আন্তরিক দীনতার …. নেই।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

আন্তরিক দীনতার মত অহঙ্কারকে জব্দ করার আর কিছুই নেই।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব কৃতিদ্যুতিকে আলোচনা করতে বললেন।

কৃতিদ্যুতি—অহঙ্কার মানে ‘আমি কর্তা’-ভাব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আর আন্তরিক মানে?

—মনের মধ্যে।

—দীনতা মানে?

—মানে গরীব।

—গরীবের ভাব। কিন্তু, খুব টাকা-পয়সা আছে, ধন-দৌলত আছে, তখন গরীবের ভাব থাকবে?

কৃতিদ্যুতি—তখনও থাকবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—টাকা-পয়সা ধন-দৌলত আছে, তবু কিছুই নাই সে-ভাব থাকবে কী-ক’রে? আমি যদি ভাবি, তাঁর দয়ায় এসব হয়েছে, তিনিই দয়া ক’রে দিয়েছেন, তখন নম্রভাব আসবে, বিনয়ের ভাব আসবে; ‘আমি কর্তা’-ভাব থাকবে না। দীনতা বলতে বিনয় ও নম্রভাবের কথাই বলা হচ্ছে। এবার শুভাশিস বল, অহঙ্কারকে জব্দ করতে হ’লে কী করতে হবে?

শুভাশিস—আমার ভেতর দীনতার ভাব থাকলে অহঙ্কার জব্দ হ’য়ে যাবে।

—অহঙ্কার মানে কী?

শুভাশিস—’আমি কর্তা’-ভাব।

—এই ভাবটা ভাল, না খারাপ?

—আজ্ঞে, খারাপ।

—ভাল নয় ব’লেই ঠাকুর জব্দ ক’রতে বলেছেন।

এবার শ্রীশ্রীপিতৃদেব পবন, জ্যোতিষ, দীপ্তিশোভা ও দীপালীকে একে-একে জিজ্ঞাসা করলেন—অহঙ্কার কাকে বলে এবং তাকে জব্দ করা যায় কীভাবে। প্রত্যেকেই ঠিক-ঠিক উত্তর দিল।

দীপ্তিশোভাকে বললেন—তুমি ভাল নাচ জান; যদি মনে কর আমার মত কেউ জানে না, তাহ’লে অহঙ্কার আসে, তখন আর শেখা হয় না।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২০/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪৪]