অজ্ঞানতা … আনন্দ।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অজ্ঞানতা মানুষকে উদ্বিগ্ন করে, জ্ঞান মানুষকে শান্ত করে। অজ্ঞানতাই দুঃখের কারণ, আর জ্ঞানই আনন্দ।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীবড়দা—মানুষ প্রকৃতপক্ষে শান্ত প্রকৃতির; কিন্তু অজ্ঞানতাই তাকে উদ্বিগ্ন করছে। ধর, আমি এখানে পঁচিশ বছর ধ’রে আছি, তুমি একবছর আছ। আমি তো এতদিন আছি; ধর, ঠাকুর চাচ্ছেন জল, আমি সুপারি নিয়ে যাচ্ছি। তুমি বিশেষ নজর দিয়ে আছ, তাই তোমার জানাই ঠিক।

বসাওন সিংদা—ব্যবহারিক জগতে জ্ঞানের যারা ধার ধারে না, খাচ্ছে-দাচ্ছে তারাই তো শান্তিতে আছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁ’তে আমরা যখন নিবদ্ধ হই, তাঁর প্রতি অনুরাগ নিয়ে তাঁকে যত ভালোবাসি, সেখানেই জ্ঞানের মূল। বসাওন বলছে—সাধারণ মানুষ থেকে ঈশ্বরকে ধ’রে যারা চলে তারাই বেশী অশান্ত। অশান্ত কি দিয়ে বুঝব?

নবকুমারদা—গীতায় আছে সব সুখের আশ্রয় তিনি।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঈশ্বরকে ধ’রে যে চলে, সে যদি অশান্তি ও দুঃখ পেত, তবে ও-পথ ছেড়ে দিত। মানুষ চায় সুখ, শান্তি ও আনন্দ। আমার দৃষ্টিতে আমি দেখছি সে দুঃখে আছে; কিন্তু ও শান্তিতেই আছে। কারণ, ঈশ্বর আনন্দময়। যে কোনো কারণে উদ্বিগ্ন হ’লেই জানবে, ওটা না জানা হ’তে আসে।

বসাওনদা—আমি যদি শুনলাম— ঠাকুরের অসুখ; তাতে উদ্বিগ্ন হলাম।

নবকুমারদা—ও উদ্বিগ্নতা তাঁকে সুস্থ করাবার।

শ্রীশ্রীবড়দা—হ্যাঁ, তিনি কিসে সুস্থ হবেন, তাই জানার জন্য আঁকুপাঁকু করে মন। ধর, আমি একটা ফরসা গেঞ্জি ও কাপড় প’রে আছি, তুমি একটা গরদের পাঞ্জাবি ও ধুতি প’রলে। সবাই দেখল, তুমি বেশ পয়সা নিয়ে সুখে আছ, গরদের জামা পরেছ। কিন্তু ভিতরে একটা গেঞ্জি আছে তা কাচা হয় না মাস-খানেক। শেষে দেখা গেল একদিন ঘামে সব germs নিয়ে infected হ’য়ে অসুস্থ হ’য়ে পড়লে। আমি যদি ইষ্টে যুক্ত না হই, তাঁতে প্রীতিবদ্ধ না হ’য়ে উঠি তবে শান্তিও আসবে না, আনন্দও আসবে না। ইষ্টের জন্য দুঃখ আর প্রবৃত্তি-জগতের দুঃখ এই দুটোর মধ্যে অনেক তফাৎ।

সতীশদা—কেউ মারা গেল, তাতে যে দুঃখ?

শ্রীশ্রীবড়দা—দুঃখের কারণটা যদি দেখতে পারি, তবে ততটা অস্বস্তি হয় না।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১০/৯/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩৩]