অহঙ্কার ক’রো না,… হবে না। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অহঙ্কার ক’রো না, জগতে হীন হ’য়ে থাকতে হবে না।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

বাণীটি বিভিন্ন ভাষায় পাঠের পর তিনজন করে ছেলে ও মেয়ে পাঠ করল। তারপর আজ ছেলেদের আলোচনা থাকায় বোধিব্যাস ভট্টাচার্য নির্দেশ পেয়ে পুনরায় বাণীটি পাঠ করে বলল—অহঙ্কার করলে জগতে হীন হয়ে থাকতে হবে। অহঙ্কার মানে আমি কর্তা এই ভাব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি কর্তা এই ভাব থাকলে কি হয়?

—ছোট হয়ে যাব।—কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে—

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অনুষ্ঠান কেন? এখানে বসে আছিস, অহঙ্কার করা যায় না? অহঙ্কার মানে কি?—আমি কর্তা এই ভাব। আমি কর্তা এই ভাব থাকলে লোকে কি ভাববে? সেটা বলবি তো?

—ছোট ভাববে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অহঙ্কার করলে হীন হয়ে থাকতে হয় কেন? সকলের জীবনে সব সময়ই দেখতে পাচ্ছিস। মানুষ যদি বিনয়ী হয়—তাকে বেশী ভালবাসে, না—অহঙ্কারী হয়ে সব সময় আমি আমি ভাব, তাকে বেশী ভালবাসে? তুমি যদি বিনয়ী, সেবা-চর্য্যাপরায়ণ হও—লোকে ভালবাসবে। ভালবাসা নিয়ে তো কথা। “এই তুই কি জানিস রে—তোর চাইতে ঢের বেশী জানি”—প্রত্যেক ক্ষেত্রে অহঙ্কার ভাব, বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে, বাড়িতে, পথে-ঘাটে, পাড়ার মধ্যে—এই রকম করতে-করতে ঐ ভাবটা prominent (প্রধান) হবে। সেবা দাও, শ্রদ্ধা দাও, সেবাপরায়ণ হও—তাহলে অহঙ্কার থাকবে না।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-১৪/৮/৭৯ ইং]


শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিত্যানন্দ মণ্ডলকে আলোচনা করতে বললেন।

নিত্যানন্দদা—অহঙ্কার কথার অর্থ—আমি কর্তা ভাব, আমি না হ’লে হয় না, আমি না হ’লে চলে না এইরকম মনোভাব। এই অহঙ্কার ভাব দেখে ছেলে-মেয়ে-বৌ অনেক সময় সহ্য করতে না পেরে অনেক লোকের সামনে এক সঙ্গে বলে দেয়; অন্য কেউ করেনি তুমিই করেছ এই অন্যায়। এইভাবে লোক সমক্ষে হীন হতে হয়।

গুরুকিঙ্করদা বললেন—ঠিক পরিষ্কার বোঝা গেল না।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব সহজ করে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তুমি লোকের কাছে বলে বেড়াও আমি একজন ভাল গায়ক। আমি অমুক লোকের সাথে গান গেয়েছি, অমুক লোক প্রশংসা করেছে ইত্যাদি বলে নিজেকে জাহির করছ। হঠাৎ দেখলে কি, তোমার পাশে যে লোকটি চুপচাপ বসেছিল, অন্য একজন লোকের অনুরোধে তোমার গান গাওয়ার পর; তিনি শুরু করার আগে বলছেন—ঐ দাদা গান গাওয়ার পর আমার আর গাওয়ার কোন মানে হয় না। ঐ দাদা বিনয় সহকারে বলছেন। আর তুমি মনে মনে ভাবছ ঠিক তাই।

এরপর ঐ দাদার গান যখন তুমি শুনলে তখন তুমিই মুগ্ধ হয়ে গেলে, সভায় সবাই মুগ্ধ হয়ে আর একটা হোক, আর একটা হোক বলতে শুরু করেছে। তারপর তার পরের পর গান শুনে তুমি-ই অবাক হয়ে গেলে—এত সুন্দর! সবাই ঐ দাদাকে ধন্য ধন্য বল্লে আর তুমি লোক সমক্ষে হীন হয়ে রইলে, অহঙ্কারের জন্য।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২০-৩-৭৪ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১২০]