ব্যবসায় নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “ব্যবসায়” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১২৭ – ১৩২ পর্যন্ত মোট ৩৪ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

ব্যবসা চাকরী যে যা' করুক 
ইষ্টকৃষ্টি কুলমর্য্যাদা—
বলি দিয়ে বৃত্তিলোলুপ
হয় যে জানিস্ ইতরজাদা । ১।
খেটে-খুটে আয় যে করে
মা লক্ষ্মী তা'য় আগলে ধরে । ২।
লাভ দেখিয়ে করলে কাজ
অর্থ পরায় মাথায় তাজ । ৩।
সময়-মতন ভাল জিনিস্ 
অল্প দরে নিস্ রে কিনে,
প্রয়োজনটি দেখলে চড়া
সুবিধায় দিস্ বাজার চিনে । ৪।
ব্যবসায় প্রিয় চরিত্র কী
শুনবি কি রে তা'?
ঘোষণ-দক্ষ নিপুণ স্বভাব
সেবায় কুশলতা। ৫।
ব্যবসাই যদি করতে চাস্
ব্যবহার আগে শেখ,
মানুষে করিস্ স্বস্তিভরা
র'বে না দুঃখের রেখ। ৬।
মানুষ সম্পদ না ক'রে তুই
টাকা-স্বার্থী হ'বি যত,
দুঃখ-অভাব-দুর্ব্বিপাকে
ততই রে তুই থাকবি রত । ৭।
হাতে মজুত না থাকলে তুমি
বাঁধা-ওয়াদা করবে না,
ওয়াদা খেলাপ হ'লেই কিন্তু
প্রত্যয়ের মান থাকবে না। ৮।
কী করতে গিয়ে কা'র পর
কী লাগে তা'র হিসাব কর্,
         এমনি ক'রে কাজে নাম
             তবেই হ'বি সফলকাম । ৯।
প্রয়োজনের সময়টিকে
ধরতেই যে পারবে না,
ব্যবসা করা চুলোয় যাবে
ব্যয়ে আয় তা'র টিকবে না । ১০।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে
লাভ দেখালে পয়সা মেলে । ১১।
খাবি কিন্তু লাভ দেখিয়ে 
পাস যাঁ' হ'তে তাঁ'কে দিয়ে । ১২।
আসল ভেঙ্গে যে-জন খায় 
ব্যবসায় সে চুলোয় যায় । ১৩।
লাভের বেশী করলে খরচ
টিকতে জেনো পারবে না,
দেনায় ব্যবসা ডুবেই যাবে
নিজেরও কিছু রইবে না। ১৪।
কী তদ্বিরে কম খরচে
কত সুন্দর যোগান যায়,
এইটি জানিস্ ব্যবসাতী তুক
ব্যবহারে রাখিস্ তা'য় । ১৫।
লাগোয়া থেকে কর্ম্মেতে তোর
        খোঁজটি নিয়েই চলিস্,
এমনি ক'রে ভুয়োদর্শনে
         আহরণ তুই করিস্;
এইভাবেতে ক্রমেই জানা
         করতে থাকবি আয়,
ব্যবসা ধ'রে অমনি ক'রে
         উন্নয়নে ধায় । ১৬।
ক্রেতায় যখন প্রতুল ক'রে
অভাবে সামাল পারবি দিতে,
প্রতুল করার এক কণাই
পারবে লাভে উপচে নিতে;
ওই দিকেতেই লক্ষ্য রেখে
ব্যবসা ধরিস, শ্রেষ্ঠী ছেলে,
বাণিজ্যেতে লক্ষ্মী-আবাস
দেখবে লোকে চক্ষু মেলে। ১৭।
লাভের আধা করবি খরচ
        সেইটি জানিস্ সমীচীন,
