বিবাহ নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “বিবাহ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৮৯ – ১০০ পর্যন্ত মোট ৬০ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

ইষ্ট-স্বার্থপ্রতিষ্ঠা যা'র 
পরিণয়ের মূলে,
তা'রই বিয়ে সার্থক হয়
বংশ ওঠে দুলে'। ১।
বিয়ে-ব্যাপারে সবার আগে
বর্ণের হিসেব করিস্,
তা'র সাথেতেই বংশটিকে
বেশ খতিয়ে দেখিস্:
বংশ দেখে শ্রদ্ধা হ'লেই
স্বাস্থ্য দেখিস্ কেমন তা'র,
তা'র সাথে তুই বাজিয়ে নিবি
স্বভাব-অভ্যাস-ব্যবহার;
এ-সবগুলির সুসঙ্গতি
মিলেই যদি যায়,
বিদ্যা দেখিস নজর ক'রে
কর্ম্মের ওজন তা'য়;
পারম্পর্য্যে এইগুলি সব
মিলিয়ে দিলে বিয়ে,
প্রায়ই দেখিস্ ঠকবি না তুই
মরবি না বিষিয়ে। ২।
যে-পুরুষে করলে বিয়ে
শ্রেষ্ঠ পানে ধাও,
হদয় খুলে যা'র কাছেতে
দীপন পুষ্টি পাও,
বংশে শ্রেষ্ঠ পিতৃতুল্য
কিংবা শ্রেষ্ঠতর,
সেই পুরুষে করলে বরণ
হবে না ইতর। ৩।
ইষ্টানুগ নতি তুমি
যেখায় দেখতে পাবে,
কর্মকুশল দক্ষ-নিপুণ
শ্রদ্ধা-ভক্তি ভাবে,
শ্রেষ্ঠ বংশ-সমুৎপন্ন
নাই ঠুনকো মান,
স্তুতিতে ভ'রে উঠবে বুক
করলে আত্মদান । ৪।
সৎস্বভাবে পরাণ-পাগল
সেই তো রে তোর বর,
সব দিকে তোর শ্রেষ্ঠ হ'লে
তা'রেই বরণ কর্। ৫।
সৎপুরুষে করবে বরণ
জননক্ষম নারী যখন,
তবেই জন্মে সেই ক্ষমতা
এই তো শাস্ত্র-নীতির কথা। ৬।
রজস্বলা হ'লেই নারী
বর-বরণে অধিকারী। ৭।
উচ্চবর্ণে দিলে মেয়ে
তাঁ'দের নিয়ম-নীতির ধাঁজে,
চলাই শ্রেয় কড়া নিয়মে
আচার-বিচার কথায়-কাজে। ৮।
উচ্চ বংশে মেয়ের নতি
তুখোড় ঝাঁঝাঁল হয় সন্ততি। ৯।
মাতৃবর্ণে যা'রই যে-থাক্
সে-থাক্ সহ নিম্নপানে,
করলে বিয়ে পুরুষজাতি
প্রাজ্ঞ শ্রেয় পায় সন্তানে। ১০।
পিতৃবর্ণে যা'রই যে-থাক্
সে-থাক্ হ'তে উচ্চপানে,
মেয়ের বিয়ে হ'লেই জানিস্
বাড়বে শিশু বীর্য্যে জ্ঞানে। ১১।
কেহ তোরে আবেগভরে
ব'য়েই সুখী হয়,
বওয়া-সওয়ার কষ্ট যত
সুখের ক'রেই লয়,
শ্রদ্ধা-ভক্তি আনতিতে
ন্যস্ত ক'রে মন,
আত্মদানে করতে চাইলে
তোরে রে বরণ,
সে যদি তোর ইষ্ট কাজে
বাধা না ঘটায়,
নিস্ তা'রে তুই বুঝেসুঝে
ফিরাস্ নাকো তা'য় । ১২।
পূর্ব্বপুরুষ-সংস্কার যা'
স্বল্প বিস্তরে,
অনুক্রমে আসছে নেমে
বিয়ে-সূত্র ধ'রে;
ঐগুলি সব ব'য়ে সুখী
এমন মেয়ে নিয়ে,
তা'তেই তুমি পুষ্টি পাবে
সেই তো যোগ্য বিয়ে। ১৩।
বড় কিংবা ছোট নিয়েই
বিয়ের নীতি সিদ্ধ নয়,
