তোমার বন্ধু … না।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তোমার বন্ধু যদি কুপথে যায়, আর তুমি যদি তাকে ফিরাতে চেষ্টা না কর বা ত্যাগ কর, তার শাস্তি তোমাকেও ত্যাগ ক’রবে না।

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

বিভিন্ন ভাষায় বাণীটি পাঠের পর শ্রীশ্রীপিতৃদেব হৃষীকেশকে (দে) আলোচনা করতে বললেন।

হৃষীকেশ বাণীটি একবার পাঠ ক’রে বলল—আমার বন্ধুর বিপদে আমি যদি তাকে সাহায্য না করি, আমিও আমার বিপদের সময় তার কাছ থেকে সাহায্য পাব না। এটাই আমার শাস্তি।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—এখানে সে কথা তো হচ্ছে না। বিপদে পড়ার কথা হচ্ছে না বিপথে যাবার কথা হচ্ছে। আমার বন্ধু কুপথে গিয়েছে, আমি তাকে ফেরাতে চেষ্টা করছি না, সেজন্য বন্ধুর শাস্তি হচ্ছে, সেই শাস্তি আমাকেও পেতে হবে, ঠাকুর বলছেন।

এরপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব ধৃতিদীপিকে বললেন—বল, আমায় কিসের শাস্তি পেতে হবে।

ধৃতিদীপি—বন্ধুকে ফেরাতে চেষ্টা না করার শাস্তি।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—বন্ধুকে ত্যাগ করার শাস্তি আছে তো! বন্ধু যে বিপথে গেছে তারও একটা শাস্তি থাকবে। ভাল পথে গেলে ভাল ফল হয়। বন্ধু খারাপ পথে গেছে, তাই খারাপ ফল হবে। এবার বল।

ধৃতিদীপি—আমার বন্ধু নেশা করে, মদ খায়, লোকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। সবাই জানে আমার বন্ধু মদ খায়। লোকে আমার সম্বন্ধে বলবে—ও তো ওর বন্ধু, আর কতই ভাল হবে।

বাণীটির আলোচনা প্রসঙ্গে সতীশদা ‘আমার বন্ধু চুরি করে’ উদাহরণ দিতে যাচ্ছিলেন।শ্রীশ্রীপিতৃদেব এবার ধৃতিদীপিকে সেই উদাহরণ দিয়ে বাণীটি বুঝিয়ে দেবার নির্দেশ দিলেন।

ধৃতিদীপি নিরুত্তর থাকায় শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—ধর, তোমার বন্ধু চুরি করে। একদিন ধরাও পড়ল। পুলিস তাকে থানায় ধরে নিয়ে গেল। তারপর এনকোয়ারী ক’রে জেনে নিল কে-কে ওর বন্ধু আছে। দেখল ধৃতিদীপির সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে। তখন পুলিস নজর রেখে তোমাকেও ধরে নিয়ে গেল। পারিপার্শ্বিকও তা’ দেখল। তখন তোমার মনে কত দুঃখ হবে! তোমায় থানায় নিয়ে গিয়ে কত জেরা করল, চড়-চাপড় মারল; তুমি দোষী নও, তাই ছেড়ে দিল। তখন তোমার মনে হবে যদি ওকে ফেরাতে পারতাম তাহ’লে আমার এ অবস্থা হ’ত না।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং ৩০/১/৭৬ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৮৮, ৮৯]

[মনোমালিন্য বিষয়ক সত্যানুসরণের বাণী (ব্যাখ্যা সহ)]