আগে অন্যের …. না।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

আগে অন্যের জন্য যথাসর্ব্বস্ব ঢেলে দাও, দশের পায়ে মাথা বিক্রয় কর ; আর, কারো দোষ ব’লে দোষ দেখা ভুলে যাও, সেবায় আত্মহারা হও, তবে নেতা, তবে দেশের হৃদয়, তবে দেশের রাজা। নতুবা ও-সব কেবল মুখে-মুখে হয় না।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীকন্ঠদা—যথাসর্ব্বস্ব ঢালব কেমন ক’রে?

সতীশদা—পাওয়ার নেশা নেই; দেহ, অর্থ, মন, সহানুভূতি যা কিছু আছে নিজের, তা দিতে হবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—ওর প্রশ্ন তা নয়।

সতীশদা—চিত্তরঞ্জন যেমন করলেন, বাড়িটাই দিয়ে দিলেন।

শ্রীশ্রীবড়দা—আগেই তিনি কি registry ক’রে দিলেন?

সতীশদা—দেশবন্ধু দেশের জন্য এত কিছু করলেন, তবেই নেতা হলেন।

পরেশদা—Instinctively আগে করেছেন।

আশুতোষ গাঙ্গুলীদা—যেমন শোনা যায়, দেশবন্ধু অতি মানব-দরদী ছিলেন।…

শ্রীশ্রীবড়দা—কচ্ছিস্‌ ঠিকই; মিলায়ে দে।

আশুতোষ গাঙ্গুলীদা—যখন এসবগুলো করেছিলেন, তার জন্য তিনি নেতা হবেন—এসব ভাব কিচ্ছু ছিল না উনার।

শ্রীশ্রীবড়দা—দশের জন্য মাথা দান করাটা কি?

সতীশদা—সকলের সেবার জন্য প্রস্তুত থাকা।

শ্রীশ্রীবড়দা—মিলায়ে দে। দাতা তো অনেক আছেন; ঈশ্বরচন্দ্র ছিলেন না?

আশুতোষ গাঙ্গুলীদা—পাবনাতে আপনার ওখানে বহুলোক যেত, তার জন্য আপনার খুব কষ্ট হ’ত।

শ্রীশ্রীবড়দা—কিছুই না, যা কিছু কল্যাণীর মা করত। অন্যের জন্য যথাসর্ব্বস্ব ঢেলে দেওয়াটা কেমন ক’রে বোঝা যাবে?

লালদা—নিজের জন্য ভাবে না।

শ্রীশ্রীবড়দা—দেশ পরে হোক, আগে অন্যের জন্য। সবাই ঠিক ক’চ্ছে—কিন্তু, Point মতো হচ্ছে না।

লালদা—তন্-মন-ধন দিয়ে। (সব চুপ, ঠিক বলতে পারছে না)।

শ্রীশ্রীবড়দা—দেশবন্ধু বাড়ি registry ক’রে দিলেন, তার মানে সেই বাড়ি ছেড়ে দিলেন। (নিজের) বাড়িতে রাতদিন লোকে- লোকারণ্য, সকাল নেই, সন্ধ্যে নেই। কেউ খেতে চাইছে, কেউ পরামর্শ চাইছে, কেউ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু বাড়িটা ছেড়ে দিলেই হ’ল দশের বাড়ি। আগে বাড়িটায় নিজেও থাকতেন, দশও থাকত। কিন্তু registry ক’রে দিলেন সবার জন্য। দেশের কাজের জন্য একজন কোটিপতির কাছে যখন গেলেন, সে মাত্র ১০ টাকা দিলে তিনি তার দোষই দিতেন না। বলতেন, দিতে হয়, দেওয়া ভাল। অন্যেরা সব চ’টে যেত। কিন্তু, সবাই মনে করত দাশ সাহেব আমাদেরই লোক।

দশের পায়ে মাথা বিক্রী ক’রে দেওয়া মানে, নিজের কোনো ego-ই নেই, দশই মুখ্য, দশই prominent ওদের নিজেদের মধ্যে গরমিল ছিল। তিনি সব সহ্য করতেন, একসঙ্গে মিলিয়ে চলতেন।

[ ‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৩০/৭/৭৫ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪৮ – ২৪৯]