নীতি বিষয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (৫১-১০০)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “নীতি ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১ – ২০ পর্যন্ত মোট ১৪২ টি বাণী রয়েছে।
এর মধ্যে বাণী ৫১ – ১০০ নিচে দেয়া হলো।

প্রয়োজনে সুবিধা নেয়
স্বার্থে ক্ষতি করে,
অকৃতজ্ঞ এমন হ'তে
থাকিস্ দূরেই স'রে। ৫১।
পাওয়ার দিকে ঝোঁক দিলে তোর
করার নেশা টুটবে,
করার দিকে ঝোঁক দিলে তোর
আপনি পাওয়া ফুটবে। ৫২।
আপদ-ধৰ্ম্মে বইলে জীবন
বিপদ-পায়েই থাকতে হয়,
সুপথ থাকে দূরেই স'রে
মরণ গাহে যমের জয়। ৫৩।
করার রোখটি বৃত্তি-মায়ায়
রুদ্ধ হ'য়ে পড়ে,
অভীষ্ট তা'র হয় না পূরণ
দুঃখ তা'রেই ধরে । ৫৪।
তা'তেই শুধু অবাধ তুমি
যা'তেই ভাল হয়,
পারই না তা' করতে যা'তে
পরের আনে ক্ষয়। ৫৫।
শুনেই বুঝিস্ করলে কিবা 
হয় বেদনার ক্ষয়,
মন না বুঝে করলে সেবা
সবই ব্যর্থ হয়। ৫৬।
লাখ ধান্দায় মনটি ব্যস্ত
ইষ্ট-ধান্দাই বইলি না,
তবুও চাস্ বিধির দয়া
মতিচ্ছন্ন বুঝলি না! ৫৭।
বেকুব বিবেচনার ফলে
অশুভ পণ করিস্ যদি
করিস্ নে তা', বিনিয়ে বলিস্—
রাখিস্ মনে নিরবধি। ৫৮।
কথাই দাও আর পণই কর
বুঝেই ক'র তা',
বেচাল কওয়া, বেকুবী পণ
আনেই শঠতা । ৫৯।
প্রতিজ্ঞা যদি ক'রেই থাকিস্ 
যদি তা' সৎ হয়,
প্রাণপণেতে পালবি সেটা
পাবি ওতেই জয়। ৬০।
সামর্থ্যে তোর সজাগ থেকে
দায়িত্ব নিবি যত,
জীবন হবে সহনপটু
হবিই রে উন্নত। ৬১।
দোষদৃষ্টি রাখলে পুষে 
ভাবনা কিসের আর?
সত্বরই তুই শিকার হবি
ব্যর্থ প্রহেলিকার। ৬২।
কৰ্ম্মকে যে খেলিয়ে নিয়ে
ফলেই করে সমাহার,
এই ঝোঁকেতে চলন যাহার
ফলই ধারে তাহার ধার। ৬৩।
         পারবি রে তুই কী?
কারু ভাল করবি না তুই
কথার চকমকি—
পাওয়ার বেলায় ন্যায়পরতা
কেবল ঝকঝকি ! ৬৪।
যা' ইচ্ছা তাই করবে তুমি
তা' কিন্তু রে চলবে না,
ভাল ছাড়া মন্দ করলে
পরিস্থিতি ছাড়বে না। ৬৫।
সাশ্রয়ে যে কাজ করে দেয়
সুষ্ঠু সমাপন,
মন্দ দলি' খ্যাতি রটায়
হিতার্থী সে-জন। ৬৬।
সন্দেহেতে দোদুল চিত্ত
ভেবেই দেখে দোষ,
আপদ-বিপদ আনেই ডেকে
কী আছে আপসোস? । ৬৭।
বিপদ বাধা অন্তরায়ের 
কাঁটায় ভরা ভেবেই পথ,
থেমেই যদি যাস্ রে ওরে
ভাবিস্ পুরবে মনোরথ? ৬৮।
শোনা কথায় চললে শুধু
তবেই কিন্তু ঠকবি,
কাজ-কর্ম্মে দেখবি যাহা
বুঝলি, সেটাই ধরবি। ৬৯।
মরণ-সমর মথন ক'রে
সামাল দিয়ে সকল দিক,
দ্রষ্টা ঋষিই বক্তা নীতির—
নীতিই জাতির বাঁধন ঠিক । ৭০।
উচিত-বাদের দম্ভ কর
হিতের ধারটি ধারছ না,
এমন চলায় চললে জেনো
পাবেই পাপের লাঞ্ছনা। ৭১।
দিতে চেয়ে স্বার্থ-নেশায়
করে প্রবঞ্চনা,
দুঃখ তাহার দারুণ বেগে
আনেই লাঞ্ছনা । ৭২।
পালক যে তোর সাশ্রয়ে সে
উপচে ওঠে সেইটে কর্,
না করলে তোর বাঁচা-বাড়া
ক্রমেই যাবে যমের ঘর । ৭৩।
লোকের করায় চ'লছ বেঁচে
এটাও যেমন সত্য,
তোমার করাও তেমনি তা'দের
বাঁচা-বাড়ার পথ্য। ৭৪।
যা'রই রে তুই খেয়ে মানুষ
