কিসে অভাব যায়, ….. আসে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

কিসে অভাব যায়, আর তা’ কেমন ক’রে—এই চিন্তাতেই পরিশেষে ব্রহ্ম-জিজ্ঞাসা আসে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীবড়দা—ভদ্র আলোচনা কর।

বিজয় ভদ্র—টাকার অভাব হলে চিন্তা করব কি ক’রে অভাব যাবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—করতে করতে—

ভদ্র—ইষ্টের দিকে এগোব।

শ্রীশ্রীবড়দা—ইষ্ট মানে?

ভদ্র—ভগবান।

শ্রীশ্রীবড়দা—ভগবান কে? ঠাকুরই ভগবান।

ভদ্র—কেমন করে অভাব যায় এই কথা জানাব।

শ্রীশ্রীবড়দা—তা’ হ’লে ব্ৰহ্ম জিজ্ঞাসা কেন আসবে? দীপালি বল্‌—ব্ৰহ্ম জিজ্ঞাসা কেন? ভগবানকে ডাকে তো। শান্তি কিছুতেই পাইনা। অর্চ্চনা বল্‌।

অর্চ্চনা—কি করলে অভাবের হাত থেকে রক্ষা পাব, সেই চিন্তা করতে করতে ভগবানকে ডাকব।

শ্রীশ্রীবড়দা—কেন?

অর্চ্চনা—অভাব থাকলেই ভগবানকে ডাকে।

শ্রীশ্রীবড়দা—অভাব চিরতরে দুর করার বাসনা থেকে যিনি বিশ্বসংসার পূর্ণ করে রাখেন তাঁর প্রতি মন যায়। তাঁর দয়ায় সব হয়। তিনিই সব অভাববোধ থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পারেন। ভগবানকে ধরে আনন্দ পায়, শান্তি পায়, ভাল থাকে, তাই সে অভাব মেটাতে তাঁকে জানাতে ইচ্ছা করে। অভাব কিসে যাবে; চিন্তা করতে করতে ব্রহ্ম কি তা জানার ইচ্ছা হয়। এখন তাঁর শরণাগত হ’লে তিনি যা’ ব’লে দেন তাই ক’রে পায়। ব্রহ্ম কি? কে জানেন? তখনই ঠাকুর এসে পড়েন। আমরা সকলেই না পেলে অখুশী। কিন্তু এমন লোকও আছে, যার পেলে মোটেই আনন্দ হয় না।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২৯/৫/৭৬]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৯৩-১৯৪]