কাঁদো, কিন্তু …. প্রেমে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

কাঁদো, কিন্তু আসক্তিতে নয়, ভালবাসায়, প্রেমে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

সতীশদা—কারো হয়ত ছেলে মরে গেল। শোকে কাঁদছে এই ভেবে যে ছেলে থাকলে এই এই সুবিধে হত। ছেলে থাকলে ইষ্টের কাজে লাগাতে পারতাম এই ভেবে যদি কাঁদা যায়, তবেই কান্না সার্থক।

বসাওনদা—সেটা কান্না শুনে বুঝব কেমন করে?

দূর্গেশদা—মৃত্যুর example দিয়ে ভাল বোঝানো যায় না।

ননীদা—তুমি একটা বল।

দুর্গেশদা—একজনের একটা আংটি হারিয়েছে, মন খারাপ, কাঁদছে আবার কাজও ক’রে যাচ্ছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—হ্যাঁ। একবার পরমহংসদেব কাঁদছেন। তখন একজন বললেন, আপনি কাঁদছেন কেন? পরমহংসদেব বললেন—“কেন কাঁদবো না—আমি সাধু হয়েছি বলে?” আসল কথা, আসক্তি থেকে কাঁদা এবং প্রেমাশ্রু এক জিনিস নয়। আমি বহু লোককে দেখেছি, তাদের কাছে ঠাকুর কিছু চাইলে তারা আনন্দে কেঁদে একেবারে বিভোর হয়ে গেছে। সে কান্নায় প্রেমের ছোঁয়া থাকে। তাতে অন্তর ভ’রে ওঠে।

[’যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১২/৪/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৯৬]