লোকচরিত্র নিয়ে অনুশ্রুতি ১ম খন্ড

অনুশ্রুতির ১ম খন্ডে “লোকচরিত্র ” শিরোনামে পৃষ্ঠা ৫১ – ৫৮ পর্যন্ত মোট ৪৬ টি বাণী রয়েছে। বাণীসমূহ নিচে দেয়া হলো।

অভ্যাস-ব্যবহার 
ঝোঁক আর রোখ,
দেখেই বুঝবে
কেমন লোক। ১।
যেমন প্রাণে যা' দিবি তুই
পাওয়ার বেলাও তেমনি,
ভরদুনিয়ার মুখ্য স্বভাব
নিছক জানিস্ এমনি । ২।
কী হবে তোর কী পাবি তুই 
কোথায় কাহার সকাশে,
মিলিয়ে দেখিস্ লেখা আছে
ঝোঁক-ব্যবহার-অভ্যাসে । ৩।
নিছক জানিস্ সজ্জনেরে
ফেলতে বেঘোরে,
স্বার্থ-লোলুপ ইতর যা'রা
ওৎটি পেতেই ঘোরে,
সৎ-চলনের সুযোগ নিয়ে
ফেলতে তা'দের বাগে,
ধাপ্পাবাজির ফিকির-প্যাঁচে
মিথ্যা কুটিল রাগে,
অবাধভাবে ফন্দী হাসিল
হবেই মনে মানি',
অত্যাচারের আবহাওয়াতে
রাখেই তাদের টানি';
দক্ষ নজরে একটু দিয়েই
বুঝে-সুঝে নিয়ে,
সৎ-জনেরে রক্ষা করিস্
হৃদয়-শোণিত দিয়ে। ৪।
বুঝিস্-সুঝিস্ সবই বলিস্
মত্ত নিয়ে হামবড়াই,
ধরা-করার ধার ধারিস্ না,
নরকের তোর নাই রেহাই। ৫।
শোনা-কথার চশমা প'রে
যা'রেই কেন দেখিস্ না,
সহজ জ্ঞানটি সেলাম ঠুকে
চম্পট দেবে বুঝিস না?। ৬।
পুষ্টিদাতার পোষণে নাই
পরাণ-কাড়া চেষ্টা,
মৃত্যুই তা'র বন্ধু কেবল
নাজেহাল শেষটা । ৭।
সন্দেহ তোর যত
সঙ্কোচও তাই তত । ৮।
চরিত্র যা'র নিখুঁত চলায়
উন্নতিতে আগুয়ান,
দরিদ্র সে হোক না যতই
মানুষ নিছক লক্ষ্মীবান । ৯।
হুকুম করতে প্রয়াস যা'দের
তামিলে অপমান,
সহবাসে এদের জানিস্
নষ্ট কর্মপ্রাণ। ১০।
নামে কাউকে করলে বড়
সত্তা বড় হয় না তা'র,
অভ্যাস-ব্যবহার-দক্ষতাতে
বাড়িয়ে তোলা মহিমার । ১১।
টাকার জন্য বান্ধবতা—
ঘটায় শত্রু সে মুঢ়তা । ১২।
শত্রু যে তোর তা'রেও যদি
কোন নিমকহারাম,
মিথ্যা নিন্দায় সমর্থন চায়,
তাও জানিস্ হারাম। ১৩।
মিত্রদ্রোহী কৃতঘ্ন যেই
বিশ্বাসঘাতক,
জানিস্ তা'র আছেই কিন্তু
অনন্ত নরক। ১৪।
যে-চরিত্র নিয়ে যাহার
যেমন অবস্থিতি,
বুঝে নিস্ তুই খাঁটি কথা
তাহাই প্রকৃতি;
প্রকৃতি তা'র যেমন চালায়
চলনও হয় তেমনি,
ভালই হউক মন্দই হউক
অবস্থা তা'র অমনি । ১৫।
কৰ্ম্ম ধরে যে যেমন
সংস্কারী ঝোঁক তা'র তেমন,
কৰ্ম্ম ক'রে ভাটায় বয়
পাওয়ায় ঝোঁক, কর্ম্মে নয়। ১৬।
সন্ধিৎসাটির অভাব যেথায়
বাড়ার বুদ্ধি খতম সেথায়। ১৭।
বাঁচাবাড়ার সন্দীপনা
যা' হ'তে তুই পাচ্ছিস্ অত,
তা'র প্রতি নাই সমবেদনা
করছিস্ নারীর দরদ যত?
এর মানে কি জানিস্ রে তুই?
