অবিশ্বাস-ক্ষেত্র … রাজত্ব।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অবিশ্বাস-ক্ষেত্র দুর্দ্দশা বা দুর্গতির রাজত্ব।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব উপস্থিত সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—অবিশ্বাস-ক্ষেত্র কোনটা?

সতীশদা বলতে একটু ইতস্ততঃ করছেন দেখে তিনি আলোচনার সূত্রটা ধরিয়ে দিলেন। বললেন—ধর, আমাকে বাজার করতে পাঠালে। আমি তা’ থেকে চুরি করলাম। তুমি কয়েকবার লক্ষ্য করলে। পরে একদিন বললে, না ভাই, তোমার দ্বারা হবে না। তা’হলে এখানে অবিশ্বাস-ক্ষেত্র কোনটা? আমি, না সতীশ?

অর্থটা আরও পরিষ্কার করার জন্য পুনরায় বললেন—ঠাকুরের সৎনাম নিয়েছি। তাঁর পবিত্র পাঞ্জাও আছে; অথচ লুকিয়ে লুকিয়ে মাছ-মাংস খাই। উষা-নিশায় মন্ত্রসাধন করি না। এতে অবিশ্বাস-ক্ষেত্র কোনটা? আমি, না আমার ঠাকুর?

গতকাল সত্যানুসরণ পাঠের সময় এই প্রশ্ন নিয়ে বহক্ষণ আলোচনা হয়েছে। মানুষের মন থেকে বিশ্বাস কিভাবে স’রে যায়, অবিশ্বাসী কে—এ-বিষয়ে গতকাল শ্রীশ্রীপিতৃদেব সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তাই আমাদের অনেকের এ-বিষয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু আজ প্রায় একই প্রশ্ন উঠতে বোঝা গেল আমাদের সকলের বিষয়টা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।

সতীশদা—যে অবিশ্বাসের কাজ করে সে-ই অবিশ্বাসী। কিন্তু এখানে যেমন আমি আছি, আরও দশজন আছেন। আমি যদি এদের কাউকে বিশ্বাস করতে না পারি তা’হলে অবিশ্বাসের ক্ষেত্র আমি, না এই দশ জন?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ওই দশজন কি কোন অবিশ্বাসের কাজ করেছে? না ক’রে থাকলে তারা অবিশ্বাসের ক্ষেত্র হবে কি ক’রে? তুমি সবাইকে অবিশ্বাস করছ, মানে, তুমি বিকারগ্রস্ত হয়েছ।

ভবানীদা—আজ্ঞে, যে নিজে অবিশ্বাসী সে-ই অপরকে অবিশ্বাস করে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এ-কথায় সম্মতি জানিয়ে বললেন—আদত-কথা হচ্ছে, যে অবিশ্বাসের কাজ করে সে-ই অবিশ্বাসী। আর যে বিশ্বাসের কাজ করে সে-ই বিশ্বাসী।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২৬/১০/৭৩ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২১৪]

[সত্যানুসরণের বিশ্বাসসন্দেহ প্রসঙ্গে বাণীসমূহের ব্যাখ্যাগুলো পড়লে এ সম্বন্ধে পরিস্কার ধারনা হবে।]