তুমি নিজে সহ্য … দাও।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তুমি নিজে সহ্য ক’র, কিন্তু যে পারে না তাকে সাহায্য কর, ঘৃণা ক’রো না, সহানুভূতি দেখাও, সাহস দাও।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র জীবসুন্দরের (চক্রবর্তী) উপর আলোচনা করার ভার পড়েছে।

জীবসুন্দর বাণীটি পড়ে চুপ থাকায় শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—কি হল রে,—ঠাকুর কি বলছেন?

জীবসুন্দর—কেউ যদি বিপদে পড়ে তাকে সহানুভূতি দেখাব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—প্রথমে কি আছে?

—তুমি নিজে সহ্য কর।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—সেটা কি রকম?

—দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে বলছেন।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পারলে কি হবে? (রহস্যভরে) গাছে টাঙায়ে দেব, বাক্স ভরে রেখে দেব! কি করব? সব রকমই বল্‌ কিছু কিছু।

জীবসুন্দর—হয়তো কিছু কাজ পারছে না—তাকে সাহায্য করলাম।

বাণীটি ঠিকমত আলোচনা হচ্ছে না দেখে শ্রীশ্রীপিতৃদেব পরবর্তী পাঠক অমলকে (চক্রবর্তী) আলোচনা করার জন্য বললেন।

অমল—ঠাকুর বলছেন, নিজেকে সহ্য করতে। হয়তো একজন বিপদে পড়েছে, আমিও পড়েছি। সেক্ষেত্রে বিপদ সহ্য করতে বলছেন। যেমন—গাছ থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভাঙল দুজনের।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—গাছ থেকে না পড়লে কি করে সহ্য করবি? ঠাকুরের বাণী সব সময়ের জন্য, সকলের জন্য। ধর্‌, কেউ অত্যাচার করল, কেউ বাগান থেকে ফুল তুলে নিল; কোন কাজে অসুবিধা হলে সহ্য করে নিতে হয়। নানারকম অশান্তি, অসুবিধে বাড়ির থেকে আসতে পারে, পথে-ঘাটে আসতে পারে, জীবজন্তু থেকে আসতে পারে। আর চট করে যদি উত্তেজিত হয়ে যায় তাহলে তার মাথা গোলমাল হয়ে যায়। কেউ যদি পড়ে গেল—ঝেড়ে দিলাম। বললাম—ওঠ, ওঠ, কিছু হয় নাই। ঘৃণা করা কি? (অন্নদা-দাকে)

অন্নদা-দা (মাঝি)—এ কি রে বাবা! এত ছোট কাজেই দমে যাচ্ছে! ঘৃণা করা মানে তাচ্ছিল্য করা।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। ঘৃণা করা মানে তাচ্ছিল্য করা। তা না করে সাহস দেওয়া; এইরকম অনেকেরই হয়, তোমার কি হয়েছে—আমার এর চাইতেও বেশী হয়েছে। সহানুভূতি কি?—পরমপিতার দয়ায় তোমার সেরে যাবে, কিছু হবে না, এই ভাবে বলা।

[ পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২৯/৬/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৮৩, ৮৪]