আদর্শের দোষ….স্বার্থবুদ্ধি। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

আদর্শের দোষ—মূঢ় অহঙ্কার, স্বার্থচিন্তা, অপ্রেম। অনুসরণকারীর দোষ—সন্দেহ, অবিশ্বাস, স্বার্থবুদ্ধি।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

অর্চনা রায়—যাঁকে সামনে রেখে চলব তাঁর এ দোষগুলি থাকলে আমার আদর্শ হ’তে পারেন না।

শ্রীশ্রীবড়দা—সেখানে গভীর ভালবাসার অভাব থাকে। অনুসরণকারীর দোষ কি?

অর্চনা—সন্দেহ, অবিশ্বাস।

শ্রীশ্রীবড়দা—সন্দেহ মানে কি?

অর্চনা—এটা ঠিক না বেঠিক, এই দ্বন্দ্ব।

জনৈক দাদা—“যে ভাব বিরুদ্ধভাব দ্বারা আহত বা অভিভূত না হয় তাই বিশ্বাস।”

শ্রীশ্রীবড়দা—সন্দেহ দ্বারা অভিভূত না হ’লেই বিশ্বাস। অপ্রেমটা কি? ধর, আমি একটাকা দিয়ে প্রণাম করলাম, তুমি কিছু না দিয়ে প্রণাম করলে। স্বার্থবুদ্ধিতে প্রেমের স্থান নেই, প্রেমের ভান আছে। বাঁকুড়া থেকে একবার কয়েকজন অদীক্ষিত মানুষ এসেছেন সারারাত্রি না খেয়ে, কারণ তাঁরা tiffin carrier ফেলে এসেছেন। ঠাকুরের তখন শরীর ভাল নয়। ঠাকুর তাঁদের জন্য যতি আশ্রমে ননীদার কাছে খাওয়ার ব্যবস্থা ক’রে রেখেছেন আগে থেকেই। এই হ’লো প্রেম। কোন কথারই সেখানে দরকার হলো না।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৯/০৪/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৪৫]

[গুরু বিষয়ক সত্যানুসরণের অন্যান্য বাণী দেখুন]