তোমার মন সৎ-এ … প’ড়বে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তোমার মন সৎ-এ বা ব্রহ্মে বিচরণ করুক, কিন্তু শরীরকে গেরুয়া বা রংচং-এ সাজাতে ব্যস্ত হ’য়ো না, তা’ হ’লে মন শরীরমুখী হ’য়ে প’ড়বে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেবের আদেশে মুরলী বাণীটির আলোচনা শুরু করল।

মুরলী (সাউ)—সৎ-এর মূর্ত প্রতীক ইষ্ট। এখানে ঠাকুর বলছেন—তোমার শরীরকে গেরুয়া বা নানারকম সাজে সাজিয়ে সন্ন্যাসী সেজ না। তাহলে মন সবসময় শরীরের দিকে যাবে। কেমন দেখাচ্ছে, লোকে কী বলছে সেদিকে দৃষ্টি যাবে।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—ব্রহ্মা মানে কি?

সতীশদাকে জিজ্ঞাসা করলেন।

সতীশদা—যিনি সব জায়গায় বিস্তৃত রয়েছেন। যা’ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে যা’-কিছু হয়ে তা-ই আছেন তিনিই ব্রহ্ম। বৃংহ্‌ ধাতু মানে বিস্তার। বৃংহ্‌ ধাতু থেকে বিস্তার এসেছে।

ব্ৰহ্ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বললেন—মাটি দিয়ে হাতি, ঘোড়া, পুতুল, ঘটি, বাটী, গ্লাস বানানো যায়—কিন্তু মাটিই থাকে। সোনা দিয়ে হার, চুড়ি, আংটি—কত কী বানানো যায়, কিন্তু আসলে সোনা।

মুরলীকে উদ্দেশ্য করে বললেন—তাহলে বাণীটা কী দাঁড়াচ্ছে—

‘গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেব মহেশ্বর।’ তোমার মন ইষ্টে বা গুরুতে বিচরণ করুক। শরীরকে রাঙানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়লে মন শরীরমুখী হয়ে পড়বে। তাই সেদিকে ব্যাপৃত না থেকে মনকে ইষ্টে মশগুল রাখতে নির্দেশ দিচ্ছেন।

[ ইষ্ট-প্রসঙ্গে/তাং-৭/১০/৭৬ ইং ]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ২৭৯]