তোমার শয়তান …অদৃষ্ট।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তোমার শয়তান অহঙ্কারী আহাম্মক আমিটাকে বে’র ক’রে দাও ; পরমপিতার ইচ্ছায় তুমি চল, অদৃষ্ট কিছুই ক’রতে পারবে না। পরমপিতার ইচ্ছাই অদৃষ্ট।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

সতীশদা—অহংকার কি?

শ্রীশ্রীবড়দা—যে নিজেকে কর্ত্তা মনে করে। বাড়ির কর্ত্তা আছে আবার চাকরও আছে। চাকর কর্ত্তামি করতে গেলে ঘাই খাচ্ছে। বাড়ির সবার কাছ থেকে সারাদিন ধরে অপমানিতই হচ্ছে। চাকর কর্ত্তাকে ভালবাসলে বাড়ির সবাই তাকে ভালবাসে। পরমপিতাই কর্ত্তা আমাদের ৷ তাঁকে যে যতখানি ভালবাসে সে ততখানি নিরহংকারী হয়।

পরাণদা—পরমপিতার ইচ্ছাটাকেই অদৃষ্ট ভেবে নেওয়া উচিত।

শ্রীকন্ঠদা—তাঁর ইচ্ছা কি?

শ্রীশ্রীবড়দা—অনুশাসনবাদ। যাতে তিনি প্রীত হন, যা তিনি পছন্দ করেন তাই মেনে চলতে হবে। অনুশাসনবাদ কাঁটায় কাঁটায় মেনে চলতে হবে। কিন্তু পা-খানা দেখা গেল কেটে গেছে, তখন কি মনে করবে? যে তাঁকে মানে সে বলবে পা-টা একদম কেটেই যেত! অদৃষ্ট কি? আমি অনুশাসনবাদ অকপট ভাবে মেনে চলি। তার ফলটা প্রথমে বুঝিনি, বুঝতে পেরেছি—মেনে চলার পর। ফলটা অদৃষ্ট ছিল। করবার পর দৃষ্ট হ’ল।

পরাণদা—তাঁকে বাদ দিয়ে শয়তানে প্রভাবান্বিত না হ’তে ঠাকুর বলেছেন, আর তাঁর ইচ্ছাটাই অদৃষ্ট।

শ্রীশ্রীবড়দা—দীক্ষা নিলাম, অনুশাসনবাদ মেনে চলছি। করতে করতে যা’ ফল হচ্ছে বুঝতে পারছি। আমি খেতে বসেছি, তখন কেউ এল । সে সারাদিন খায়নি। তা’কে সেই খাবারটা দিলাম। আনন্দ বোধ করলাম। এমন দেখা গেছে, বলে—স্বস্ত্যয়নী করি, এই হেনতেন করি, পা ভেঙ্গে গেল কেন? শেষে কোষ্ঠী নিয়ে দেখা গেল ঠ্যাং একদম চলেই যাবার কথা ছিল। ঐ প্রারব্ধ। ইষ্টের অনুশাসনবাদ মেনে চললে এ কর্মফল খণ্ডন হয়। কিন্তু তাঁর দয়া হলে সবই হয়। প্রিয়ের জন্য যদি কষ্টই সহ্য করতে না পারলে, তবে সুখ কোথায়? যে যতখানি প্রিয়পরমের জন্য কষ্ট করেছে, সে তত আনন্দ পেয়েছে।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১১/১/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা৭০]