অহঙ্কারীকে অহঙ্কারী …. মহাপণ্ডিত। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অহঙ্কারীকে অহঙ্কারী পরীক্ষা ক’রতে পারে। গলিত-অহংকে কি ক’রে সে জানতে পারবে? তা’র কাছে একটা কিম্ভূত-কিমাকার—যেমন অজমূর্খের কাছে মহাপণ্ডিত।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

জগজ্জ্যোতিদা (রায়চ্যাটার্জী) আলোচনা করার সুযোগ পেয়ে বাণীটি পাঠ করে বললেন—পরমপুরুষকে একমাত্র প্রেমীই ধরতে পারে, জানতে পারে। অহংকারী তাঁকে কিছুই জানতে পারে না। সেই অহংকারীর কাছে তিনি একটা কিম্ভূত-কিমাকার, যেমন অজমূর্খের কাছে মহাপণ্ডিত।

হরিপদদা (দাস)—যা বলছেন তা তো লেখাই আছে। অহংকারীকে অহংকারী পরীক্ষা করতে পারে—এটা কি রকম?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক। আমিও তাই বলতে চাই ৷ সহজ করে বুঝিয়ে দে। উদাহরণ না দিস—এমনিভাবেই বুঝিয়ে দে। ঠাকুর বইতে লিখেই দিয়েছেন। অহংকারীকে অহংকারী কিভাবে পরীক্ষা করতে পারে—আমাদিগে তো বুঝিয়ে দিতে হবে। অহংকার মানে আমি কর্তা—এই ভাব, আমি সব জানি—সব করতে পারি—এটা বলবি তো!

জগজ্জ্যোতিদা—আজ্ঞে, আমি সব জানি, সব করতে পারি এই ভাবের দরুন যিনি গলিত অহং অর্থাৎ যাঁর অহংকার পাতলা বা অহংকার নাই তাঁকে জানতে পারব না বরং তাঁকে ভুল বুঝব। যেমন একজন অজমূর্খ মহান পণ্ডিত মানুষকে যেভাবে দেখে, ভাবে—তাই দেখতে থাকব, ভাবতে থাকব।

[ পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-৩০/৫/৭৯ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৫৮, ৫৯]

[সদগুরুকে পরীক্ষা বিষয়ক সত্যানুসরণের সকল বাণী (ব্যাখ্যা সহ) দেখুন]