতিপ্রবণ । ১০ ।
বাঁচতে যদি চাও—
        সব-চলনই বাঁচার পথে 
                  চালিয়ে নিয়ে যাও, 
পারবে যেমন হবেও তেমন 
       ভোগও হবে তেমনি,
করা-চলা-ভাবার সাথে 
        যুক্ত তুমি যেমনি । ১১ ।
সত্তারই পূজারী যে-জন 
সাত্বত যা'র মন্ত্রণা,
বাড়বি যেমন তাঁ'য় অর্ঘ্য দিবি
ক'রবি যেমন বন্দনা। ১২।
চ'লবে
        ক'রবে
                   দেবেও যেমন 
                         ইষ্ট-দেবতায়,
হবে,
       পাবে,
                   থাকবেও তেমন
                         প্রসাদ-প্রেরণায়। ১৩ ।
পূজা মানে তা'ই-ই—
শরীর-মনের সম্বর্দ্ধনায়
বাড়িয়ে তোলা চাই-ই । ১৪।
ধৃতিই যদি রইল না, 
সত্তা যে তোর রইল প'ড়ে
জীবন তোরে বইল না। ১৫।
শ্রদ্ধা-আকুল নয়ন-মন তোর 
             সেবা-আকুল হাত, 
সৎ-এর সঙ্গ এ নিয়ে কর্ 
             হ'য়ে প্রণিপাত। ১৬ ।
অনুরাগী অনুচর্য্যা
ভজন বলে তা'য়,
ভজন যেমন ভাগ্যও তেমন
ঠিকই জানিস্ পায়। ১৭।
পূজা-আর্চ্চা মানেই কিন্তু 
দৈবগুণ যা' সেধে নেওয়া,
হাতে-কলমে অভ্যাস ক'রে
ব্যক্তিত্বে তা'র রূপটি দেওয়া । ১৮।
খাওয়া-দাওয়া, বাজী-পোড়ান
অঢেল ঢালা আয়োজনে,
পূজা সার্থক হয় না—বিনা
দিব্যগুণের সংসাধনে । ১৯।
থাক্ না রূপ তোর যেমন-তেমন
গুণ-পূজার তুই সাধন কর,
দেবগুণে অন্বিত হ'য়ে
শ্রেয়চর্য্যায় জীবন ধর্ । ২০।
গুণ ধীইয়ে গুণীকে ধর্
সেবা-চর্য্যায় নিয়ত র',
পরিচর্য্যী প্রগতিতে
দীপ্তি তা'রই অঢেল ব' । ২১।
মকস ক'রে গুণীর গুণ
হৃদয়টাকে তৃপ্ত কর্,
তৃপ্তি নিয়ে দীপক গুণে
সবারই প্রাণ উজিয়ে ধর্ । ২২।
বোধ-বিবেকী সন্ধিৎসাতে
নিষ্ঠা-দীপন আকুল-রাগে,
অনুশীলনী চাতুর্য্যেতে
গুণ সেধে সে জীবন-যাগে । ২৩।
ফন্দী-ফিকির যা'ই করিস্ না
গুণ-সাধনায় নিয়োগ কর,
গুণের গুণী হ'তে হ'তে
ভরদুনিয়া তুলে ধর । ২৪।
অঙ্গরাগের বিভব যদি
হৃদ্‌-বিভবে দেয় সাড়া,
পূজা-আচার-অনুরাগের
সেইতো শুভ প্রাণনধারা । ২৫।
ইষ্টমূর্ত্তি শিষ্ট কিন্তু
জীবন-যাগের উচ্ছলায়,
সে-নিষ্ঠাতেই দীপ্ত হৃদয়
সার্থক সাধন মানুষ পায় । ২৬ ।
পূজার মরকোচ অনুশীলনে
অধিকৃতি আসে তা'তেই,
নয়তো পূজা বিফলই হয়
নষ্ট পায় সে বিফলেতেই । ২৭।
ধৰ্ম্ম জানিস্ কৃতির বর্ম্ম 
কৃতার্থতাই ঐশ্বর্য্য তা'র,
নষ্ট কৃতি ধৰ্ম্মহারা
গঞ্জনাই তা'র উপহার । ২৮ ।
ধর্মনীতি ধৃতির নীতি 
ক'রলে তা'রে উপহাস,
সত্তা যে তোর ধ্বসবে ক্রমেই
নিজের গলায় পড়বে ফাঁস । ২৯ ।
