ব্যবহার নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড (৫১-১১২)

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “ব্যবহার” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১৩৬ – ১৫৪ পর্যন্ত মোট ১১২ টি বাণী রয়েছে। ৫১- ১১২ নং বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

ঋণ কা'রও তুই ক'রে থাকলে
রাখিস্ মনে এই চলাটি,
চাওয়ার আগেই নজর রেখে
ফিরিয়ে তা'রে দিবিই খাঁটি । ৫১।
কুৎসা-কুজ্ঝটিকায় কি হয়
জ্ঞানের আলো বিচ্ছুরিত?
তাচ্ছিল্যেরই ফট্কা মেরে
কুৎসা করিস্ বিদূরিত । ৫২।
ষড়যন্ত্র হ'চ্ছে বুঝে
তোর বিরুদ্ধে হ'য়ে রুষ্ট
ভেবে দেখবি তা'র মূলে কে?
তা'কেই গিয়ে করবি তুষ্ট। ৫৩।
এমনভাবে ঋণ দিস্ তুই
যেন সইতে পারিস্,
না পেলেও তোর হয় না ক্ষতি
তা'কেও তুলে ধরিস্। ৫৪।
বাধাই যদি হ'স্ রে তুই
খারাপ কিছু অন্যায়ের,
এমন ক'রেই বাগিয়ে নিস্ তা'
পথ না থাকে তোর ক্ষয়ের। ৫৫।
কা'রও কিছু অনিচ্ছায় তা'র
করতে অধিকার
সখের উপর জুলুম ক'রে
করিসনে আব্দার;
জবরদস্তির ফলেতে তুই
দুঃখ পেয়েই যাবি,
বেকুব চলায় সমবেদনার
কা'রেও কি তুই পাবি? ৫৬।
ওরে ঋণী, আয় রে কাছে
আমার কথা শোন,
ধার করলেই শোধ দিও তা'
কমিয়ে প্রয়োজন। ৫৭।
উপকারী ভুল ক'রেও তোর
করলে অপকার,
তোর যা' কথা বলিস্ তা'রে
কু করিস্ না তা'র। ৫৮।
লোকে যা'রে শ্রেষ্ঠ মানে 
তা'রেও কিন্তু তুই মানিস,
যা'তে শ্রেষ্ঠ সে হয়েছে
সেবায় তাহার সেইটে নিস্। ৫৯।
তোমার করার অনুকম্পায়
কেউ যদি না দিত,
চালবাজি আর বাহাদুরী
কোথায় তোমার রইত ? ৬০।
যে তোরে রে দিয়েই বাঁচায়
নিজের করার ফলটি রেখে,
না দিয়ে তাঁ'য় খাসনে কিন্তু
দিস্ তাঁ'রে নিজ খাবার থেকে। ৬১।
আয় বুঝে ব্যয় না ক'রে তুই
ব্যয়ের বহর বাড়িয়ে নিলি,
সংস্থিতিকে কুড়ল মেরে
বৃদ্ধিরে তোর চুলোয় দিলি । ৬২।
জীবিকা-নির্ব্বাহভার
করিয়া গ্রহণ,
পোষণ-পালনে পুষ্টি
দেন যেই জন;
তাঁ'কে সেবি' বিনিময়ে
করিলে গ্রহণ;
দক্ষতা লাঞ্ছিত হয়
নিশ্চয় বচন। ৬৩।
ছোট্ট যা'রা স্নেহভরে 
আপ্যায়িতে আপন রাখিস,
উন্নয়নী ব্যবহারে
যত পারিস্ তাদের বহিস্। ৬৪।
ইষ্টভ্রাতা খারাপ হ'লেও
নজর রাখিস্, দেখিস্ তা'য়,
অন্যে যেন দলতে নারে
ক্রূর-কুটিল ধৃষ্টতায়। ৬৫।
লোক-সমক্ষে বললে যাহা
সবাই পায় সুফল,
বুক ফুলিয়ে এমন কথা
যতই পারিস্ বল। ৬৬।
বিশ্বাসঘাতক কৃতঘ্নতার 
দেখলে ঘৃণ্য চাল,
বলবি সবায় জ্বলনদ্রোহে
রুখবি হামেহাল। ৬৭।
তুই না হ'লে চলে না কা'রও
বাগে ফেলে জানিয়ে দেওয়া,
হামেহালই এ কসরতে
তিক্তে জীবন, ব্যর্থ পাওয়া। ৬৮।
মানুষের মন-বৃত্তিভূমে
কোন্ কথাটি কেমন গড়ায়,
