জীবনকে যে-ভাবে … ক’রবে। – ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

জীবনকে যে-ভাবে বলি দেবে, নিশ্চয় তেমনতর জীবন লাভ ক’রবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

দাদাদের মধ্যে মদন পাল আলোচনার সুযোগ পেয়ে বাণীটি পুনরায় পাঠ করে বললেন—আমি আমার জীবনকে যা হওয়ার জন্য উৎসর্গ করব—তেমন জীবন লাভ করব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—একটা উদাহরণ দিয়ে বল্‌। যাতে বাচ্চারা বোঝে। তুই কি হতে চাস?

—সৎ হতে চাই। যা জীবনবৃদ্ধির সহায়ক তাই সৎ।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—তার মানে কি? জীবনবৃদ্ধির জন্য একটা আদর্শ ধরতে হয় তো! তুই কি হতে চাস?

গুরুকিঙ্কর পাণ্ডেদা (মদনদাকে)—ব্যবসায়ী হতে চায়, গায়ক হতে চায়—এমনি তো চাওয়া আছে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, ও তো গায়ক হতে চায়।

মদনদা—গান শিখতে যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে যিনি গান জানেন তাঁর কাছে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—এমনভাবে আদর্শ ধরবি—যাতে সকলের মঙ্গল হয়। সেই রকম আদর্শের চরণে জীবন উৎসর্গ করতে হয়। ঠাকুরের আদর্শ মেনে চললে সপরিবেশ জীবনটাকে ভাল করা যায়। সেই জন্য নিজেকে ঠাকুরের কাছে উৎসর্গ করতে হবে।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-৬/৮/৭৯ ইং]

প্রদীপ পাল—সৎ কাজ আছে, অসৎও আছে যে। পাঁচজনকে সেবা যদি করি, সেইটা সৎ কাজ।

শ্রীশ্রীবড়দা—পাঁচ জনকে সেবা করবি কেন? ৬/৭ জনকেও তো পার। সেভাবে বলা হল কেন?জীবনকে যদি সৎকাজে নিযুক্ত করি, নিশ্চয় আমি সেভাবে লাভ করব। সে তো ঠিকই তবে কি লাভ করি? একটা উদাহরণ দে।

প্রদীপ—যেমন সকালে ইষ্টভৃতি করা, ঠাকুরের কাজ।

শ্রীশ্রীবড়দা—ইষ্টভৃতি কাকে বলে? ইষ্ট কি? ঠাকুর ভৃতি কি? (নীরোদাসুন্দরী বল)

নীরোদা—ইস্ট হল কল্যাণের মূর্ত প্রতীক।

উমেশ—ভরণপোষণ ।

শ্রীশ্রীবড়দা—হ্যাঁ, ভরণ-পোষণ করা। তিনি তো সারা পৃথিবীর ভরণ করেন। সারা দুনিয়ার মালিক যিনি, তাঁকে কি ভরণ করবি। নিখিল বিশ্বব্রহ্মান্ডের মালিক—আমি আর কি তাঁকে ভরণপোষণ করব?

উমেশ—করলে মঙ্গল হবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—মঙ্গল হবে কেন?

উমেশ—তিনি আমাদের জন্য এত করলেন—আমরা সামান্য কিছু করতে পারব না?

শ্রীশ্রীবড়দা—হ্যাঁ, তিনি এত করছেন, আমরা কি কিছু করব না? ভালবাসা আছে, ভক্তি তো আছে, মুখে এমনি বললে হবে না।

(প্রদীপকে) সৎ কাজ কি? যা করলে কল্যাণ হয়, মঙ্গল হয়। নিজের ও পারিপার্শ্বিক সবার কল্যাণ হয়, সেইটাই সৎ কাজ। জীবনবৃদ্ধির অন্তরায় যা’ সেই অসৎ কাজ করলে লোকে ঠেঙ্গাবে, ঘৃণা করবে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-২০/৮/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫]