অন্ধ হওয়া দুর্ভাগ্য … করে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অন্ধ হওয়া দুর্ভাগ্য বটে, কিন্তু যষ্টিচ্যুত হওয়া আরও দুর্ভাগ্য ; কারণ, যষ্টিই অনেকটা চক্ষুর কাজ করে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিত্যানন্দদাকে আলোচনা করতে বললেন।

নিত্যানন্দদা—যাহার দুই চোখ নেই তাহাকে অন্ধ বলে, এটা মানুষের পক্ষে দুর্ভাগ্য। যখন লাঠি [যষ্টি] পায় তখন ঐ লাঠি অনেকটা চোখের কাজ করে। যদি ঐ লাঠি কোন কারণে হারিয়ে ফেলে তবে তাহার মত দুর্ভাগ্য আর কাহারও নয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—অন্ধ অর্থ এখানে অজ্ঞানতা। ইষ্ট জ্ঞানের প্রতীক। প্রত্যেক মানুষ জ্ঞানের অধিকারী হতে চায়। ইষ্টের নির্দ্দেশিত পথে চললে জ্ঞান হয় এবং বোধ জাগে। ইষ্টকে ধরে তাঁর অনুশাসনবাদ মেনে চললে প্রকৃত জ্ঞানলাভ হওয়া সম্ভব। তা না করে কেউ যদি তাঁকে পেয়ে তাঁর অনুশাসনবাদ না মেনে চলে তবে তার মত দুর্ভাগ্য আর কাহারও নয়।

এখানে বাণীর মধ্যে আছে, “যষ্টিই অনেকটা চক্ষুর কাজ করে”—এর অনেকটা অর্থ—সমাজের মধ্যে অনেক রকমের মানুষ থাকে। এক প্রকার মানুষের কিছুটা জ্ঞান থাকে, আর একপ্রকার আছে একেবারেই অজ্ঞান। তাহাদের এমনই কর্ম্মফল—এ জীবনে ইস্ট ধরে ও তাঁর অনুশাসনবাদ মেনে চলেও কারুর সামান্য একটু, কারুর বা মোটেই জ্ঞান হয় না; হয়তো পরের জীবনে জ্ঞান হয়। এইভাবে হয়। কিন্তু তাঁর অনুশাসনবাদ যথাযথভাবে মেনে চলতে হয়।

ননীদা—আজ্ঞে, এতক্ষণে বাণীটি ঠিকমত বোঝা গেল।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২৮/৩/৭৪ ইং ]


জুরান’দার (শীল) উপর আলোচনার নির্দেশ হওয়ায় তিনি পুনরায় পাঠ করে বললেন—অন্ধ হওয়া দুর্ভাগ্য নিশ্চয়ই কিন্তু যষ্টি থাকলে তাও অনেকটা সুরাহা। অর্থাৎ ভগবান না পাওয়াটা দুর্ভাগ্য বটে কিন্তু বিবেকের অনুসরণ না করা আরও দুর্ভাগ্য। বিবেককে যষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর অন্ধ হওয়া মানে ভগবানকে না পাওয়া । বিবেক থাকলে ভগবানকে পাইয়ে দিতে পারে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ইষ্টলাভ করে নাই, সদগুরু লাভ করে নাই সেটা দুর্ভাগ্য; কিন্তু যদি বিবেক-বুদ্ধি না থাকে সেটা আরও দুর্ভাগ্য।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২৪/৮/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫]