অহংকে যত দূরে…বিস্তার হবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অহংকে যত দূরে রাখবে তোমার জ্ঞানের বা দর্শনের  পাল্লা তত বিস্তার হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব আজ সুরেনদাকে (মিস্ত্রী) বাণীটি আলোচনা করতে নির্দেশ দিলেন।

সুরেনদা—অহং মানে আমিই সব, আমি-র ভাব। আমি-র ভাব থাকলে শেখা যায় না কিছু।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমিই সব, আমিই সর্বেসর্বা, আমি কর্তা এই ভাবটাকে দুরে রাখার কথা বলছিস্ ? আমি থাকলে ‘আরো কিছু থাকে—কী বলে তাকে বল্‌? কী করে শেখা যায় বল্‌।

সুরেনদাকে চুপ থাকতে দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—আমি কর্তা থাকলে অপরের কাছ থেকে শেখার কিছু আছে এই ভাব থাকে না—তাই শিখতে পারি না। আমি আমার অহংকে দূরে সরিয়ে নিজেকে কর্তা না করে সুরেনকে কর্তা করছি—বাণীতে এ-রকম বলা হচ্ছে নাকি রে সুরেন?

সুরেনদা—পরমকারুণিকের কথা বলা হচ্ছে। গুরুর কথা বলা হচ্ছে এখানে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি কর্তা ভাব থাকলে সুরেন কিছুই না, এ কিছুই না, ও কিছুই না, জগতের এত জীবজন্তু কিছুই না, মনে হয়। তা’হলে কিছুই শেখা যায় না, সুরেনের কাছ থেকেও আমি শিখতে পারব না। আর ‘আমি কর্তা’ ভাব যত না থাকে তত সবাইকে মর্যাদা দিতে শিখি, সবাইকে মূল্য দিতে শিখি, বিস্তারের পথে চলতে শিখি। বিস্তারের পথে চলতে-চলতে পরমপিতার কাছে পৌঁছাই। তুমি ভাবতে পার—বিস্তার কেমন করে হয়। যেমন, তুমি খেজুর গুড় তৈরি করতে জান, তোমার জানা আছে
কেমন করে খেজুরগাছের মাথা কেটে হাঁড়ি বসাতে হয়, কেমন করে রস ফোটাতে হয়। তুমি কীর্তন করতে জান না, রান্না করতেও শেখনি। ননীদা ভাল কীর্তন করতে জানেন, তুমি ননীদার কাছে কীর্তন করা শিখলে। হরিপদ ভাল রান্না করতে জানে, তুমি তার কাছে রান্না করতে শিখলে । এইভাবে তোমার জ্ঞানের পাল্লা বাড়তে-বাড়তে চলবে । আর যদি অহঙ্কার বেশি থাকে তাহলে কারও কাছে শেখা যায় না। ননীদার কাছে যেতে পারবে না, হরিপদর কাছেও যেতে পারবে না।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২২/১২/৭৫ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৫০]