যৌন-জনন সার্থক যা'তে
সেই বিয়েই শ্রেষ্ঠ হয়। ১৪।
গৌরব জয় উপঢৌকনে
ইষ্টস্বার্থে পুরুষ ধায়,
ধারণ, রক্ষণ, প্রেরণা, সেবায়
নারী যবে তা'র পিছনে যায়,
মূর্তিমতী লক্ষ্মী সেখানে—
নারীজীবন বৃদ্ধি গায় । ১৫।
গৌরব-মুখর পূরণ-গড়ন
আহরণেচ্ছু যতেক নরে,
বরণ-অর্ঘ্য বৃদ্ধি সমীক্ষে
চলে নারী দিতে পালন বরে। ১৬।
এককে নিয়েই ডুবে থাকা
এই তো নারীর ধাঁচ,
বহুস্ত্রীতে সম মমতা
মুখ্য পুরুষ ছাঁচ । ১৭।
অটুট কঠোর আদর্শে যে
বহুবিবাহে সমর্থ সে,
পুরুষে যখন না দেখবি তা'—
একটিরও নাই উপযোগিতা। ১৮।
সৃষ্টি যা' সব আত্মায়ন
মানুষ ঋদ্ধি-প্রবণ,
তেমনতরই পায় সকল জীব
যেমন করে বরণ। ১৯।
মেয়েরা যদি স্ব-ইচ্ছাতে
বরে না সৎবরে,
কা'র বউ কা'র ঘরে যায়
ঠিক পাবি কি ক'রে? ২০।
শোন্ রে বলি শোন্ ওরে শোন্ 
আমার অবোধ মেয়ে,
অহং-আহত ঈর্ষা-ক্ষিপ্ত
ইষ্টহারা বৃত্তিলিপ্ত
হোমড়া-চোমড়া হোক না যত
থাকিস্ দূরেই পারতমত,
বৃত্তিজ্ঞানীর বেকুব কথায়
বিয়ে করিস্ না যেয়ে । ২১।
বিয়ের আগে পড়লে মেয়ের
অন্য পুরুষে ঝোঁকের মন,
স্বামীর সংসার-পরিবার
করতে নারে প্রায়ই আপন । ২২।
সবর্ণে সগোত্রে বিয়ে
দিসনে কোনদিনও ভুলে,
করবে বংশ জরাজীর্ণ
অসংবদ্ধ গুণবহুলে। ২৩।
পরিচয়ী টানের পূর্ব্বে 
কিংবা ঋতু হওয়ার আগে,
নিরুদ্দেশে স্বামী পালায়
পরিণীতা বধূত্যাগে;
কিংবা নষ্টমৃত হ'লে
নয়তো ক্লীব জানা গেলে,
ম্লেচ্ছ নীতি আঁকড়ে ধ'রে
ইষ্টকৃষ্টি ফেললে ঠেলে,
এমন পতিত বরকে ছেড়ে
যদি ইচ্ছা ধরবে শ্রেয়,
দুঃখে স্মৃতি দিলেন বিধি
যদিও এটা অনেক হেয়। ২৪।
ত্যক্তা নারীর আবার বিয়ে
দৃপ্ত বুকে ক্ষিপ্ত ফণা,
গলায় প'রে পুরুষ বেড়ায়
প্রিয়বুকে সটান টনা। ২৫।
অসতীত্বের উপচয়ে
বাতিলই যদি হয় বিয়ে,
সমশ্রেষ্ঠ পুরুষেতে
ক'রে রে নির্ভর,
লোকসমক্ষে বিয়ে করিস্,
অববধূ হ'য়ে থাকিস্,
উন্নতিকে অবাধ সাধিস্
ক'রে তা'রই ঘর। ২৬।
শ্রেয়ে কন্যা দিয়ে যদি
হরণ করে মনের পাকে,
স্মৃতির বিধান চৌর্য্যদণ্ড
বইতে হবে নিশ্চয় তা'কে। ২৭।
সংশ্লেষতা যেথায় যেমন
দুঃখ ও সুখ তেমনি সেথায়,
রাগ-বিরাগের এমনি চুমোয়
মানুষ মরে দ'গ্ধে ব্যথায়। ২৮।
নারী-লোলুপ পুরুষ যা'রা
উদ্বাহেতে তা'দের ধ'রে,
বিদঘুটে এক জীবন-চলায়
চলেই নারী জ্যান্তে ম'রে। ২৯।
পুরুষ যা'রা বিয়ের নেশায়
বিয়ের আসর জমিয়ে রাখে,
চপল কামুক বিয়ে পাগলার
গোঙরানি সার কামের ডাকে। ৩০।
কাম-আচারে পুরুষঘেঁষা
