ব্যবহার নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (১-৫০)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “ব্যবহার” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১৩৬ – ১৫৪ পর্যন্ত মোট ১১২ টি বাণী রয়েছে। ১- ৫০ নং বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

নিতে চায় দেয় না 
তা'র হাভাত যায় না । ১।
দিতে যে পারে না
পাওয়া তা'র ঘটে না। ২।
যতর স্বার্থে স্বার্থবান্ 
ততই বড় তাহার মান । ৩।
বাঁচ তুমি দানে যা'দের
আগেই মোছ অভাব তা'দের । ৪।
বলার ভিতর ভাল যা' তা'য়
ফলিয়ে তুলিস্ বাস্তবতায় । ৫।
বাঘ-নখেতে ধরবি তা'ই
বিবেক-বলে করবি যা'ই। ৬।
ঘৃণা, লজ্জা, মান, অভিমান
ভয়-আদিরে বিদায় দিয়ে,
প্রেষ্ঠস্বার্থে ওঠ্ রে ফুটে
প্রাণনধারায় উচ্ছলিয়ে । ৭।
পারিপার্শ্বিক হৃদয়গুলি 
প্রেষ্ঠে বেঁধে তোল্,
উপভোগে অঢেল হ'বি
নিত্য নবীনভোল। ৮।
নিজেই বুঝে হ'তে রে পাকা
ধাক্কা খেতে হবেই অনেক,
বহুদর্শীর হাত ধ'রে তাই
দূর করিস্ তোর শঙ্কা যতেক । ৯।
সব কথারই বাঁক যদি রয় 
আবেদনী ঠারে,
সেইতো ভাল ঘাত লাগে না
কা'রও অহঙ্কারে। ১০।
চাকর-বাকর-মজুর প্রতি 
মেজাজ-চলন যেমনই,
স্বভাবতঃ জানিস্ লোকের
প্রকৃতি প্রায় তেমনই। ১১।
অনুরোধী আবেদনে
আদেশ দিতে হয়,
এই স্বভাবের এস্তামালে
গায় লোকে তা'র জয়। ১২।
স্বার্থক্ষুধ অবহেলা
অকৃতজ্ঞ ব্যবহার,
প্রিয়জনার হৃদয়খানি
বিষিয়ে আনে হাহাকার। ১৩।
আবেগভরা গুণগ্রাহিতার
তৃপ্ত দীপনসুর,
মন-মানুষের আকর্ষণে
করেই ভরপুর। ১৪।
বাঁচাবাড়ার বিরোধ-নীতি 
উগ্রমুখী দেখতে পেলে,
দাপট-বাধায় রুখিস্ ধীমান
প্রজ্ঞা, শৌর্য্য, দীপ্তি জ্বেলে । ১৫।
কাউকে দুষে ক'সনে কথা
ইষ্টে দ্বেষ না হ'লে,
দুষলেও এমন বলিস্ নাকো
বর্দ্ধনা যায় দ'লে। ১৬।
উপকারের আশায় যদি 
দেয় কিছু কেউ তোরে,
নিলেই তাহা করবি তাহার
সৎদীপনায় ভ'রে। ১৭।
বলবে ব'লে ভাবছ যাহা
ত্বরিত ভেবে ফলাফল,
সুফল পেতে সুকৌশলে,
বলতে পেলেই পাবি বল । ১৮।
ইষ্টানুগ সংহতিকে
বজায় রেখে সর্ব্বথা,
সব ব্যাপারেই সকল কাজে
হিসাব ক'রে কস্ কথা । ১৯।
একটু ক'রে ধীর-চলনে
হয় না অভ্যাস এস্তামাল,
