অশ্রু, পুলক, স্বেদ,… থাকবে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অশ্রু, পুলক, স্বেদ, কম্পন হলেই যে সেখানে ভক্তি এসেছে তা নয়কো, ভক্তির ঐগুলির সঙ্গে তার স্বধৰ্ম্ম-চরিত্রগত লক্ষণ থাকবেই থাকবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

দুর্গেশদা—ভক্তির চর্চ্চাতে স্বেদটা আসে কেমন করে?

শ্রীশ্রীবড়দা—ঐরকমভাবে করে দেখ। আনন্দ কি বোঝায়ে দেয়া যায়?

নিত্যানন্দদা—সাময়িক ভাব।

শ্রীশ্রীবড়দা—ওটা real-ও হতে পারে তো।

নিত্যানন্দদা—অশ্রু, স্বেদ, কেমন করে হয় যামিনীদা?

যামিনী—ওটা একটা ভাব, যা excite করে nerve system-কে, spasm হবার দরুণ ঘাম আসে, আর Lachrymal gland-কে excite ক’রে অশ্রু আসে।

শ্রীশ্রীবড়দা—মহাপ্রভুর যেমন বিষ্ণুপদ দেখে চোখ দিয়ে জল পড়ছে, পড়ছে….একদম পড়েই চলছে। আমাদের তা হয় কই। পুলক জিনিসটা হোল শিহরণের পূর্ব লক্ষণ—ঘাম, অশ্রু সবই তাই। ঠাকুর সম্বন্ধে একটা গল্প শুনে অনেকের চোখ দিয়ে জল পড়ল। কিন্তু একজনের কান্না এল, শেষে কাঁদতে-কাঁদতে শুধু জল! যে কাঁদছে সে হয়তো কাঁদার মত লোক নয়, খুব পন্ডিত। নাম করতে করতে ঠাকুরের পরশ পায়, চোখ দিয়ে জল আসে, শরীরে একটা thrill হয়। ভাবাবেগ হলেই হবে না। তার সঙ্গে চারিত্রিক লক্ষণ থাকবে। ভেতরের আলোড়ন বা spasm এলে ঘাম সৃষ্টি হয়। অনেকে পেচ্ছাপ করে ফলে। কিন্তু ভক্তিতে পায়খানা পেচ্ছাপ হয় না।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১২/১২/৭২ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২২৫]