বৃত্তিধর্ম্ম নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (১-৫০)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “বৃত্তিধর্ম্ম” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১৫৫ – ১৭৮ পর্যন্ত মোট ১৪৩ টি বাণী রয়েছে। ১ – ৫০ নং বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

ভাবে ঝোলে করে না
বাঁধন তা'র কাটে না। ১।
আলিস্যি যা'র করতে ভাল
তা'র দুনিয়ায় সবই কালো । ২।
কর্মহীন চিন্তা যা'র
শান-বাঁধানো নরক তা'র । ৩।
অশুভে যে দেয় লাই 
ক্ষয় ছাড়া জয় নাই। ৪।
যোগ্যতা নাই স্পর্দ্ধা ধরে
ছোট্ট যা'রা দাবীই করে। ৫।
কহত-আশায় করা ছাড়ে
তা'রে কি কেউ রাখতে পারে ? ৬।
ক্ষণভঙ্গুর মান যা'র 
চিররুগ্ন যশ তা'র। ৭।
যোগ্যতা নাই দাবী করে
বেঘোর পথে তা'রাই মরে। ৮।
বিশ্বাসঘাতক কৃতঘ্নকে 
ঝেঁটিয়ে তাড়াও এক ধমকে। ৯।
কৃতঘ্নে আশ্রয় দেয় অথবা প্রশ্রয় 
পরিবার-পরিজন-সহ পায় ক্ষয়। ১০।
আপন স্বার্থে ব্যস্ত যা'রা
দুর্দ্দশাতে হয়ই সারা। ১১।
ভ্রান্তি এল সেই—
উৎস-বিমুখ চলন-বলন
বসলো পেয়ে যেই। ১২।
খায় যা'র খসায়ও তা'র
জীবন যায় ব'য়েই ভার। ১৩।
পেতেই শুধু আত্মীয়তা
ঠক-চালাকের এই মূঢ়তা । ১৪।
যা'র খায় তা'কেই মারে 
দুঃস্থ-দাপট ধরেই তা'রে । ১৫।
পাওয়ায় খুশি, দেওয়ায় রোষ
চোরাই-ধৰ্ম্মীর এমনি দোষ । ১৬।
সঙ্গতিহীন কৰ্জ্জে দান
ব্যর্থতাতেই মুহ্যমান । ১৭।
যোগ্যতা নাই উচ্চে দাবী 
বেঘোর পথে খায় সে খাবি। ১৮।
বিশ্লেষণে নিন্দা দেখে 
নিজের মরণ নিজেই শেখে । ১৯।
বৃত্তিবাদী আত্মসুখী 
ভুলের দালাল ধ্বংসমুখী । ২০।
হীনস্বার্থী প্রবৃত্তিটান 
থাকলে যায় না সতের স্থান। ২১।
যে-ভাব হ'তে চাহিস্ ত্রাণ
তা' হ'তে ঝোঁক ফিরিয়ে আন্। ২২।
কর্মে শিথিল, ভাব-প্রবল 
দূষণ-স্বভাব দৈন্যে তল। ২৩।
ইষ্টহারা যা'র গোলা
ভাতে মরে তা'র পোলা। ২৪।
পাপ-স্বভাবের সমর্থনে
পাপমুক্ত হ'তে যাওয়া—
ভণ্ড কথা জানিস্ ওটা
ঝোঁক কিন্তু পাপেই ধাওয়া। ২৫।
মনের মতন না হ'লে যা'র
মনটি ক্রোধে লালে লাল,
দিগ্বিজয়ী দুর্দশা তো
দৌড়ে ধরে তা'র নাগাল। ২৬।
ইষ্টানত নয়কো হৃদয়
গুরুত্বে যা'র অভিযান—
হেলন-দলন যা' পারিস্ কর,
কৃতঘ্ন সেই শয়তান। ২৭।
চাক্ষুষেরে দিয়ে বিদায়
শোনা-কথায় বাঁকে,
দুনিয়ায় সে কেনাবেচায়
ফাঁকিই পেয়ে থাকে । ২৮।
রোশনি চোখে আছে তবু
ভেবেই দেখিস্ তাই,
মনগড়া তোর দেখা হ'তে
পেলি না রেহাই। ২৯।
