তোমার দর্শনের… অদৃষ্ট।- ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ -এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

তোমার দর্শনের—জ্ঞানের পাল্লা যতটুকু অদৃষ্ট ঠিক তা’রই আগে; দেখতে পাচ্ছ না, জানতে পাচ্ছ না, তাই অদৃষ্ট।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

সতীশদা—দর্শনের বাইরেও অনেক কিছু থাকে।

শ্রীশ্রীবড়দা—যতটা বুঝতে পারি, ততটাই আসল জ্ঞান।

সতীশদা—কাউকে হয়ত আমি দেখলাম, কি অবস্থায় সে পড়ে আছে তা আমার জানা নাই। পরে কি হবে তা’ও জানি না।

শ্রীশ্রীবড়দা—সে কি? অদৃষ্ট কাকে বলে বল্‌।

ক্ষিতীশদা—এখন চা খেলাম, পরে দেখলাম কি কাপে খাবার জন্য আমার T.B. হল।

সতীশদা—যা কিছু ঘটবে তার কারণ জানি না ব’লে বলি অদৃষ্ট।

শ্রীশ্রীবড়দা—একটা লটারীর টিকিট কিনলাম। মনে করলাম টাকা পাওয়া যাবে, কিন্তু পাওয়া গেল না। তখন অদৃষ্টের দোষ দিতে থাকলাম। আমার range হচ্ছে এই রকম; পরিষ্কার কাপে চা খাচ্ছি, সবাই খাচ্ছে। কিন্তু আমার বেলা এই রকম। সদাচার না মানার পরিণামে T.B. হল। এরকম হতে পারে। সেই জন্য বুঝে সুঝে চলতে হবে।

প্রশ্ন—জ্ঞানের পাল্লা বাড়াবার জন্য কি দরকার?

শ্রীশ্রীবড়দা—চলার সুবিধার জন্য দেখে চলা দরকার।

সতীশদা—Predestined বলে একটা কথা আছে।

শ্রীশ্রীবড়দা—ঠাকুর বলেছেন “করাই পাওয়ার জননী, ভাল কর, পাবে।”

পরমেশ্বরদা—সতীশদা বলছেন অদৃষ্ট আমরা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু কর্ম করে গেলেও “নিয়তি কেন বাধ্যতে”।

ননীদা—অত্যন্ত প্রবল কর্মের দ্বারা নিয়তি খণ্ডন করা যায়।

শ্রীশ্রীবড়দা—দেহ পরিবর্ত্তনের একটা পাল্লা আছে। আমার যা পরমায়ু, হয়তো তা বেড়ে গুরুর দয়ায় একশ বছর পর্য্যন্ত হতে পারে। তার জন্য সাধন ভজন করতে হয়। তবেই হয়। মন প্রাণ দিয়ে যদি নাম করি, তবে আয়ু বেড়েই যায়। আলাদা ক’রে প্রাণায়াম তখন করতে হয় না।

[‘যামিনীকান্ত রায়চৌধুরীর দিনলিপি/তাং-১৮/১১/৭৬ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ৬৯, ৭০]