সেই দিকে তুই নজর রেখে
কহিস্ কথা সেই দাঁড়ায় । ৬৯।
গুরুর প্রতি টান ক'মে যায়
এমন সঙ্গে হুঁশিয়ার,
সর্ব্বহারা ঘিরবে নইলে
ক্ষয়ে নিকেশ দুর্নিবার। ৭০।
আপন-করা সমবেদনার
সুরটি ফুটে উঠলে,
সেই সুরেতে শাসন করিস,
শান্তি হবে—বুঝলে? ৭১।
আপদ-বিপদ হ'লে কারও
করছে মানুষ দেখলে ঢের,
ভিড় করিসনে, লক্ষ্য রাখিস্
তামিল কর্ প্রয়োজনের;
সবাই মিলে হট্টগোলে
করার বেগে ধাস্ যদি,
করা হবে না, পণ্ড হবে,
নষ্ট হবে তা'র গতি। ৭২।
পূরণ-প্রবণ বর্ত্তমানে 
করলি বাতিল হেলার সুরে,
পূর্ব্বঋষির সব-কিছু যা'
দিলিই ফেলে আস্তাকুঁড়ে;
পূরণ-প্রবণ বর্ত্তমানে
পূর্ব্বতনে যদি দেখিস্,
পূর্ব্বতনে আগে ক'রে
বর্তমানই পাবি জানিস্ । ৭৩।
পূর্ব্বমহান বাতিল ক'রে
বাহাদুরী করতে বাহাল,
যতই বড় হোক না রে সে
ধরিস্ নাকো তা'র নাগাল । ৭৪।
ঋণের তাগিদ এলে পরে
ফিরানে তা'য় খালি হাতে,
যেমন থাকিস্, পারিস্ যদি
ক'রেই দেখ্ না কী হয় তা'তে। ৭৫।
গোপন কথায় যাসনে কোথাও 
না ডাকলে কেউ অনাহুত,
লুকিয়ে শুনলে গোপন কথা
মিথ্যা যে পাপ হয় অযুত। ৭৬।
কা'রও যা'তে ক্ষতি না হয়
এমনি ক'রে সব জনায়
বাড়িয়ে দিয়ে তুলবি পদে,—
পদ দিলে তা' পাওয়াই যায়। ৭৭।
কা'রও কোন ন্যায্য মতে
দিস্ না কোন বাধা,
অমিল হ'লেও বুঝিয়ে বলিস্
যে-বোধটি তোর সাধা। ৭৮।
ওরে বেকুব নিন্দা ক'রে
হ'তে চাসনে বড়,
নিন্দুকের তুই সেরাই হ'বি
এই কথাটিই দড়। ৭৯।
ব্যথার কথা বললে রে কেউ 
শুনিস্ আগ্রহ নিয়ে,
যেটুকু পারিস্ মুক্ত করিস্
সার্থক-সেবা দিয়ে। ৮০।
তোমার ভাল যেমনি দাঁড়ায়
পড়শীদের উপর,
তা'দের ভালও অনেকাংশে
তোমার করার 'পর। ৮১।
কেউ না কেউ দেয় ব'লেই তোর
জীবন-চলনা সম্ভব হয়,
না পেলেও কি পারতিস্ বাঁচতে?
কোথায় যেতিস্ হ'য়ে ক্ষয়। ৮২।
ধর্ম্মপথে ন্যায়পরতায়
সাম্য দোলে হাসিমুখে,
সাম্যে থাকা হরেক রকম—
ভাঙ্গলে জীবন যায়ই দুখে। ৮৩।
কথা কইবে গুড়ের মত
লেপ্টে র'বে গায়,
মিষ্টি কথাও শক্ত হ'লে
উল্টো পানেই ধায়। ৮৪।
কাউকে আপন করতে হ'লেই
আপন-আপন ভাববি তা'য়,
সপক্ষে তা'র করবি-কইবি
দেখবি দোষ তা'র উপেক্ষায়। ৮৫।
ব্যক্ত ক'রো বাঞ্ছিত যা'
বাক্যে এঁকে ভঙ্গীভরে,
স্নেহল-দৃষ্টি গুণগ্রাহিতায়—
তা'তেই লোকের হৃদয় হরে । ৮৬।
প্রীতিপূর্ণ মেলামেশা 
দীপন-মধুর বাণী,
শ্রদ্ধোদ্দীপী অনুচর্য্যা
হৃষ্ট করে প্রাণী। ৮৭।
কথা কইবি এমনভাবে
উত্তর পাবি ঈপ্সিত,
দক্ষবাচী এমন হ'লেই
কৃতার্থে তুই উন্নীত। ৮৮।
প্রেষ্ঠ-স্বার্থ কোন্ কথাতে
কেমন চলন ব্যবহারে,
নজর রাখলে এমন চলায়
শ্রেয়ই কিন্তু পায় তা'রে। ৮৯।
চাহিদা মাফিক ব্যবহারটি
চলা-বলা তেমনিতর,
