কোন মহাপুরুষের সঙ্গে … কর। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

কোন মহাপুরুষের সঙ্গে তোমার নিজের তুলনা ক’রো না, কিন্তু সৰ্ব্বদা তাঁর অনুসরণ কর।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

লক্ষ্মীরাণী গুহ আলোচনার নির্দেশ পেয়ে বাণীটি পুনরায় পাঠ করে বললেন—মহাপুরুষ মানে পুরুষোত্তম। যুগে যুগে যে পুরুষোত্তম আসেন তাঁর সাথে যদি তুলনা করি—

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সে তো আরও জটিল হয়ে গেল। সহজ করে ভাব।— ঠাকুর সহজ মানুষ। মহাপুরুষ মানে মহান পরিপূরক যিনি। তাঁর সাথে তুলনা করব না। তুলনা হয় কি করে?—তুলনা মানে কি?—তুল্য করা, মাপ করা। মূঢ় মানুষ ঠাকুরকে বুঝতে পারে না। ভাবে উনি বাণী লেখেন, আমিও বাণী লিখব—এই রকম।

অন্নদা-দা (মাজী)— ঠাকুরের যেমন হাত-পা, আমারও তেমন দুটো হাত, দুটো পা আছে। আমিও খাই-দাই-ঘুমাই—ঠাকুরও তাই করেন, এই রকম ভাবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—উনি বিয়ে করেছেন—আমিও বিয়ে করেছি। আর বিশেষত্ব কী আছে! কিছুই নাই। উনি একটা কেমিক্যাল ওয়ার্কশপ করেছেন, আমার করার ইচ্ছা ছিল, টাকা-পয়সা থাকলে আমিও করতাম।

অন্নদা-দা—গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—“অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম্‌।”— মুঢ় যারা তারা আমার পরম ভাব বুঝতে পারে না। তারা আমাকে সাধারণ মানুষ ভাবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। আবার এই রকম ভাবে—আমাদের এই রকম আইডিয়া ছিল, এই রকম আশ্রম করলে ভাল হয়। সুযোগ অভাবে করতে পারলাম না। সুপ্ত অবস্থায় আছে। এগুলোর নামই তুলনা।

উর্ম্মীলাদি (ভট্টাচার্য)—ব্যাধ শিকার করে পাখী ধরে, আর সাধু জপধ্যান করে। তাতে সাধুর গায়ে পাখী উঠে আসে। সেই দেখে ব্যাধ সাধু সেজে বসল, তখন পাখীগুলো সব তার কাছেও আসল । তখন ভাবল ভন্ডামিতেই যখন এইরকম তখন আসল হলে কি-ই না হবে! তখন প্রকৃত সাধু হওয়ার চেষ্টা করল।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ও তো মহাপুরুষের সাথে তুলনা করতে যায় নাই, হতে গেছে।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২১/৮/৭৯ ইং]

শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিত্যানন্দদাকে (মণ্ডল) আলোচনা করতে বললেন।

নিত্যানন্দদা—মহাপ্রভু যেমন সংসার ত্যাগ করে চলে গেছিলেন, তেমনি আমার সংসারে আসক্তি নেই; তাই সংসার ত্যাগ করেছি। আমার কীর্ত্তন-ই ভাল লাগে তাই কীর্তন করি, মহাপ্রভুও তাই করতেন। আমার আপেল খেতে ভীষণ ভাল লাগে। শুনেছি মহাপ্রভুরও আপেল ভাল লাগত।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—কিন্তু ঠাকুর কি কচ্ছেন? ঠাকুর কচ্ছেন—কোন মহাপুরুষের সঙ্গে তুলনা না করতে, সর্ব্বদা অনুসরণ করতে। তিনি যেমন চলতে বলেছেন, যেমন হতে বলেছেন, তেমনি হওয়া। শুধু কথার সাগর না হয়ে চরিত্র গঠন করতে বলেছেন। প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে বলেছেন, তাঁর নির্দেশিত পথে চলার মধ্য দিয়ে। তাঁকে সর্ব্বদা অনুসরণ করে চলতে বলেছেন। তাহ’লে চলাটা নিখুঁত হবে। ঠিক ঠিক অনুসরণ করে চললে, তবেই অকপটভাবে চলা সম্ভব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব ননীদাকে জিজ্ঞাসা করলেন—কি, বোঝা যাচ্ছে?

ননীদা—আজ্ঞে হ্যাঁ।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২৬/৩/৭৪ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৩২]