চল, এগিয়ে … না।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

চল, এগিয়ে যাও, রাস্তা ভেবেই ক্লান্ত হ’য়ে প’ড় না, তা’ হ’লে আর যাওয়া হবে না।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

আদেশক্রমে শ্রীমতী লক্ষ্মী দাশশুপ্তা বাণীটি পুনরায় পাঠ করে কিছু বলল—প্রত্যহ সকালে প্রার্থনায় আসতে পারি না; মনে হয় এতখানি রাস্তা হেঁটে যেতে হবে!

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ঠাকুর এই বাণীটা দিয়েছেন আমাদের মঙ্গলের জন্য তো? ঠাকুরবাড়ি আসার জন্যই কি? অন্য কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি-না চিন্তা করতে হয়। একটু ভাবলেই দেখা যাবে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই বাণীটি প্রযোজ্য।

অতঃপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—এতবড় ঘর ঝাঁট দিতে হবে, ওরে বাপ্‌-রে! কিংবা ‘ভিক্টোরিয়া মেডিকেল হল’ থেকে ওষুধ নিয়ে আসতে হবে!—তুমি ভাবলে যাব কি করে রে বাবা! দোকান যাব, ওষুধ নেব, তারপর ফিরে আসব। এত হাঙ্গামা করা যাবে না। কাঠিয়াবাবাজী, বালানন্দ স্বামী—এইসব মহাপুরুষগণ কঠোর তপস্যা করে সিদ্ধ হয়েছেন। ঠাকুর আমাদের ঊষানিশায় মন্ত্রসাধন, চলাফেরায় জপ ইত্যাদি নিত্য অভ্যাস করার নির্দেশদান করেছেন। নামধ্যান করা খুব জটিল কাজ মনে করে যদি হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকি তাহলে হবে না। জোর করে লাগতে হয়। নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দেওয়া বিধান পরিপালন করতে হয়। নামে মন বসার জন্য পরমপিতার চরণে প্রার্থনা করতে হয়। রস লেগে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাবে, টেরই পাবে না। নাম করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দরকার। এর জন্য অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দরকার হয় পূর্বজন্মের সুকৃতি।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২২/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৪৬]