তুমি যত লোকের … হবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তুমি যত লোকের সেবা ক’রবে তত লোকের যথাসর্ব্বস্বের অধীশ্বর হবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

ধৃতিবল্লভ—আমি যত লোককে সেবা দেব তত লোকের সব ঐশ্বর্য্যের অধীশ্বর হব অর্থাৎ মালিক হব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কেমন ক’রে হব?

ধৃতিবল্লভ—আমি যদি অন্য কাউকে ভালবাসি, সে-ও আমাকে ভালবাসবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কেমন ক’রে ভালবাসবে?

ধৃতিবল্লভ—আমি অকপটে ভালবাসব। তাহলে তারাও ভালবাসবে

—অকপটে মানে?

—মানে তার মধ্যে কপটতা থাকবে না। গোঁজামিল থাকবে না।

—হ্যাঁ।

ধৃতিবল্লভ—ঐ অকপটভাবে যত লোককে ভালবাসব তারা সবাই আমাকে ভালবাসবে। তখন তাদের যথাসর্বশ্বের অধীশ্বর হব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—অধীশ্বর হবে কেমন ক’রে? একজন মানুষই আগে ধর। যত মানুষ ধরার কী দরকার! ধর, তুমি শুভাশিসকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবাস—তাহলে কী হবে?

—আমার সাথে মিল হবে।

—মিল থেকে কী হবে? তুমি শুভাশিসকে অকপটে ভালবাস। তাতে কী হয়? তুমি শুভাশিসের যখন প্রয়োজন সেবা করবে, তার সুখ-দুঃখে, বিপদে-আপদে তুমি পাশে দাঁড়াবে। তুমি সেবা দেবে যাতে তার দুঃখ মোচন হয়, তার ভাল হয়। তাতে শুভাশিস তো তোমারই হয়ে যাবে। শুভাশিসের যা আছে সব তোমার হয়ে যাবে। হৃদয় সবচেয়ে বড় জিনিস তো! সেবা দিয়ে হৃদয় পেলে সব পাওয়া হবে। যেমন শুভাশিসের বেলা হ’ল, তেমনি আর সকলের জন্য করলে তারাও তেমনি হবে। বাণীতে তো তা-ই বলা হচ্ছে। কী আছে, পড়।

ধৃতিবল্লভ পুনরায় বাণীটি পাঠ করলে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—সেবা দিয়ে যদি হৃদয় জয় করা যায় তাহলে বাকি থাকল কী? কিছুই বাকি থাকে না।

[ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-৪/৬/৭৭ ইং]

ধৃতিবল্লভ শিকদার নির্দেশ পেয়ে বলল—যত লোকের সেবা করব মানে শুশ্রূষা করব—

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ, শরীর, মন সবই। সেবা করব মানে—শান্তিবিধান করা, সোয়াস্তিবিধান করা।

ধৃতিবল্লভ—আমি যত লোকের সুখ-সুবিধার জন্য, শান্তির জন্য করব তত লোকের যথাসর্বস্বের অধিকারী হব।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—কেন?

—আমি যত লোকের জন্য করব তত তারাও আমার জন্যে করবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—আমি সেবা করব কিভাবে?—প্রত্যাশারহিতভাবে, কোন স্বার্থ না রেখে। যথাসৰ্বস্ব মানে কি?

—সব কিছু।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—হ্যাঁ। তার যা যা আছে সব কিছু। সে আমাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালবাসবে, বিশ্বাস করবে। বাড়ির মালিকের ভালবাসা যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার যা যা আছে সেই সব নিয়ে সে ভালবাসবে। বিপদে-আপদে সাহায্য করবে, সব কিছু দিয়ে।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-২১/৯/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৫৩ – ১৫৪]