দীক্ষা যদি শিক্ষাকে তোর
অনুশীলন-উছল ক'রল না,
সেই দীক্ষা তোর ক'রবে কী বা
পাবি উপহাস-লাঞ্ছনা । ৩০।
ঘুরলে-ফিরলে নাকাল হ'লে
দেখলে জীবন-কোলাহল,
সত্তায় ভালবাসই যদি
এখনও তা'কে কর্ উছল । ৩১।
সব-জীবনের সত্তা রাজা
সত্তাচর্য্যাই রাজপূজা,
সত্তা যা'তে উথলে ওঠে
তা'ই-ই তোদের স্বার্থ-ধ্বজা । ৩২।
কৃষ্টি-সাধার প্রারম্ভেতেই
      গুরুকরণ ক'রতে হয়,
গুরুচৰ্য্যী অনুশীলনে 
      হয়ই সার্থক জ্ঞানোদয় । ৩৩ ।
ইষ্টে করিস্ জীবন-দাঁড়া
সৎ-চলনটি ক'রে সার,
লোকের সেবায় বর্দ্ধনা আন্
জীবন-শুদ্ধি ক'রে অপার । ৩৪।
বিভুর দেওয়া তোর জীবনটা
বুঝে ক'রে বিভোর হ',
মনে ভেবে কাজে ক'রে
সিদ্ধ-বিভোর বিভুকে ব' । ৩৫ ।
জ্বলন্ত দীপ ঐ অদূরে
আঁধারে প'ড়ে মরবি কেন,
এগিয়ে যা', দেখে-বুঝে
সমাধান তা'র ক'রেই জেনো । ৩৬।
সদগুরু-ত্যাগ মহাপাপের—
শাস্ত্রবাণী তা'তেই কয়,
সর্ব্বনাশা ঐটে যে রে
গেয়ে বেড়ায় কালের জয় । ৩৭।
ধৃতিচর্য্যার নিদেশগুলি
ইষ্ট ভ'জে নিও জেনে,
যেখানে যেমন সেটা খাটে
চর্য্যা ক'রো সেইটি মেনে । ৩৮।
জীবন-রথে চলার পথে
শিষ্ট ধৃতি-বিনায়নে,
চল্ ওরে তুই দীপন-বেগে
উৎসমুখে উন্নয়নে । ৩৯।
ধৃতিনিষ্ঠায় যা'রাই চলে—
শক্ত-পোক্ত সদাচার,
শিষ্ট জীবন-তপা যা'রা—
পায় জীবনের সুপ্রসার । ৪০।
বুকের আবেগ উথলে ওঠে
বাস্তব-বিজ্ঞ বিনায়নে,
তখনই তোর সরস-পুজায়
পায় প্রেরণা জগৎ-জনে । ৪১।
যজ্ঞ মানেই দেবপুজা
পূজায় আত্ম-উৎসারণ,
লোকসঙ্গমে চর্য্যা-দানে
দেবদ্যুতির সঞ্চারণ । ৪২।
জীবনচর্য্যী হ' না ওরে !
সাবুদ নেশায় জ্ঞানকে ব',
আচার-আচরণে নিখুঁত হ'য়ে
প্রেষ্ঠনিষ্ঠায় অটুট র'। ৪৩ ।
আচার্য্যকে অটুট শ্রদ্ধায়
স'য়ে-ব'য়ে চল্ দেখি,
নিদেশ তাঁহার পালন ক'রে
বোধ-বিবেকে দে রাখি' । ৪৪।
সব কথা যাক্—
সাম্যতালে বাঁচা-বাড়া
এই-ই কিন্তু চাহিদা সবার,
কী আছে আর এটুক ছাড়া ? ৪৫ ।
তাই বলি রে, কোল ছেড়ে মা'র
শিখলি যখন হাঁটতে-চলতে,
আচরণে ধৃতি-সাধন
আসুক বোধে চলতে-ফিরতে । ৪৬ ।
একটু-একটু বৃতি-চলায়
একটু-একটু বলা-কওয়ায়,
অভ্যাসেতে আসুক সে-জ্ঞান
উন্নতিরই জীবন-হাওয়ায়। ৪৭।
অস্তিত্বটাকে রাখবে যেমন
চালাবে তুমি যেই দিকে,
অভ্যাসটাও ফুটবে তেমন
নিয়ে তোমার বিধানটিকে । ৪৮।
জীবন নিয়েই সব ব্যাপার তো 
বাঁচা-বাড়াই তা'র আসল,
ধৃতিপালী, ঈশ্বর যিনি,
ধৃতি সাধাই তাই কুশল । ৪৯।
সব যা'-কিছুর অধিপতি—
ধারণ-পালন স্বভাব যাঁ'র,
একনিষ্ঠ সেই তপে হও,
অমৃত তো সেই তোমার । ৫০।