তুমি যদি পাকা বিশ্বাসী হও, ….. জেনো।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তুমি যদি পাকা বিশ্বাসী হও, বিশ্বাস-অনুযায়ী ভাব ছাড়া জগতে কোন বিরুদ্ধ ভাব, কোন মন্ত্র, কোন শক্তি তোমাকে অভিভূত বা যাদু ক’রতে পারবে না, নিশ্চয় জেনো।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

নিত্যানন্দদা— যেমন আমি ঠাকুরবাড়ীতে বছরে চারবার আসি, অনেকে আমাকে শ্রদ্ধা করেন, ভালবাসেন, আমার জানার পাল্লাও বাড়ছে। আমি বছরে একবার এলাম; সেই পরিমাণ আমার পাওয়াও কম, বিশ্বাস কমেছে বলে—আসাও কমেছে।

গুরুকিংকরদা—বিশ্বাস একটা সাধনার ব্যাপার।

শ্রীশ্রীবড়দা—যার একবার বিশ্বাস এসেছে, তার ঠকা নাই-ই, কেউ তা’কে ঠকাতে পারে না। যেমন— বিশ্বামিত্রের শিষ্য হরিশচন্দ্র; সমস্ত জগত দেখেছে গুরু তাকে ঠকায়ে নিচ্ছে— সর্বস্বান্ত হ’চ্ছে স্ত্রী-পুত্র সবই গেল, আপাতঃদৃষ্টিতে সবাই মনে করছে—ঠ’কেই গেল। কিন্তু যে ভক্ত সে দেখছে তার বিশ্বাস অটল। রাজাধিরাজ হ’য়েও ডোম হ’য়ে মরা পুড়তে চলল। গুরু আগের থেকেই টাকা-কড়ি ও বিষয়, মানুষ তার সব নিয়েছেন।

গুরুকিঙ্করদা—যার বিশ্বাস-ই নেই তার আর গেল কি করে?

লালদা—(তুলসী ঠাকুর) যব্‌ জগমে আয়ে, জগ্ হাসে ………….

শ্রীশ্রীবড়দা—যাবার সময় এমন কাজ ক’রে যাও, তুমি হাসতে হাসতে চলে যাও, জগত কাঁদতে থাকবে তোমার জন্য; কথাটার মানেই এইরকম – ‘তোমার মহা বিশ্বে কিছু হারায় নাতো কভু’ । আমরা অবোধ, আত্মকেন্দ্রিক হলে বোঝা যায় না; তাঁর সেবা না করতে পারলেই তার দুঃখ।

দুর্গেশদা—রামচন্দ্র কত কষ্ট করলেন। আপনার জীবনেও কত কষ্ট গেছে—

শ্রীশ্রীবড়দা—আমার কথা ছেড়ে দাও, আমার মতো এত মুখ্যু আর কে আছে, যে টাকা নিয়ে যায় তাকেও বিশ্বাস করি, যে নিয়ে গেল, দিল না; তাকেও বিশ্বাস করি।

পণ্ডিতদা—আপনি বলেছিলেন, কোন একটা জিনিস চলে গেল, হারিয়ে গেল, যখন পাওয়া গেল, তখন যেন মনটা খারাপ লাগল।

শ্রীশ্রীবড়দা—হারানো জিনিস পাওয়া গেলে ভীষণ অস্বস্তি বোধ করি। কারণ যখন হারায়ে গেল; সেটা তো তখন কারো কাজে লাগবে। জুতা, ফল যত জমে যায়, কেউ যদি নিয়ে যায় খুব ভাল লাগে, বেশী জমলেই যন্ত্রণা হয়, শেষে রাগের pose করে কাউকে দিয়ে দিই। কম দেয় নাকি মানুষ? ঠাকুরের দয়ায় কাপড় কি কম আছে নাকি। মা থাকতে কত দিত। এখনো যে সাদা কাপড় পরি তাও কি কম! জঞ্জাল পরিষ্কার করলেই বাঁচি। চিঠি আগে অনেক রাখতাম। জমাতে জমাতে চলি, শেষে দেখি মানুষ আমাকে ভালবেসে চিঠি দেয়, ফেলে দেব? এখন এ-ত লেখে; আমি খুব important দু-একখানা লিখি—তাই যন্ত্রণাও কম।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-৫/১২/৭২]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্টা ২১১ – ২২২]