অহঙ্কার থেকেই …. দুঃখ।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

অহঙ্কার থেকেই আসক্তি আসে ; আসক্তি থেকে অজ্ঞানতা আসে ; আর, অজ্ঞানতাই দুঃখ।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

আদেশক্রমে দীপ্তিশোভা আলোচনা শুরু করল।—অহঙ্কার মানে আমি কর্তা। আসক্তি মানে টান। আসক্তি থেকে অজ্ঞানতা আসছে। অজ্ঞানতাই দুঃখ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—দুঃখ কার?

দীপ্তিশোভা—যার জ্ঞান নাই। যার অজ্ঞানতা আছে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অহঙ্কার থেকে কেমন করে আসক্তি আসে? অহঙ্কার থাকলে মনে হয় সবই আমার, তাই বিষয়ের উপর টান আসে। আমি কর্তা হলে সবই আমার মনে হয়—আসক্তি আসে। এরকমই বলতে চাইছ তো?

দীপ্তিশোভা—আজ্ঞে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি কর্তা হলে ঘরবাড়ি, বিষয়-সম্পত্তি সব আমার ভাব আসে। বিষয়ের প্রতি টান সৃষ্টি হয়। কিন্তু তা থেকে অজ্ঞানতা এল কেমন করে?

প্রশ্নটি শ্রীশ্রীপিতৃদেব যথাক্রমে দীপ্তিশোভা ও শুভাশিসকে করলেন। তাদের কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে নিজেই বললেন—অহঙ্কার হচ্ছে আমি কর্তা ভাব। কিন্তু সবই যে পরমপিতার, তিনিই যে আসল কর্তা যার এই বোধ নেই সে অজ্ঞান। আমি কর্তা হলে বাড়িঘর, ছেলে-মেয়ে, কুকুর, গাড়ি, বাড়ি সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করতে যাই। এই বিষয়গুলি যে-যে গণ্ডীর মধ্যে সেই-সেই গণ্ডীর মধ্যে আমি কর্তা-ভাব prominent হয়ে থাকে। আসক্তি থেকেই তা হয়। আসক্তি থেকে কী হয়? (শুভাশিসকে প্রশ্ন করলেন)

শুভাশিস—অজ্ঞানতা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—প্রকৃত জ্ঞান কী? সবই ইষ্টের, সবই ঈশ্বরের এইটা জানতে পারলে প্রকৃত জ্ঞান হয়। সবকিছুরই মালিক যে তিনি এটা যে জানতে পারে না, বোধ করতে পারে না সে-ই অজ্ঞান। প্রতি মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি—’আমার ছেলে’ ‘আমার ছেলে’ বলি, কিন্তু ছেলের অসুখ হলে কিছু করতে পারি না। আমি কর্তা হলে আমার কথা তো শুনত।

যে বুঝেছে সবকিছুরই মালিক তিনি, সবকিছুরই মালিক ঠাকুর, সে পাতলা-অহং-এর অধিকারী। সে ঠাকুরের সেবক হয়ে থাকে।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-১০/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৩৭]