শিক্ষা নিয়ে অনুশ্রুতি ২য় (৫১ – ৯৫)

অনুশ্রুতির ২য় খন্ডে “শিক্ষা” শিরোনামে পৃষ্ঠা ১২৩ – ১৩৯ পর্যন্ত মোট ৯৫ টি বাণী রয়েছে ।
নিচে ৫১ – ৯৫ নং বাণীসমূহ দেয়া হলো।

বোধ যখনি নিষ্পাদনে
অভ্যস্ত ক'রে তুলবে,
প্রকৃতি তোয় বুধ-তকমায়
দুনিয়ার কাছে ধরবে। ৫১।
আবৃত্তি যদি বোধ না আনে
অনুশীলনী কর্ষণায়,
বাস্তব বোধ কোথায় পাবি
শুধু কথার বর্ষণায় ? ৫২।
স্বাস্থ্যকৃতি তপ-ঊর্জ্জনা
বাড়ে যা'তে করবি তা'ই,
নিষ্ঠানিপুণ শিষ্ট চালে
পায় না এমন কিছুই নাই । ৫৩।
জ্ঞানার্জ্জনের বাঁধ রাখিস্ নে
যত পারিস্ সুযোগ কর,
উচ্চ বিদ্যা যেমন হোক্ না
গৃহস্থালীত্ পারিস্ ধর। ৫৪। (গৃহস্থালীত্ = গৃহস্থালীতে)
নীরস কিংবা সরস পর্য্যায়ে
শিক্ষা দিতে বেছে নিও,
যেমন ঝোঁক যা'র তেমনি ক'রে
কৃষ্টিপথে তুলে দিও। ৫৫।
জন্মগত এক পর্য্যায়ে
নীরস-সরস আছে যা'রা,
ন্যাক্ বুঝে তা'র নিয়ন্ত্রণে
বাড়িয়ে তুলিস্ পারার ধারা। ৫৬।
সত্তাস্বার্থী অনুশীলন
সঙ্গতিশীল সকল দিক্,
অর্থান্বিত বাস্তবতা—
সহজ পণ্ডিত সেই তো ঠিক। ৫৭।
অধ্যাপক-নিষ্ঠাবিহীন,
ধৃতি-আচরণ নাইকো যা'র,
ইষ্টনিষ্ঠা ভাঙ্গে-গড়ে
উদ্বর্দ্ধনা কোথায় তা'র ? ৫৮।
নিষ্ঠাবিহীন যে অধ্যাপক
চরিত্রের সু-জেল্লা নাই,
নীতি-আচার পালে না যে—
শিক্ষার্থী পাবে কোথায় ঠাঁই । ৫৯ ।
চারু-যুক্তি, ভাব-শুদ্ধি,
সত্তাসাধী অভিযান,
চিন্তাচলন ক'রে বিনায়ন,
আসল কবির সেই তো স্থান। ৬০।
বাস্তব যা' দেখে-বুঝে 
বিশ্লেষণ আর সংশ্লেষণে,
বুঝে-সুঝে সাবুদ চলায়
হ'বি বিজ্ঞ বিজ্ঞানে। ৬১।
ভুল ক'রে যে খায়নি ধমক
পায়নি কোন লাঞ্ছনা,
ভুল তাহারে ভুলিয়ে নিয়ে
করেই জ্ঞানে বঞ্চনা। ৬২।
বই-পুস্তকে তত্ত্ব শেখা
হয় না বইয়ের পাতা খুঁজে,
বাস্তব জ্ঞান পেতে হবে
তথ্যটাকে জেনে-বুঝে। ৬৩।
বুঝ-সুঝ আর লেখাপড়া
জ্ঞানের পথে নয় বাজে,