কন্যা বিয়েয় শ্রেষ্ঠ নয়,
অমনি বিয়েয় জন্ম হ'লে
জাতক-জীবন ক্ষুণ্ণ হয় । ৩১।
প্রিয় পাওয়ার ঝোঁকের তাড়ায়
সমত্ব-সঙ্গতি ছাড়া,
বৃত্তিমাফিক চায় প্রিয়কে
প্রিয়র স্বার্থে দৃষ্টি-হারা,
টানটি সহ বুদ্ধি তখন
বিক্ষোভে হয় জর্জ্জরিত,
বৃত্তিরঙ্গিল প্রেষ্ঠ পাওয়া
হ'য়েই থাকে কণ্টকিত । ৩২।
উন্নয়ন আর সুপ্রজনন
এই তো বিয়ের মূল,
যেমনি-তেমনি ক'রে বিয়ে
করিস্ না কো ভুল। ৩৩।
সমান বিয়ের সাম্য ধাঁজ
অনুলোমে বাড়ায় ঝাঁঝ্,
প্রতিলোমে কুপোকাৎ
বিশ্বাসঘাতক বংশপাত । ৩৪।
কী কুক্ষণে অনুলোমী 
অসবর্ণ বিয়ে,
বাতিল করলি বেকুব সমাজ—
কিসের দোহাই দিয়ে?
ইষ্টস্বার্থী শিক্ষারেই বা
তফাৎ করলি কিসে?—
এই ক'রে যে সব খোয়ালি
হ'লি হারাদিশে। ৩৫।
অনুলোমী সদ্যদীপন
পাঞ্চজন্য বাজিয়ে আন,
দৈন্যভরা সংস্কারীকে
সূর্য্যতপায় করা স্নান। ৩৬।
ভুলে অশ্রেয়ে কন্যা দিলে
হরণ ক'রে শ্রেয়ে দিবি,
আর্য্য-স্মৃতির এই তো নীতি
ঋষির কথা মেনে নিবি। ৩৭।
অনুলোমী অসবর্ণার
গর্ভের তনয়,
স্বামী-বর্ণই পেয়ে থাকে
থাকের তফাৎ হয়। ৩৮।
পুরুষের বিয়ে নিম্ন ঘরে
উন্নতিতে সমাজ চড়ে। ৩৯।
অনুলোমী স্ত্রীদের আছে
সেবায় অধিকার,
দেবকার্য্যে পিতৃকার্য্যে
সবর্ণাই সার । ৪০।
একান্তরা অসবর্ণা
থাকলে সদাচারে,
ভোজ্য-পান তাহার হাতে
সবই চলতে পারে। ৪১।
পুরুষের বিয়ে উচ্চ ঘরে
বাড়ে আপদ বংশ মরে। ৪২।
নিম্নবর্ণে নারীর ঝোঁক
এর বাড়া নেই ঘৃণ্যগতি,
ইতর-ঝোঁকা দুষ্টা চেয়ে
ঢের ভাল যা'র উচ্চে রতি। ৪৩।
উঁচুর মেয়ে নিসনে ঘরে
দিস্ উঁচু বরে,
ঘরে থাকবে লক্ষ্মী বাঁধা
জনে থাকবি ভরে। ৪৪।
উঁচুর মেয়ে নিলে ঘাড়ে
দিলে নিম্ন বরে,
বংশ মরে লক্ষ্মী ছাড়ে
রাষ্ট্রে আঘাত পড়ে। ৪৫।
উঁচুর মেয়ে নিলে ঘাড়ে 
বংশ নাশে লক্ষ্মী ছাড়ে। ৪৬।
প্রতিলোমে মত্ত-মসগুল
সমারোহে রইলি তুই,
ভাবলি না রে ছোট ধ'রে
নষ্টে চ'লে যাচ্ছিস্ নুই';
মাথাতোলা সৃষ্টি-জনন
এমনি ক'রে করলে ক্ষয়,
আর্য্য তোরা দ্বিজ তোরা
সর্ব্বনাশেই পাবি লয়। ৪৭
প্রতিলোমী স্পর্শে নারী
নষ্টা হওয়ার চেয়ে,
অনুলোমে দুষ্টা হ'লেও
উচ্চে চলে বেয়ে;
দুষ্টা হ'লেও হৃদয়টি তা'র
শ্রেষ্ঠ উদ্দীপনায়,
জাত-সমাজের করেই ভাল
সৎ-এর উচ্ছলায়;
তাই তো বলি মেয়ে আমার
প্রতিলোমে ধাস্ না,
ছোট হ'য়ে নীচু হ'য়ে
মরণপথে যাস্ না। ৪৮।
অবিনশ্বর আত্মধারা
ছিটকিয়ে ক্ষয় হয় কিসে—
জানিস্ তা' কি বেকুব পাগল?