ধারিস সদাই তাহার ধার,
দুর্ব্বিপাকে অমনি যাবি
চাওয়ার আগেই করবি তা'র। ৭৫।
জীবন-চলায় স্বাধীন তুমি
মরণে কিন্তু নয়,
মরণ-চলন সংক্রমণে
অন্যেরও হয় ক্ষয়। ৭৬।
কামিনী-কাঞ্চন নয় রে দোষের
প্রেষ্ঠ-স্বার্থী যদি হয়,
প্রেষ্ঠ-স্বার্থে আনলে ব্যাঘাত
ত্যাগই কি তা'র উচিত নয়? । ৭৭।
বিশিষ্টকে করলে বাতিল
যম-বাঘা সব পিছু ধায়,
চলার পথে বিনা বাধায়
ঘাড় মটকে রক্ত খায়। ৭৮।
হোসনা রে তুই কৃপণ-স্বভাব
করায় করবি পণ,
কৃপণতায় কাছিম করে
পড়শী-বিরাগ-মন । ৭৯।
ফলের নেশায় করলে রে কাজ
করার ঝোঁকটা হয় শিথিল,
নিষ্ফলতা মুচকে হেসে
বেকুব বুদ্ধি করে হাসিল । ৮০।
গণকে যদি গুরুর পূজায়
বাড়িয়ে তুলতে পারিস্,
সাফল্য তোর সামগানেতে
ভ'রেই তুলবে দিশ। ৮১।
হামবড়ায়ী স্পর্দ্ধী নেশার
যখনই যে ব্যাঘাত হানে,
তখনই তা' মুষড়ে গিয়ে
ফোলেই ক্রোধে অভিমানে। ৮২।
ভাল-প্রয়াসী মন্দ যা'
সেও তো ভাল ঢের,
ভাল-মুখোসে মন্দ ঘৃণ্য,—
লোকে পায় না টের। ৮৩।
অর্থ যখন সবার স্বার্থ
বিশিষ্টতায় করে পূরণ,
সাম্যে ভরা সেই নীতিটা
সাম্য-নাচেই নাচে তখন । ৮৪।
উদ্ভাবনী বুদ্ধি-হারা
একঘেয়ে যা'র উপার্জন
যোগ্যতাহীন বুদ্ধি বেকুব
সেই মানুষই হয় কৃপণ। ৮৫।
চিন্তা যদি একপেশে হয়
সঙ্গতি সব বাদ দিয়ে,
বুঝের মাথা ঘায়েল ক'রে
আসবে দম্ভ অবুঝ নিয়ে। ৮৬।
রোগ বা বিশেষ কারণ ছাড়া
কর্ত্তা, চাকর আর স্বজনে
সমান খাবার, ন্যায্য তোষণ—
চলেই এমন শ্রেষ্ঠগণে। ৮৭।
একের স্থিতি অন্যের টানে
অন্যে একের পানে,
এমনি ক'রেই সত্তা সকল
চলছে র'য়ে স্থানে। ৮৮।
যা' পেয়ে যে বাঁচাবাড়ার
চলায় যত উন্নত,
তা'ই বুঝে তা' করলে রে দান
সার্থক সে দান হয় তত। ৮৯।
বড়র মত চাল মারিস্ তুই
চালিয়াতি চাল ধ'রে,
অভ্যাস, ব্যবহার, দক্ষতা আন্—
নইলে বড় কী করে?। ৯০।
এক লহমার বেফাঁস কথা
চিন্তা, কর্ম, আলোচনা,
ছোটেই নিয়ে পিছু-পিছু
দুরদৃষ্টের কী লাঞ্ছনা!। ৯১।
বিধির নীতির একটু ব্যাঘাত
একটু অবহেলা তা'র,
আকাশ-পাতাল তফাৎ করে,
দুঃস্থি আনে অবস্থার। ৯২।
শ্রেষ্ঠ জনে করলে প্রণাম
নিয়ত মাথা ঠেকিয়ে পায়,
নিজের ভাল হ'লেও কিন্তু
তাঁ'র আয়ুটি ক্ষয়েই যায়। ৯৩।
এমন তাপের করবি সৃজন
অত্যাচারের হয় নিকেশ,
অনুতপ্ত অত্যাচারীর
রয় না যা'তে পাপের লেশ। ৯৪।
যে দায়িত্ব নেবে যাহার
ঝটিতি কর তা',
কথা দিলেই করবে যা'তে
রয় না কৃতঘ্নতা। ৯৫।
যুক্তি-কারণ না বাতলে তুই
উড়িয়ে দিস্ না কারু কিছু,
বাতলে শুভ মন্দে বাতিল
করলে আসে শুভই পিছু। ৯৬।
পুরাতনের চর্য্যা নিয়ে
নূতনে করে স্থিতি,
আদর্শেতে চলবি সাধু—
এই তো চলার নীতি। ৯৭।
দান ক'রে যে হরণ করে
কিংবা বেশী লয়,
কুহক-ঝরা কুদিন এসে
সকলই করে ক্ষয়। ৯৮।
বিধি কিন্তু নয়কো জ্ঞানী,
নয়কো জ্যান্ত, নয় চেতন—
ইষ্টানুগ বেত্তা-জ্ঞানীর
জ্ঞানেই বিধির নিয়ন্ত্রণ। ৯৯।
বিধির নীতির একটু বেচাল
একটু বেসামাল,
দক্ষতাহীন শিথিল চলন
ভাঙ্গেই জীবন-তাল। ১০০।