অমনতর চললে বাড়েই
ব্যর্থ-বেফাঁস কুজঞ্জাল;
যা' করবি তুই, বুঝলে মনে
এক ঝাঁকিতে কর্ তাহা,
সমানে চল্ সেই চলনে
এমন চলাই ঠিক রাহা। ২০।
বৈদ্যে রুষ্ট করেই যা'রা
বাক্যে আর ব্যবহারে,
ব্যাধির বালাই বয়ই তা'রা
কষ্ট দিয়ে রোগী মারে। ২১।
শিষ্টাচারে শঠ-প্রতারক
না-ই যদি হয় জয়,
তুল্য ভয়াল সংঘাতে কর্
শাঠ্যবুদ্ধি ক্ষয়। ২২।
যেমন আসুক বাধা মন্দ—
প্রত্যুৎপন্নবুদ্ধি দিয়ে,
দূরদৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে
নিবিই শুভে মোচড় দিয়ে । ২৩।
আগের বলা-করার সাথে
পিছের যদি বেমিল হয়,
সামঞ্জস্য-সার্থকতায়
এনেই করবি শুভময় । ২৪।
শত্রু কেউ তোর হ'তে পারে
দেখলে মনে জানি,
আগেই মিত্র করবি তা'রে
সেবা-সম্বেদ দানি'। ২৫।
ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠা তোর 
বাঁচাবাড়ার সূত্র ধরি,'
সব ব্যাপারে এই চলনে
সার্থকতায় উঠবে ভরি'। ২৬।
বিশেষ-কিছু করতে গেলেই 
জিজ্ঞাসি' নিস পাঁচজনে,
উপায়টিও নিস্ শুনে তুই
উদ্দেশ্যটি সম্পূরণে:
আত্মম্ভরীর বিরাগ হ'তে
রেহাই পাবি নিছক ওতে,
সমর্থনে থাকবে মানুষ
রাখিস্ এটা ঠিক মনে। ২৭।
যে-কাজে যা'য় ভার দিবি তুই 
স্বাধীনভাবে বাড়তে দিস্,
করার পথে বেচাল শুধু
কড়া নজরে তাড়িয়ে দিস্। ২৮।
উপকারে উছল হ'য়ে 
আত্মপ্রসাদ-মনে,
দেয় যদি কেউ নিস্ তাহা তুই
বিনীত সম্ভাষণে । ২৯।
অত্যাচারের সায় দিতে কেউ
মিনতি করে যদি,
লুব্ধ ক'রে চাহেই দিতে
রুধিস্ তাহার গতি। ৩০।
দুই পক্ষকেই বুঝে-সুঝে
করিস্ মতের নির্ণয়ন,
মন-গড়া একপেশে বুঝে
ঘটায় কিন্তু অঘটন । ৩১।
বৃত্তিতাড়ায় আগল-পাগল 
স্বভাব যা'দের সাম্য-ভাঙ্গা,
সহিস্-বহিস্ নিয়ন্ত্রণে
উৎচেতনে রাখিস্ চাঙ্গা;
এই চলনে স্বভাব রেখে
সব সময়ই চলিস্ যদি
বিরাগভাজন কমই হ'বি
থাকবি শ্রেয়ে নিরবধি। ৩২।
যেমন প্রাণে যা' দিবি তুই 
তেমনি দেবার অনুসৃতি
হবে লোকের জানিস্ খাঁটি,—
দুনিয়ারই এই প্রকৃতি। ৩৩।
বাদ-প্রতিবাদ স্বার্থবিবাদ 
ঘটেই যদি জীবনটাতে,
যত পারিস্ ত্বরিত-ঝটিত
চেষ্টা করিস্ তা' মেটাতে;
তা'তেও যদি নাই মেটে গোল
ন্যায় ও প্রমাণ দৃঢ় থাকে,
বিরোধ ছেড়ে ন্যায়-বিচারে