এ না ক'রে ধরলে ব্যবসা
        দিনে-দিনে হ'বিই ক্ষীণ। ১৮।
লাভের অর্দ্ধেক ব্যবসা থেকে 
        দরকার হ'লে নিতে পারিস,
এরও বেশী প্রয়োজনে 
        ঋণ না ক'রে খেটে তুলিস্। ১৯।
কর্জ্জ দিয়ে উপকার 
সুদের লোভে চুরমার। ২০।
সুদের লোভে কর্জ্জ দ্যায় 
লোভই তা'রে ঠেঙ্গিয়ে খায়। ২১।
ধার যদি দিস্ এমন দিবি
লাগবে না গায়ে কোনদিন,
ব্যবসা-পথে চললে এমন
হ'বিই নাকো শক্তিহীন। ২২।
ধার নিয়ে যদি তোর কাছে কেউ
ব্যবসা ক'রে নষ্ট পায়,
লেগে-বেঁধে দেখবি রে তুই
পারিস্ যদি বাঁচাস্ তা'য়;
এর ফলে তুই দেখবি ধীরে—
প'ড়ে-যাওয়া নষ্টটিরে
লাভে-আসলে পাবি ফিরে
পালবে তোরে উচ্ছলার। ২৩।
লোকে যাতে তৃপ্ত হয়
নজর তা'তে দিয়েই রাখিস,
প্রয়োজনের এমনি সেবায়
বাণিজ্যেতে পাবি বকশিস ! ২৪।
বৈদ্য-ডাক্তার-হাকিম-উকীল
এমনি ব্যবসাত যা'রা
প্রার্থীর কাছে চাইবে কেমন
শোন্ রে আমার ধারা,—
প্রার্থীর কাছে বলবে, যদি
সাধ্য থাকে ন্যায্য দে,
সাধ্যে যদি নাই কুলার তোর
এই দিয়েই তুই নে,
তাও যদি তুই নাই রে পারিস্
চাইনে কিছু তোদের কাছে,
বঞ্চনা যদি করিস্ আমায়
বুঝিস্ কিন্তু কুফল আছে। ২৫।
যে-ব্যবসাই করিস্ না তুই
       যা'ই ক'রে না পালিস্ জীবন,
মিত্রদ্রোহী অকৃতজ্ঞ 
      বিশ্বাসঘাতক হ'লেই পতন। ২৬।
যা'-কিছুই না করিস্ রে তুই
যদি বা তা' কোন-কিছুর
সার্থকতায় ধন্য না হয়—
ব্যর্থ তাহা বধির নিঠুর;
ব্যবসা লাগি' ব্যবসা-বুদ্ধি
জানিস্ যখন হয় উদয়,
সহজ ধারণ হয় না রে তা'র
সমাধি তা'য় কভু না হয়। ২৭।
উদ্বেগ যা'তে রয়—
সেই উদ্বেগ যে নিরসনে
স্বজন সেই তো হয়। ২৮।
দেবার ডাকে ডাকছে তোরে
উৎসর্গ-আমন্ত্রণে,
কে যাবি রে আয় ছুটে আয়
এমন শুভক্ষণে । ২৯।
শ্রমিক সফল প্রস্তুতিতে
ধনিক জোগায় মাল,
সেই শ্রমিকই ধনিক হ'য়ে
শ্রমিককে দেয় তাল । ৩০।
শ্রমিক আনে প্রস্তুতিতে
প্রয়োজন পূরে তা'য়,
সেই পূরণই অর্ঘ্য আনে
পূরণী কায়দায়;
শ্রমিক পায় তা'র প্রস্তুতি-ফল
ধনী পায় ফসল,
ধনিক-শ্রমিক সুমিলনে
শ্রেয় হয় উছল। ৩১।
বলদ যদি লাঙ্গল টেনে
শ্রমিক সে সাজে,
বলদই তো পায় সে-ফসল
কৃষক তো বাজে। ৩২।
কৃষক পালে বলীবর্দ্দে
পোষণ দিয়ে তা'র,
তা'রই শ্রমের ফসলে তাই
চাষীর অধিকার । ৩৩।
প্রস্তুতিরই পূরণ-কায়দা 
ধনের আগমনী,
সেই ধন দিয়ে শ্রমিক-সেবাই
লক্ষ্মীদেবীর খনি । ৩৪।