অহঙ্কার ত্যাগ … পারবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অহঙ্কার ত্যাগ কর, সৎস্বরূপে অবস্থান ক’রতে পারবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—প্রফুল্ল বল্‌।

প্রফুল্লদা (বক্সী) বলতে শুরু করলেন—আমরা যতটা অহঙ্কার ত্যাগ করতে পারব ততটা ……

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বাণীর মধ্যে যতটার কথা নেই।

প্রফুল্লদা আবার ইতস্ততঃ করে বলতে লাগলেন—অহঙ্কার পাতলা হলে…

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অহঙ্কার পাতলা হওয়ার কথাও নেই।

প্রফুল্লদা—আমি কর্তা, আমার নিজের দিকেই টান-এটাই হল অহঙ্কারের ভাব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অহঙ্কার বুঝলাম, এবার সৎ স্বরূপ কাকে বলে বল্।

প্রফুল্লদা—সৎ আসছে অস্-ধাতু থেকে। সৎ মানে সত্তা। তাহলে সত্তা যেখান থেকে আসছে তা-ই সৎ-স্বরূপ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সত্তা যেখান থেকে আসছে সে তো বহু দূরের কথা। এখানে থেকেই কি করে হওয়া যায় তা-ই বল। বাণীর অর্থ সহজ করে বুঝতে হয়।. … বাণীতে আমাকে বলা হচ্ছে ‘অহঙ্কার ত্যাগ কর’, আর সৎ-স্বরূপ তাঁর হয় কি করে?

শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার বাণীটির প্রকৃত অর্থ বুঝিয়ে বললেন—আমার যে বিদ্যমানতা তার দুটো রূপ—সৎ আর অসৎ। অহঙ্কার যদি ত্যাগ করি, তাহলে অসৎভাব চলে যাবে, সৎভাব থাকবে। প্রকৃতভাব ফুটে উঠবে, আমার প্রকৃত রূপ prominent (মুখ্য) হবে। ‘আমি কর্তা’ ভাবের জন্যই আমার অশান্তি। আমি অষ্টপাশের মধ্যে বদ্ধ হয়ে আছি। সৎ-রূপই সত্তার প্রকৃত রূপ,—তাতেই আমি বিদ্যমান থাকতে পারি। বাণীর অর্থ সহজভাবে করতে পার, আবার ধাতুগত অর্থ ধরে করতে পার—দু-পথেই মিলে যাবে। তবে ধাতুগত অর্থ ধরে করতে গেলে অস্-ধাতু ও রূপ্‌-ধাতু দুটোই ধরতে হবে (সৎ আসছে অস্-ধাতু থেকে, স্বরূপ-এ ‘রূপ’-ধাতু রয়েছে….।)

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১০/৯/৭৫ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৮০]