ধর্ম্ম নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (৫১-১০০)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “ধর্ম্ম” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১১ – ৩৮ পর্যন্ত মোট ১৫৪ টি বাণী রয়েছে । নিচে ৫১- ১০০ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

ধৃতি যা'তে করে নিকেশ
আনে সবার সেই সাবাড়,
ধৃতি নিয়েই আনাগোণা
ধৃতি-পোষাই সব ব্যাপার । ৫১।
জীবন-পথে চল্ সিধে তুই
তোকে নিয়ে আর সবারে,
পুরুষোত্তমে লক্ষ্য রেখে
আপূরণী জোয়ার ধ'রে । ৫২।
সব জীবনে সেইটি প্রধান
প্রধানকে যা' ধ'রে থাকে,
ঐ নিশানায় প্রধান বাছিস্
দেখে-শুনে তুকে-তাকে । ৫৩।
জীবনটা তোর নয়কো বাতুল 
নয়কো বেকুব মিথ্যাভরা,
বিধির বিধান চল্ রে মেনে
হবেই জীবন তৃপ্তিভরা । ৫৪।
ঊর্জ্জী-দীপা নিষ্ঠা নিয়ে 
চল্ এখনো ওরে,
সন্ধিৎসাকে সতেজ রেখে
ইষ্টসেবা ধ'রে । ৫৫।
সবার গোড়ায় ইষ্টনিষ্ঠা—
ইষ্ট-সেবায় তৎপর,
রেহাই চায় না একটুও যে—
সেই জীবনে ধৃতি ধর্ । ৫৬।
সুধৃতিকে নিয়ে কর্ 
জীবনচর্য্যার বন্দনা,
এইতো সুধা জীবনের
অমৃতে হয় রঞ্জনা । ৫৭।
অবিদ্যা অসৎ যা' তা'য়
জেনে সমীচীন,
সৎ-চলনে ধৃতি-যোগে
ওঠ্ হ'য়ে প্রবীণ । ৫৮।
ইষ্টের কাছে নিও না কিছু 
দিও তাঁ'রে যত পার,
নেওয়ায় বাড়ে স্বার্থবুদ্ধি
দেওয়ায় প্রীতি হয়ই গাঢ় । ৫৯।
দেবদেবী তোর লাখ থাকুক না
ইষ্টে ক'রে সংহতি,
একাগ্রেতে প্রসাদ-মনে
স্বস্তি পাবি, কর্ স্তুতি । ৬০ ।
দেবদেবী তোর থাক্ না যতই
ইষ্টে যদি এক না হ'ল,
কী ফল তা'তে হবে রে তোর
সবই যে তোর ব্যর্থ গেল । ৬১।
সৎ-আচার্য্যে আনতি রাখ্
নিষ্ঠা-অটুট নন্দনায়,
নিদেশবাহী সেবা-অটুট
হ'য়ে চল্ তাঁ'রই তর্পণায় । ৬২।
দেবদেবী তোর যতই থাক্ না
ইষ্টে ক'রে একায়িত,
সার্থকতায় উঠে দাঁড়া
নইলে হ'বি ব্যর্থায়িত । ৬৩।
মহান্ যা'রা শ্রেয় যা'রা
দেবদেবী আর পূত যা'রা—
সবার প্রতি শ্রদ্ধা রাখিস্
ঠিক্ রেখে তোর ইষ্টদাঁড়া । ৬৪।
সব-প্রবৃত্তির বাতুল চলা
হ'য়ে উঠুক সব নিথর,
ধারণ-পালন-উৎস নিয়ে
হেসে উঠুন তোর ঈশ্বর । ৬৫।
ধারণ-পালন বুদ্ধি নিয়ে
ধৃতির পথে এগিয়ে চল,
ঈশ্বরেরই আধিপত্যে
বাড়িয়ে দেবে বুকের বল । ৬৬।
স্তব-স্তুতি কীর্ত্তনাদি
যা'ই করিস্ না ঠিক বুঝিস্,—
