তোমার সব অবস্থার …আনন্দ পাবে।-ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তোমার সব অবস্থার ভিতর তাঁর মঙ্গল-ইচ্ছা বুঝতে চেষ্টা কর, দেখবে কাতর হবে না, বরং হৃদয়ে সবলতা আসবে, দুঃখেও আনন্দ পাবে।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীবড়দা—দু’রকমের মঙ্গল ইচ্ছা আছে। একরকম তুমি নিজে যা’ মঙ্গলজনক বলে মনে কর তা’ করে যাও।

আরেক রকম আছে—তাঁর ইচ্ছাই মঙ্গল—এই বুঝে বিশ্বাস করে, আমি ক’রে যাচ্ছি।

ধর, ঠাকুর ডাকছেন আমাকে, আমি আসছি; আসতে আসতে হোঁচট খেলাম। এখন কেন হোঁচট খেলাম, তা’ই ভাবতে ভাবতে চললাম—নিজের ব্যাপারেই হারিয়ে গেলাম । আর একরকম আছে —আমাকে ডাকছেন, চলেই এলাম। তাঁর ডাক, নিশ্চয়ই এর ভেতর মঙ্গল আছে। হয়’ত পা ভেঙ্গে যেত, কমের ওপর দিয়ে গেল। মঙ্গল ইচ্ছা কি, বুঝতে চেষ্টা করতে হবে—আমার সব অবস্থায় তাঁর মঙ্গল ইচ্ছা আছেই, তাঁর ইচ্ছাই মঙ্গল। এটা যে বোঝে সে কেবল তাঁর সেবায়ই নিজেকে লাগিয়ে যায়। আমার সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডই তাঁর জন্য—বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডই তাঁর জন্য।

অনেক কথা হ’চ্ছে—মনি করদা বললেন, বড়দা যা বলেছেন সেইটাই ক’রে নিতে হবে।

শ্রীশ্রীবড়দা—(সতীশদাকে বললেন)—প্রশ্ন মীমাংসা ক’রে নিতে হবে।

যেমন শ্রীবাসের আঙ্গিনায় কীর্তন হচ্ছে, ছেলে মরে গেল—কিশোরীদারও ঐরকম—ছেলে মরে গেল। তাঁর ইচ্ছায় চ’ললে কোনো দুঃখই দুঃখ মনে হয় না। তাঁর সেবায় নিজেকে লাগিয়ে রাখতে হবে।

সতীশ—যখন তাঁর ইচ্ছার বাইরে চ’লি?

শ্রীশ্রীবড়দা—তাঁর ইচ্ছার বাইরে গেলেই দুঃখ বোধ আসবে—নিজেই সে বুঝবে—নানা রকমের অমঙ্গল আসবে।

—তাঁর প্রতিষ্ঠায় যে নিজেকে engage ক’রে রাখে, সে সবই বুঝতে পারে । আগে তাঁর ইচ্ছায় চলা অভ্যাস কর, তাঁর অনুশাসনবাদ কাঁটায় কাঁটায় মানবার চেষ্টা কর—হরিদাসকে জলে ফেলে দিল, প্রহ্লাদ কি করল? তাঁর জন্য যে যত ব্যথা সহ্য ক’রতে পারে, সে তত তাঁকে ভালোবাসে। বিল্বমঙ্গল নিজের চোখ গেলে দিল। দুঃখ-কষ্ট পায়ই ভক্ত, আর সেইটাই আমাদের কাছে উদাহরণ।—দুনিয়ায় মানুষ সব চাইতে বেশি কাকে ভালোবাসে?

সতীশদা—নিজেকে।

শ্রীশ্রীবড়দা—নিজের জন্যই ইষ্টকে ভালোবাসে।

আমার ভালো বুঝব তখন, যখন আমি সম্পূর্ণভাবে তাঁকে ভালোবাসতে পারবো। আমি এইরকম বুঝি।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১০/৪/৭১ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৭১]