লুকিয়ে আছে মনের কোণে
কামদুষ্টির পুতিগন্ধ
ভ'রে আছে তোর গোপন-মনে। ১৮।
শোনা-কথায় মন টলে যা'র
ভেবেই যা'দের মন দ্যাখে,
প্রত্যক্ষেতেও অনাস্থা যা'র
কানেই যা'রা চোখ রাখে;
মিত্র রুষ্ট আপদ-দুষ্ট
পাওয়ায় পড়ে বাজ,
দুনিয়া তা'দের টিটকারী দেয়
সাজায় হোলির রাজ । ১৯।
চাওয়ায় দড়, কাজে ঢিলে,
আপসোসী কথন,
এমন স্বভাব যে-মানুষের—
দুঃখ অনুক্ষণ। ২০।
টাকার কথায় বেপরোয়া
চালে বিরাট ধনী,
উপার্জনে ফক্কাবাজি
প্রতারণার খনি। ২১।
আলিস্যির বসবাস
আছে যা'র ঘরে,
দুঃখমাখা অবসাদ
রহে তা'র তরে । ২২।
'না'-এর সাথে কুটুম্বিতা
রাখিস্ যদি তুই,
নিছক হ'বি লক্ষ্মীছাড়া
ধ্ব'সে যাবে ভুঁই। ২৩।
শ্রেষ্ঠপূজক নিবিড়নিষ্ঠ
গুণ্ডাদাপট ঢের ভাল,
এদের চলন সাহস-পায়ে
বীর্য্যতপায় দেশ আলো । ২৪।
সৎ-কথাতে দত্যিহানা
মন অবাধ্য হয়,
এমন যা'রা—নয়কো ভাল,
ক্ষয়েরই গায় জয়। ২৫।
উচ্চে অবজ্ঞা দেখবি যেথায়
হীনবংশ জানিস্ সেথায় । ২৬।
কথায়-কাজে দেখবি যেমন
মানুষকে তুই বুঝবি তেমন । ২৭।
অমুক হ'লেই দেখে নিতাম
ঈর্ষ্যা-ঠাট্টায় কয়,
জানিস্ তাহার গোপন মনে
ইতর অহং রয়। ২৮।
পুরণ-গড়ন কাজ-কথনে
যেমন যাহার মিল,
লোকটা মূলে তেমনি জানিস্
নাইকো ভুল একতিল। ২৯।
চলা-বলাই ব'লে দ্যায়
কেমন মানুষ কীই বা চায়। ৩০।
কৃতজ্ঞতায় তৃপ্ত থাকে
স্বল্পে সুখী হয়,
কী করবে তার অবসাদে?
নিত্য সে অভয়। ৩১।
কত অল্পে কত বেশী
করতে পারিস্ আয়,
এইটে দেখেই পারগতা
লোকের বোঝা যায়। ৩২।
সাশ্রয়ী সুন্দর দক্ষ কাজে
লোকটি নেহাৎ নয়কো বাজে । ৩৩।
স্বল্পে সুন্দর সচ্ছল জীবন
বাঁচাবাড়ায় সেই সুশোভন । ৩৪।
জীবন যা'তে উচ্ছলতায়
হৃষ্ট হ'য়ে ফোটে,
সার্থকতায় আত্মপ্রসাদ
সেথায় গিয়েই জোটে । ৩৫।
সুখ-উচ্ছ্বাস প্রেম-দীপনায়
সম্পদে কাছে রয়,
দুঃখ-বিষাদে দূরে স'রে যায়
সে-জন আপন নয়। ৩৬।
উপযুক্ত নয় যে যা'তে
দাবি-দাওয়া করেই তা'তে। ৩৭।
স্বার্থ-ব্যাঘাত সুখ-সম্পদ
দুঃখ-সঙ্কটে,
আগলে ধ'রে দাঁড়ায় পাশে
আপন সে বটে। ৩৮।
শক্তি দিও করতে পারি
তোমার সেবা-বর্দ্ধনা,
কৰ্ম্মহারা এ প্রার্থনায়
লুকিয়ে আছে 'পারব না'। ৩৯।
অর্জ্জনে পটু সাশ্রয়ী কাজে
সুন্দরে সমাপন,
এই দেখে তুই চিনবি লোকের
দক্ষতা কেমন। ৪০।
সব-কিছুতেই দেখতে যে পায়
গুরুর দয়ার কেরদানি,
ইষ্টস্বার্থে অটুট হ'য়ে
আপন স্বার্থ তাই জানি',
চলনই যা'র এমনতর
যতই করুক শয়তানী,
সাধুর সেরা তা'কেই জানিস্
সেবামুখর তা'র প্রাণই। ৪১।
তোমায় সুখী করবোই আমি
কেন, তা' কি পারব না?
দ্বন্দ্ব-আকুল এমনি কথার
অন্তরালে আছেই 'না'। ৪২।
তামিল-বুদ্ধি দক্ষ-পটু
হুকুম-দাবীর প্রয়াস নাই,
পণ্ডিত ব'লে তা'রেই জানিস্
সিদ্ধিদাতা সেই জনাই । ৪৩।
সাশ্রয়ী চলনে শীঘ্র করে
      সুন্দর নিপুণ কর্ম্মী,
বিদ্যাবত্তার লক্ষণই ওই
      আসল বিদ্বৎধর্ম্মী। ৪৪।
কাজে-কথায় প্রেষ্ঠ-স্বার্থী
        উদ্দেশ্যে অমোঘ গতি,
সাশ্রয়ী নিপুণ অর্জ্জন-পটু
       স্বার্থে শিথিল রতি;
এইগুলি সব দেবলক্ষণ
       দেখবি চরিত্রে যা'র,
সেই তো জানিস্ স্বভাব মানুষ
       বীরের হৃদয় তা'র । ৪৫।
ধরন-ধারণ যেমন যাহার
তরণ-তারণে সে তেমনই,
ব্যক্তিত্ব ফোটে আচার-ব্যাভারে
নিষ্ঠা-প্রত্যয় যেমনি । ৪৬।