যে-বৃত্তিকে করবি খাতির
সেই হবে রে শক্তিমান,
তারই হেল্লায় হ'বি রে তুই
ঊর্ধ্ব-অধে অধিষ্ঠান। ৩০।
ভূত-বাতুলি মন যত যা'র
পরিচ্ছন্ন নয় সে তত,
গাধার মত যতই খাটুক
শ্রীহারা হয় স্বভাবতঃ । ৩১।
হামবড়ায়ী অহমিকা 
ক্রুদ্ধ অভিমানে ফোলে,
বাধা যা' তায় করতে নিকাশ
সমর্থনী কাঁদন তোলে। ৩২।
ইতর-কুহকে অনুরাগী হ'য়ে
নীচতায় করে সংস্কার,
মাজাঘসা-নীচু নীচতা তা'দের
সাবাড়েই করে পরিষ্কার । ৩৩।
ইষ্টপ্রীতি নাইকো যাহার
চলে কামের নেশায়,
কামে খোয়ায় ওজঃশক্তি
ধরেই স্নায়ুনাশায়। ৩৪।
কাম, ক্রোধ জানিস্ রে তুই
তখনি দোষের অতি—
ইষ্টস্বার্থ হটিয়ে যবে
লোকের করে ক্ষতি। ৩৫।
ইষ্টপ্রীতি অবসন্ন
স্ত্রী-প্রভাব প্রবল,
বংশ এতে অবশ হ'য়ে
খায় মরণের জল। ৩৬।
উপকারীর ক্ষতি করে
স্বার্থবশে অপবাদ,
দেখ না চেয়ে কৃতঘ্নতা
আছেই ধ'রে তাহার কাঁধ। ৩৭।
ধাপ্পা মেরে অর্থ খেলে
হিত করবার অছিলায়,
দুর্বিপাকে ঘিরেই রাখে
রাখতে বিধি নারেন তা'য়। ৩৮।
উপায় করতে জানল না যে
দিলেও রাখতে পারল না,
পাওয়ার কৰ্ম্ম হারা হ'য়ে
সঞ্চয় করে লাঞ্ছনা। ৩৯।
দিতে চেয়ে স্বার্থনেশায়
করে প্রবঞ্চনা,
দুঃখ তা'রে দারুণ বেগে
দেয়ই রে লাঞ্ছনা। ৪০।
লোকের কথা শুনেই যা'রা
নিন্দা নিয়ে চলে,
বিষাদ-সহ বিপদ তা'দের
পদে-পদেই ফলে। ৪১।
কেবল পাওয়ার ফন্দী যাহার
দেবার হাতটি হতচেতন,
এক ডাকেতে বলছি আমি
ব্যর্থ তাহার উন্নয়ন। ৪২।
প্রবঞ্চকের মনটি ভরা
বঞ্চনারই ভয়,
যাচা-লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে
মেগে আনে ক্ষয়। ৪৩।
শ্রেষ্ঠ সৎ-এর কুৎসা রটায়
স্বার্থনেশায় অত্যাচার,
স্বগণসহ এমন-জনা
আত্মবিষে হয় সাবাড় । ৪৪।
হিসাবপত্রে গণ্ডগোল
চোট্টাবুদ্ধি অন্তরে,
তল্ছা মেরে চুপটি ক'রে
পণ্ড-কুটিল ছল করে,
বিশ্বাসেরই দাবী করে
হিসাবপত্র বেগোছাল,
সাধুর ধাঁজে টেক্কা মারে
বিছিয়ে কতই ধাপ্পাজাল । ৪৫।
মোকাবিলায় নিন্দাবাদের
নিরসনেও বুঝল না,
নিস্থি মানুষ সরীসৃপ সে
কৃতঘ্নতার বিষফণা। ৪৬।
জন্মগত ভ্রষ্ট যা'রা 
সৎ বা দয়ায় হয় না বশ,
ভয়েই কেবল অনুগত
শুভের পথে পায় না রস। ৪৭।
হামবড়ায়ী নির্মাল্য যা'—
নিলেই এমন দান,
ভবিষ্যতে বিড়ম্বনায়
ঘায়েল করে প্রাণ। ৪৮।
পণ্ডিতি যা'র উপদেশেই, 
কাজের ভিতর ম্লান,
মূর্খ সে-জন ছন্নছাড়া
নাইকো পরিত্রাণ। ৪৯।
রক্ত-চোষা বাদুড়যোনি
     দত্তহারীর ভাগ্যলেখা,
জীয়ন্তে তাই দ'ন্ধে মরে
     শঠ-চলনে জীবন-রেখা। ৫০।