আচার-বিচার-অনুশীলনে
আয়ত্ত তা' করিসই করিস্ । ৬৭।
বাঁচা-বাড়ার সন্দীপনা
সত্তা মাঝে লুকিয়ে রয়,
ভাল থাকা, ভাল পাওয়া
এটা কিন্তু সবাই চায় । ৬৮।
বেঁচে-থাকা বেড়ে-চলা
যে-বিধিতে সমাধান,
ধৰ্ম্মবিধি সেইতো বিধি
সৃষ্টি তা'তেই চলৎপ্রাণ । ৬৯।
বেঁচে থাকা, বেড়ে চলার
যা'তেই আসে সমাধান,
প্রাজ্ঞবোধের দৃষ্টি দিয়ে
তা' নিয়ে চল্ সটান টান । ৭০।
শাস্তি দিবি, তৃপ্তি দিবি
দীপ্তি দিবি সবার প্রাণে,
নিষ্ঠাবিপুল চৰ্য্যা দিবি
কানায়-কানায় আকুল টানে । ৭১।
প্রাণন-বেগের উচ্ছলতায়
সবাই তোরা বেঁচে থাক্,
সত্তা-হিংসক হোস্ নাকো কেউ
ঈশ্বরেতে নিষ্ঠা রাখ্ । ৭২।
তোমার সহ অন্যের যদি
কল্যাণ-অর্ঘ্য অনৃত হয়,
আপদ্-বিপদ্‌ সবটা যদি
ঐ অনৃত করে জয়,
হ'লেও সেটা অনৃতপন্থী
অনৃত কিন্তু নয়কো কাজে,
সে-অনৃতকে বিদায় দেওয়া
সেই বেলাতে সেটাও বাজে । ৭৩ ।
যে বাদের তুই হোস্ না বাদী
জীবনবাদী আসলে তুই,
জীবনটাকে করতে কায়েম
চল্ চ'ষে সব জীবন-ভূঁই । ৭৪।
সত্তাবাদই সেরা বাদ
উৎস যাহার ঈশ্বরে,
ধারণ-পালন সম্বেগ যাহার
চেতন রাখে নশ্বরে । ৭৫।
ঈশ্বরে তুই নাই বা মানিস্
অস্তিত্বকে বুঝিস্ তো ?
পালন-পোষণ অস্তিত্বে করা
ধৰ্ম্ম বলে তা'কেই তো । ৭৬ ।
সত্ব-বাদই বাদের সেরা
শঙ্খধ্বনিত্ কর্ নিনাদ,
সত্তাটুকু বাদ দিলে আর
নাইকো বিশ্বে কোন বাদ । ৭৭।
তাই বলি রে ওরে পাগল !
সত্তাসাম্য রেখে ঠিক,
পারস্পরিক অনুকম্পায়
চলতে থাকিস্, নয়তো ধিক্ । ৭৮।
শরীর-মনে ক্রিয়া-কলাপে
সত্তাপোষী যা',
সেইটি জানিস্ আসল বিধি
অন্য কিছু না । ৭৯।
সুষ্ঠু হ'য়ে বাস্তবে তুই
চলায়-করায় উছল হ',
সাত্বত যা' তা'রই চর্য্যায়
সুসন্দীপী জীবন ব' । ৮০।
কৃষি, কৃষ্টি নিয়ে চলিস্
যা'তে তোরা বেঁচে থাকিস্,
কৃতিদক্ষ সৎদীপনায়
নিজ পরিবার গ'ড়ে তুলিস;
বন্ধু শ্রীতি-পরিচর্য্যা
জনচর্য্যা নিয়ে চলিস্,
প্রিয়ের ঘরে তোর বসবাস—
তাঁ'র পথেতেই জীবন পালিস্ । ৮১।
ওঠ্ রে, ওঠ্ রে, ওঠ্ রে ও-তুই !
দাঁড়া রে তুই সোজা হ'য়ে,
ইষ্টধৃতি অনুশীলনে
সার্থক হ' তুই তাঁ'কে ব'য়ে । ৮২।
ইষ্টসেবার উপচার যা'
স্বতঃস্বেচ্ছ সম্বেদনায়,
ব'য়ে-ক'রে নিজেই চলে
বয়ই জীবন ঊর্জ্জনায় । ৮৩ ।
জীবন চায় তোর থাকতে কিন্তু
চায় কি কেউ নিকেশ হ'তে?
