জীবনের উদ্দেশ্য ….. পারে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

জীবনের উদ্দেশ্য অভাবকে একদম তাড়িয়ে দেওয়া, আর তা’ কেবল কারণকে জানলেই হ’তে পারে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলেন—জীবনধারণ করতে কী কী লাগে?

স্বপ্না—খাওয়া, পরা—

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বল্‌ প্রথমে খাদ্য, তারপর লজ্জা নিবারণের জন্য বস্ত্র, আর বাসস্থান। কেউ-কেউ আলুসেদ্ধ ভাত হলেই পরিতৃপ্ত হয়। কেউ আরও বেশি চায়। ঐগুলোকে কেন্দ্র করে আরও অনেক জিনিস লাগে। প্রয়োজন বাড়তে-বাড়তে চলে। জীবন তো শুধু শরীর নিয়ে নয়, মনের খোরাকও দরকার। শরীর, মন উভয় দিকে লক্ষ্য না রাখলে তো চলবে না। সিনেমা দেখতে চাই। আমরা আনন্দ পেতে চাই। সিনেমা দেখলে আনন্দ পাব মনে করে সিনেমা দেখি। সাময়িক আনন্দ পাই কিন্তু তা স্থায়ী হয় না। শিশুদের যেমন লালকাঠি বা রাঙাকাঠি দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয়। এই ভুলিয়ে রাখাও সাময়িক। অভাবের স্থায়ী সমাধান আর হয় না। আমরা অভাবকে স্থায়ীভাবে তাড়াতে চাই, কিন্তু তা হচ্ছে না।

কবি বলছেন, ‘যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই / যাহা পাই তাহা চাই না।’ ভুল কিসের থেকে হয়? অজ্ঞানতা থেকে ভুল চাওয়া আসে। তাই জ্ঞানীর ভুল চাওয়া নেই। সবকিছুর কারণ যিনি, ইষ্ট যিনি—তাঁকে জানলে অভাবের বা চাওয়ার ঘোর কেটে যায়।

অভাব মানে ভাবের অভাব। কার সাথে ভাব? ভাবীর সাথে ভাব—কারণ পুরুষের সাথে ভাব। ভাবীর সাথে ভাব হলে সব ঘোর কেটে যাবে, দুঃখ ঘুচে যাবে। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—

‘ইষ্টে যদি না র’লো ভাব
অভাব কি আর যায়?
ডাইনী অভাব নানান ধাঁচে
রক্ত চুষে খায়।’

এরপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব বাণীটি মেয়েদের একসাথে আবৃত্তি করালেন পর-পর তিনবার। অতঃপর একইভাবে ছেলেদের আবৃত্তি করালেন পর-পর তিনবার।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-২৭/৫/৭৬ ইং ]

সতীশদা—জাগতিক অভাব ও দৈব অভাব। মন দৈবে থাকলে…

শ্রীশ্রীবড়দা—মন দৈবে আছে মানে—জাগতিক অভাবের ভেতর দিয়েই সে দৈবে বা ইষ্টে মন ন্যস্ত ক’রে রেখেছে। অভাবটা কেমন করে তাড়িয়ে দিতে হবে, তা হয় কেমন করে?

সতীশদা—মূল কারণকে জানবার কথা বলা হয়েছে। ইষ্ট হচ্ছেন সমস্ত কারণের কারণ।

শ্রীশ্রীবড়দা—যাঁকে পেলে সব পাওয়া পূর্ণ হয়, তাঁকে পেলে আর অভাব কোথায় থাকে! ব্যাপারটা হলো তাঁকে পেলে সব পাওয়া হয়ে যায়। তাঁকে যদি পাই যদি বুঝতে পারি, তবে দুঃখ কষ্ট যা কিছু সব সরে যেয়ে সব পাওয়া হয়। অনেক সাধু সন্ন্যাসী খেলো কি না খেলো, অত্যন্ত শীতের মধ্যে থাকেন, তার মধ্যেও সব সময় আনন্দে থাকেন।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৭/৪/৭৪]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২]