প্রতিলোমে নর যেই মিশে। ৪৯।
থাকলে বংশে প্রতিলোমী ছিট
মেয়েদের যায় নীচোয় দিঠ। ৫০।
বাঘের মুখে দিস্ রে তুলে
অজগরের আহার দে,
অপমানী নীচ-সৃজনী
প্রতিলোমী বৃত্তিবাদে। ৫১।
অযোগ্যা অগম্যার যদি
কোন পুরুষে টানও থাকে,
টানের নেশায় পুরুষ যদি
মনন-গ্রহণ করে তা'কে;
সে-পুরুষের পাতলা স্নায়ু
ধ্বংস ক'রে মস্তিষ্কটা,
ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রে করে
সর্ব্বনাশে একসাপটা;
বৃত্তিনেশায় সবায় মারে
এ পাপ পুরুষ বয় কিনা,
সবায় মেরে কী হয় সাজা
দেশ-সমাজ তা' সয় কিনা। ৫২।
বৃত্তিঝোঁকা হ'লেও মেয়ে
বংশে উচ্চ হ'লে,
শ্রেষ্ঠপানেই ধায় নজর তা'র
নিম্নে মন না টলে। ৫৩।
অধম নরে নারীর ধাওয়ায়
মরণ ছোটে পিছে,
নীচ জননে বংশ নাশে
জীবন তাহার মিছে। ৫৪।
শাক্ত বৌদ্ধ মুসলিম খৃষ্টান
বৈষ্ণব যা'ই হ'স্ না,
প্রতিলোমে বরণ করে
বৈশিষ্ট্য ছেড়ে ধাস্ না। ৫৫।
পিতৃকৃষ্টি গৌরব-গানে 
গর্ব্বে নাচে না যা'দের প্রাণ,
জাতীয়-জীবন বীর্য্য-কাহিনী
বোঝে না, কহে না, গণে অপমান;
একই ইষ্টে নাহি অনুরতি
পর-গৌরবী যাদের ধাঁচ,
প্রতিলোমে যা'রা উচ্চ উদার
গোল্লায় তা'দের জনম-ছাঁচ। ৫৬।
পুরুষ-নারী সবাই শোনো—
কোনপ্রকার প্রতিলোমে
বিয়ে বা গমন ক'রো নাকো
করো না পুষ্ট কুটিল যমে,
অতি সুন্দর অটুট প্রার্থী
প্রাপ্তি-প্রীতি যদিও হয়,
দূরেই থেকো, এগিও নাকো,
রাষ্ট্র-সমাজ ওতেই ক্ষয়। ৫৭।
উচ্চবর্ণ বংশ বরে
নিম্নজাতা মেয়ের বিয়ে,
অনুলোম তা'কেই বলে
সমাজ যা'তে যায় উজিয়ে। ৫৮।
আগ্রহ-উদাম সমধর্ম্মী
বিপরীতে পরিণয়,
শিষ্ট অনুলোমী হ'লে
বিশিষ্টই উপজয় । ৫৯।
বীজ পেল না ক্ষেত্র সারী
যেমন তাহার লাগে,
ফসল পাবি ওরে লোভী
কোন্ কর্ম্মের বাগে? ৬০।