উদ্বর্দ্ধনার অনুতপায়
চায়ই সবাই বৃদ্ধি পেতে । ৮৪।
প্রদীপ হাতে চলছে দেখ্ না
ঐ চেরাকী ফকির-জন,
জীবন-আলো ও চল্ দেখে চল্
স্নিগ্ধ ক'রে সবার মন। ৮৫।
'মুশকিল-আসান' সুরে-গানে
ঘুরে বেড়ায় ফকির ঐ,
সব দরজায় দিচ্ছে হানা—
বাঁচা-বাড়ায় চললে কৈ । ৮৬।
মুশকিলগুলি তাড়িয়ে দিয়ে
জীবন-চর্য্যায় হ' পটু,
সেই সাধনায় সিদ্ধ হ'য়ে
দে সরিয়ে সব কটু । ৮৭।
জীবন-তপে কৃতি-রাগে
রঞ্জিত হ' উচ্ছলায়,
নন্দিত হ', বর্দ্ধিত কর্
পারিবেশিক সঞ্চলায় । ৮৮।
বাঁচা যা'তে পুষ্টি পেয়ে
শক্তি ধরে জীবনে,
সেই পোষণাই জীবন-পোষণ
অন্য কিছুর কী মানে ? ৮৯ ।
সত্যনিষ্ঠাই সৎ-এর ধরণ
সৎ-অস্তিত্বের শেষ কোথায় ?
বিশেষই তা'র হয় বৈশিষ্ট্য
বিশেষভাবে জাগে যেথায় । ৯০।
সজাগ হ'য়ে বজায়-এর পথ
এখনও তুই নে রে খুঁজে,
চলন-বলন-ক্রিয়া-কলাপ
করিস্ সে-সব বুঝে-সুঝে । ৯১।
জীবনবাদের বাদ নিয়ে তুই
অঢেল চলায় চল্ রে চল্,
অমর জীবন পাওয়ার পথে
রাখ্ নিয়ে সেই কৃতিবল । ৯২।
জীবন-ধ্বনন জাগল প্রাণে
তবে তো তুই বেঁচে আছিস্ !
বেঁচে থাকার জোগাড় ক'রে
আর যা' কর্ যত পারিস্ । ৯৩।
আশীর্ব্বাদটি আসবে নেমে 
তোমার জীবন-বিধান ব'য়ে,
দীপন-রাগে চলতে থাক
শুভে কুটিল বিনাইয়ে । ৯৪।
ধৃতির বাজনা চল্ বাজায়ে
ধৰ্ম্ম-নিশান ধর্ রে তুলে,
ডমরু বাজায় দেখ্ না কোথায়
বাজছে বিষাণ কেমন দুলে । ৯৫।
ধৃতি-উপাসনায় ধৃতি-তপা হ'য়ে 
ধৃতিক্রিয় হ'য়ে চল্,
ভক্তি-জাগরণে শক্তি বেড়ে যাক্
বাড়ুক জীবন-বল । ৯৬।
আচার্য্যকে বাদ দিয়ে তুই
জ্ঞান-গবেষণ করবি যত,—
সামঞ্জস্য থাকাই কঠিন
হারাবি তুই পথ নিয়ত । ৯৭।
আচার্য্য-নিষ্ঠায় অটুট হ'য়ে
জ্ঞান-গবেষণায় থাকলে মন,
প্রজ্ঞা বাড়ে ক্রমাগুয়ে
সিদ্ধির পথে যায় সে-জন । ৯৮।
ইষ্টনিষ্ঠ শ্রদ্ধা নিয়ে 
যে-জন চলে ধী-এর পায়,
কৃতার্থতা সামনে এসে
অনেক কিছুই দিয়ে যায় । ৯৯।
পুণ্য জীবন অটুট রেখে
যেমন পারিস্ ক'রে চল,
পুণ্যস্রোতা যতই হ'বি
বাড়বে তত হৃদয়-বল। ১০০।