মিটাস্ গিয়ে শত্রুতাকে। ৩৪।
মন্দরে তুই নিরোধ করিস্ 
সম্ভব যদি হয়,—
প্রতিক্রিয়ায় মন্দই আসে
নিরাকরণে জয়। ৩৫।
পরের কুশল দক্ষতাকে 
ক'রে যা'রা খর্ব্ব,
খাটে আত্ম-প্রতিষ্ঠাতে—
কুহকে খায় সর্ব্ব। ৩৬।
যতই ভাববে তোমারে কেউ
বোঝে না বা খতায় না,
বুঝবে তোমার চিন্তা-চলন
তা'দের কিছুই জোগায় না। ৩৭।
সাক্ষী-প্রমাণ মিলবে যাহা 
মেনে নিয়ে তাই
দেখবি তাহার কোনটা কিতক
সমীচীনে নাই;
উচিত যা' তার ভুলপ্রমাদে
কিংবা বিক্ষেপতায়
ছিন্ন হ'লেও নিবি তাহা
এলে সার্থকতায়,
বিরুদ্ধ যা' তাৎপর্য্যে তা'র
অর্থ-বাস্তবতায়,
মিল না হ'লে দেখবি ভেবে
কী পর্য্যায়ে ধায়;
সামঞ্জস্যে এনে এ-সব
যথার্থতার ছবি
কল্পনাতে দেখলে এঁকে
প্রায় নিশ্চয় হ'বি। ৩৮।
শ্রেষ্ঠ কিংবা শ্রেষ্ঠ বর্ণের
প্রণাম নিতে নেই,
এটি হ'ল নিছক জানিস্
অধঃপাতের খেই। ৩৯।
উভয়পক্ষ জেনে-শুনে
সৃষ্টি ক'রে মতবাদ,
চলায়-বলায় করবি তেমন
নইলে ঘটে ঘোর প্রমাদ । ৪০।
নেবার বেলায় আত্মীয়তা
দেবার বেলায় নয়কো কেউ,
চাটুর মত ফেরেই তা'রা
বাঘের সঙ্গে যেমনি ফেউ । ৪১।
কটু কথা এলেও মনে 
কিংবা মন্তব্য,
বলিস্ না তা', বলতে হ'লেও
বলবি সুভব্য। ৪২।
আপন-করা আপ্যায়িতে 
সুষ্ঠু-চতুর ব্যবহারে,
শত্রুকেও করলে সেবা
চলবে জীবন দীপ্তি-ভারে। ৪৩।
দুষ্ট হ'লেও নিসনে সে-দোষ
ইষ্টস্বার্থে যদিই চলে,
বিনাশ আনে মিথ্যা যা' তা'
রুখবি পারিস্ যে-কৌশলে। ৪৪।
তা'র অবস্থায় পড়লে তুমি
কী কর না জেনে,
দোষ দিও না কা'রও তুমি
নিও না তা' মেনে । ৪৫।
যে-কথাটি আসছে মনে 
ত্বরিত ভেবে পূর্ব্বাপর,
বললে তাহা সুকৌশলে
চলায় হ'বি সুতৎপর । ৪৬।
বঞ্চনারই কুটিল প্রেমে
চাস্ যদি তুই অব্যাহতি,
যা'কে দিয়ে পুষ্টি রে তোর
পুষ্টিতে তা'র রাখ মতি। ৪৭।
বকলমা যদি না-ই দিস্ 
নকল সাধু সাজিস্ না,
সাধু সেজে গুরু হ'য়ে
মানুষ নিকেশ করিস্ না। ৪৮।
না লুকিয়ে যেখানে যা'
ভালয় খাটে জানিস,
তেমনি ক'রে বিবেচনায়
সেখানে তাই বলিস্,
এমনিতর চলন নিয়ে
যতই চলতে পারবি,
নিরুদ্ধ তোর মনটি খুলে
ঋজুই হ'তে থাকবি। ৪৯।
কাউকে যদি বলিস্ কিছু
সংশোধনের তরে,
গোপনে তা' বুঝিয়ে বলিস্
সমবেদনা-ভরে। ৫০।