জীবন-চাষে যা লেগে তুই
হাতে-কলমে ক'রে কাজে। ৬৪।
হাতে-কলমে ক'রে জানা
সেই জানাই তো জ্ঞান-অর্জ্জন,
বিন্যাসে যা' আসেই বশে
কর্ তেমনই আয়োজন। ৬৫।
আত্মিক গতির যে-কল্পনা
ধাইয়ে ধৃতি উস্কে ধরে,
কৃতি-তপে সুঠাম হ'লে
জ্ঞান-ঊর্জ্জনা উপচে পড়ে । ৬৬।
শোন্ ওরে তুই, বলছি আমি—
জ্ঞানের যদি করবি চাষ,
আচারবান্ আচার্য্যে ধর্
চর্য্যাতে থাক তাঁ'র সকাশ । ৬৭।
ধৃতি-আচারী আচার্য্য হ'লে
তোর আচারও দিন-দিন,
ধ'রে বেড়ে উঠবে ফেঁপে
উঠবিও তুই হ'য়ে প্রবীণ। ৬৮।
পারিবারিক শিক্ষাই আদি শিক্ষা
স্বভাব-চরিত্র নিয়ন্ত্রণ করে,
পরিবারের এইটি দেখে
সেইগুলি সব লোকে ধরে। ৬৯।
শিক্ষা যেথায় গলা-টেপা
হ'য়ে রয় না কোনদিন,
শিক্ষক পায় অর্ঘ্য ছাত্রের
শ্রদ্ধাচৰ্য্যা অনুদিন। ৭০।
শিক্ষক-চরিত্র এমন হবে
ছাত্রের তিনি শিক্ষক-পিতা,
পিতা হ'লেই হ'তে হবে
উন্নতিশীল চৰ্য্যা-পাতা। ৭১।
পাতা মানেই পালন-রক্ষা কর্তা
বুঝে রাখিস্ অন্তরে,
পালন-রক্ষণ আর বিনায়ন
দীপ্তিতে তোলে শিক্ষারে। ৭২।
পরিবেশের শিক্ষক-চর্য্যায় 
যদি না থাকে উচ্ছলন,
সে-শিক্ষা কি তবে বাড়ে?
হয় সুন্দরে বিবর্দ্ধন ? ৭৩।
শিক্ষকদের পরিপালন-ভার
গ্রামের কিন্তু নেওয়া ভাল,
নইলে শিক্ষক চাকরী-বশে
হ'য়ে ওঠে ক্রমেই কালো । ৭৪।
জীবন-যাগের আহুতিতেই 
জানিস্ চরিত্র শিক্ষা-সেবা,
বাস্তব-জ্ঞান সঞ্চারণা
না করলে শিক্ষা পায় কেবা ? ৭৫।
জ্ঞানী হ'বি চতুর হ'বি,
করবি নিয়ন্ত্রণ সেই জ্ঞানে,
লোকের যা'তে হয়ই ভাল
সেইটি যেন রয় প্রাণে । ৭৬ ।
বলেছি আগে, এখনও বলি—
ঐতিহ্য, প্রথা, সংস্কার,
তা'র বেদীতেই শিক্ষা গাঁথিস্
কৃষ্টিতপা হ'য়ে অপার। ৭৭।
বাস্তব আর বিষয়েতে
যোগ্য হ'লে সমীচীন,
যোগান দিয়ে দেখবি সেটা
সার্থকতা হীন না ক্ষীণ ! ৭৮।
বিজ্ঞান-সাহিত্যে ভেদ করিস্ নে,
বিজ্ঞান দেখ সাহিত্যে কোথা !