হাওয়ার তালে পা-টি ফেলে
চলাই হচ্ছে বুদ্ধি দড়। ৯০।
বয়স বেশী দেখবি যেথায়
দিবিই সেথায় যোগ্য মান,
সম্বন্ধ আর বর্ণ-শ্রেষ্ঠে
করবি যোগ্য শ্রদ্ধা দান। ৯১।
সৎ যা' তা'কে করতে কায়েম
করিস্-কহিস্ যা',
সবই হবে ধৰ্ম্মপ্রদ
খাঁটি জানিস্ তা'। ৯২।
জলদ-তালে কইবে কথা
বুঝ-দীপনায় সমঝাভাবে,
কইবে যা' তা' স্বল্পক্ষণে—
এমনি কওয়ায় তৃপ্তি পাবে। ৯৩।
তোড়ের রোখে এক ঝাঁকিতে
উদ্বোধনায় উন্নতি,
চারিয়ে যদি নাই দিলি তোর
প্রত্যয়ের কী হিস্মতী ? ৯৪।
খুঁচিয়ে কিংবা উপেক্ষাতে 
শত্রুতাকে বাড়িও না,
মুগ্ধ রেখো তোমার পানে
দিয়ে শুভ-বর্দ্ধনা। ৯৫।
যে-চাহিদায় যেই না আসুক
বুঝলে সমীচীন,
ফুল্লদানে করবি তা'রে
তৃপ্তি-সমাসীন। ৯৬।
যেথায় দেখবি দ্বন্দ্ব নেহাৎ
এটা ঠিক কি ওটা ঠিক,
সামঞ্জস্য হয় যাহাতে
বিনিয়ে ধরবি তেমনি দিক। ৯৭।
গুণগরিমায় আঘাত দিয়ে
কসনে কথা সম্ভবমত,
অনুরোধী আবেদনের
সুরে কথা ক'স্ নিয়ত । ৯৮।
নিন্দা কা'রও শুনলেই তা'
ভাবিস্ নাকো নেহাৎ ঠিক,
ভজালে বা খতালেই তা'
বাস্তবে প্রায় হয় অলীক । ৯৯।
ভুল কিংবা আক্রোশে কেউ
করলে দোষারোপ,
তড়িঘড়ি বুঝ-প্রমাণে
করবি তা'র বিলোপ । ১০০।
মিত্রকেই যে শত্রু করে
উপকারীর অপকার
বিশ্বাসঘাতক হয়ই সে
নরক তাহার দুর্নিবার। ১০১।
মিষ্টি সরস ভরসা-ঘেরা
সেই কথনই জানিস সেরা। ১০২।
ভালই যদি বাসবি কা'রও
শোন্ কী কইতে চাই,—
ভাবিস্-বলিস্-বাসিস্ ভাল
কাজেও করিস্ তাই। ১০৩।
কাম-কুহেলে পড়িস্ যখন
আমার কথা শোন্—
মাতৃচিন্তা-বিভোর হ'য়ে
সৎকাজে দিস্ মন। ১০৪।
দোষ দিয়ে দোষ করবি ক্ষালন
এমনি বেকুব তুই?
দোষ দিয়ে দোষ মাজলে পরে
দোষ বাড়ে শুধুই। ১০৫।
দোষেরে তুই করবি ঘৃণা
দোষীরে কিন্তু নয়,
এই কথাটি রাখিস্ মনে
হ'বি রে নির্ভয়। ১০৬।
নেবার বেলা আপন বল
দেবার বেলা পর,
এ স্বভাবটি থাকলে পাবে
অপঘাতের বর। ১০৭।
যা'র কাছে তুই পেলি, পাগল।
তা'রেই আগে পুরণ কর,
তাই যদি রে করতে পারিস্
তবেই সত্যি স্বার্থপর। ১০৮।
তোমার অভাবে দিচ্ছে যা'রা 
তা'দের কেন দিচ্ছ না,
এমনি যদি চলতে থাক
মুক্ত-বিপাক হ'চ্ছ না। ১০৯।
আলস্য আর দোষদৃষ্টি
থাকে যদি তোর,
দুঃখ-আঘাত-অবসাদে
হ'বি রে বিভোর। ১১০।
নটের মতো চল্ ওরে তুই
ভবরঙ্গ-মঞ্চমাঝে,
ইষ্টস্বার্থ রাখতে অটুট
কর্ অভিনয় তেমনি ধাঁজে । ১১১।
অন্যায়ী যে অত্যাচারী 
ব্যাঘাত আনে উন্নতিতে,
রুদ্ধ করিস্ শক্তি দিয়ে
বুদ্ধি-বিচার-সংবিধিতে;
ণ-স্বরূপা ব'লেই জানিস
নিজ প্রসূতি জননীরে,
বর্দ্ধনে তাই থাকিস্ সজাগ
বাঁচাবাড়ার নীতি ঘিরে;
রঙ্গিল থাকিস্ ইষ্টপ্রাণে
স্বার্থে তাঁহার প্রতিষ্ঠাতে,
ণত্ব-জ্ঞানের হবেই উদয়
ঝলসে যাবে জগৎ তা'তে। ১১২।