জগতের সমস্ত ঐশ্বৰ্য্য… ভগবান্‌। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

জগতের সমস্ত ঐশ্বৰ্য্য—জানা, ভালবাসা ও কৰ্ম্ম—যাঁর ভিতর সহজ-উৎসারিত ; আর যাঁর প্রতি আসক্তিতে মানুষের বিচ্ছিন্ন জীবন ও জগতের সমস্ত বিরোধের চরম সমাধান লাভ হয়—তিনিই মানুষের ভগবান্‌।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

বাণীটি ভাস্বতী চ্যাটার্জী আলোচনা করার নির্দেশ গেয়ে বলল—ঐশ্বর্য মানে ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে আরম্ভ করে সব কিছু।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—যা’-যা’ নিয়ে জগৎ সৃষ্টি।

আবার অভিধান দেখে ঐশ্বর্যের অর্থ বললেন—ধনসম্পত্তি, বিভব, মহিমা, ঈশ্বরত্ব, প্রভুত্ব। ঈশ ধাতু মানে আধিপত্য করা। যা’ যা’ দিয়ে মানুষ আধিপত্য করে তাই ঐশ্বর্য। যিনি সমস্ত সম্পদের, সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী, শুধু অধিকারী নন, যাঁর ভিতর সহজভাবে উৎসারিত—আবার যাঁর প্রতি টানে মানুষের সমস্ত অশাস্তি, বিচ্ছিন্নতা তথা জগতের সমস্ত কিছুর বিরোধের মীমাংসা হয়ে যায়—তিনিই ভগবান—তিনিই ঈশ্বর। অনেকেই ঠাকুরের কাছে বলত—আমার পরিবেশের সঙ্গে যে-সব বিরোধিতা ছিল ঠাকুরের নির্দেশমত চলে সব adjust (নিয়ন্ত্রিত) হয়ে গেল।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-৩০/৪/৮০ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৩০৭]