সাহিত্যটা দেখ বিজ্ঞানে
এমনি দাঁড়ায় আন্ সমতা । ৭৯।
আইন-কানুন, বিজ্ঞান-সাহিত্য
যেমন যেথায় দেখতে পাবি,
সমত্বেরই চক্ষু দিয়ে
সে-সবগুলি কুড়িয়ে নিবি । ৮০।
বিদ্যার আদিম লক্ষ্যই জানিস
অমৃতকে খুঁজে পাওয়া,
ঐশ্বর্য্য-জ্ঞান-বিভবাদি
ঐ পথেতেই কুড়িয়ে নেওয়া । ৮১।
চলতে-চলতে দেখতে-শুনতে
যা'-কিছুকে পাচ্ছ তুমি,
অস্তি-স্বস্তি-ধৃতির তোমার
ক'রেই তোল পোষণ-ভূমি । ৮২।
খুব ক'রে নিপুণ জ্ঞানে
দেখাশোনা চলার সাথে,
সব দিক্ দিয়ে সিদ্ধ যে-জ্ঞান
তা'কেই নিও ধৃতিপথে । ৮৩।
স্নেহদীপ্ত অনুকম্পা, 
শিক্ষকের হবে স্বভাব-রাগ,
ঐতিহ্য-সংস্কার-নিষ্ঠ হ'য়ে
বাড়াও তোমার কৃষ্টি-যাগ। ৮৪।
স্বভাব-আচার এমনি কর
ছাত্র-প্রাণস্পর্শী হয়,
শিক্ষার প্রথা এমনি সাধো
হৃদয়ে যা'তে সঞ্চারয়। ৮৫।
অন্তঃস্থ হওয়ার বৃত্তি
যেমনটি ঝোঁক নিয়ে থাকে,
রঙিল হ'য়ে যে-কোনভাবে
স্বভাবটিকেও রাঙিয়ে রাখে । ৮৬।
অধিনায়ক আর শিক্ষক যাঁ'রা
অন্ততঃ জানিস্ তা'দিগের,
পোষণচর্য্যার উপকরণে
কৃতি-বিভব বাড়েই ঢের । ৮৭।
সুযুক্ত সু-কথাবার্তায়
সঙ্গতিশীল বাস্তবে,
রঙিল ধারা এঁকে দিবি
সুসন্দীপী সদ্ভাবে । ৮৮।
বোধ-চাতুর্য্যে খুবই দেখ
নিজে কিন্তু ভেবো না 'জ্ঞানী',
বাস্তবতার অভিসারে
ভাবলে অমন, হবে হানি । ৮৯।
ওরে পাগল ! বুঝিস্ না কি
নরক-নিশান উড়ছে কোথায়,
একটা প্রধান নমুনা দেখ্—
বিদ্যালয়ের সহশিক্ষায়;
ব্যতিক্রমের সংক্রমণী বীজ
রোপণ হ'য়ে যেথা হ'তে,
সমাজ-পরিবার-দেশটা সবই
যাচ্ছে জাহান্নমের পথে । ৯০।
বেদপাঠী হ'লি ভাল,
মূর্ত বেদ কি পেয়েছিস্ ?
মূর্ত বেদের বিনায়নে
বেদটিকে তুই সাজিয়ে নিস্ । ৯১।
খুঁটিনাটি-সহ বাস্তব করায়
জানার আওতায় আসবে যা',
বেদের অঙ্গ তা'ই-ই কিন্তু,
স্বতঃসূক্ত বেদের তা'। ৯২।
পারিস্ যেমন রোজই দিবি
শিক্ষক যিনি তাঁ'রে তোর,
শ্রদ্ধানিপুণ তেমন অর্ঘ্যে
বৃদ্ধি পাবে জ্ঞানের জোর । ৯৩।
চলাফেরা-কথাবার্তায় 
উপদেশ যেন বিচ্ছুরয়,
উপদেশের চাইতেও জানিস্
সার্থকতা স্বভাব বয়;
এমন হ'লেই ভাববৃত্তি
স্পর্শে হৃদয় ছাত্রদের,
রঙিল হ'য়ে রইবে গেঁথে
আনবে তৃপ্তি অঢেল-ঢের । ৯৪।
দেখ, চল, নাও না বুঝে
ন্যায্য কী হয় বাঁচা-বাড়ায়,
অর্জিত বিদ্যা যদি থাকে
লাগাও সত্তা-স্বস্তি-সেবায়;
এমনি ক'রেই ধন্য হ'য়ে
আরো হওয়ায় চল তুমি,
নষ্ট চলন সব দূরে যাক্
স্বর্গ হউক্ মর্ত্ত্য-ভূমি। ৯৫।