তুমি তাঁর ইচ্ছাধীন …. সুন্দর।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তুমি তাঁর ইচ্ছাধীন হও, তোমার ইচ্ছাধীন তাঁকে ক’রতে চেষ্টা ক’রো না—কারণ, তোমার নিকট তিনিই সুন্দর।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীবড়দা—সুন্দর মানে মনোহর।

জিতেনদা—আমি যাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসি তিনিই সবচেয়ে সুন্দর আমার কাছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—এখানে কথা হচ্ছে গুরু সম্বন্ধে—আদর্শ সম্বন্ধে । তিনি আমার মন হরণ করেছেন বলে আমার কাছে তিনি অতি সুন্দর। আমি যাতে তাঁর ইচ্ছাধীন হতে পারি, তাই করব। আমি যখন তাঁকে আদর্শ বলে মানি, তাঁকে দেখে জীবন পথে চলা যায়, তাঁর মনের মত চলা উচিত।

গুরু—দুনিয়ায় সবচেয়ে সুন্দর তিনি।

সতীশদা—তাঁকে সুন্দর বলে মনে হচ্ছে কেন?

শ্রীশ্রীবড়দা—তিনি যে ইষ্ট। আমি তাঁকে মনোনয়ন করে নিয়েছি। আমি তো তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পণ করেছি। তিনি যন্ত্রী, আমি যন্ত্র। নিজে যদি যন্ত্রী হয়ে বসি তাহলে তাঁর ইচ্ছাধীনে চলা হবে না।

সতীশদা—মানুষকে তিনি সব দিয়েছেন, আবার free will-ও দিয়েছেন।

বসাওনদা—free will নষ্টের দিকেও নিয়ে যায়, আবার ভালোর দিকেও নিয়ে যায়।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁর ইচ্ছাধীন মানে কি? তুমি তো free will-এর কথা বলছ। আমার যন্ত্র আমার ইচ্ছাধীন। এখানে তাঁর ইচ্ছাধীন মানে কি?

সতীশদা—যেমন করে তিনি চালান।

শ্রীশ্রীবড়দা—আমি যন্ত্র হচ্ছি। free will আমার আছে। সেটা তাঁর ইচ্ছাধীন হয়ে করি। আমরা যদি free will-টা পরমপিতার উপর অর্পণ না করি তাহলে তাঁর ইচ্ছাধীন হব কেমন করে?

সতীশদা—যন্ত্রটার তো কোন ক্ষমতাই নেই।

শ্রীশ্রীবড়দা—আমাদের কি কোন ক্ষমতা আছে? তাঁর ইচ্ছাধীন হওয়া মানে আমি তাঁর হাতের যন্ত্র হই।

সতীশদা—বোধটা নিয়ে তাঁর ইচ্ছাধীন হব।

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁর ইচ্ছাধীন হলেই বোধটা আসে। তাঁর ইচ্ছাধীন মানে “ত্বয়া হৃষীকেশ! হৃদিস্থিতেন, যথা নিযুক্তোহস্মি তথা করোমি।” আমার নিজের ইচ্ছাধীন থাকি মানে মোহে থাকি। আমি মানুষরূপ যে যন্ত্র যদি তাঁর যন্ত্র হ’তে পারি, তবে জীবন সার্থক হবে। সকাম হয়েও তাঁকে যদি চাই, গাড়ী বাড়ীও যদি চাই—সব হবে। এটা প্রমাণের কথা নয়, নিত্য সত্য।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৬/১২/৭৪ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৯৮ – ২৯৯]