দীন হওয়া অর্থ … ব্যাখ্যা

সত্যানুসরণ-এ থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীটি হলো:

দীন হওয়া অর্থ নোংরা সাজা নয়কো।

পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কর্তৃক ব্যাখ্যা :

শ্রীশ্রীপিতৃদেব নিজেই সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন—ভগবানের কাছে শিষ্য সব সময় দীনভাবে থাকবে। কারণ সব কিছুই তো তাঁর। তাঁর কাছে অতি দীনভাবে থাকাই লাগে। আবার তাঁকে সেবা করাই শিষ্য বা সেবকের বিশেষ কর্তব্য। তাই তাঁর সেবা করতে গিয়ে দীনভাবে থাকতে গিয়ে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকলে চলবে না। যতদূর সম্ভব পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন, এক কথায় সদাচার সম্পন্ন হ’য়ে তাঁর সেবা করাই লক্ষ্য।

উদাহরণ দিয়ে বললেন—২৫০ টাকা দামের শাল ব্যবহার না করে, মোটা কাঁথা নিজ হাতে তৈরী করে গায়ে দিয়েও অনায়াসে শীত কাটানো যায়—খুব বেশী হলে লেপ। ২৫০ টাকার শাল কিংবা আলোয়ানের কিছু দরকার নেই। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন তোমার উদাহরণে যদি কারুর মঙ্গল হয়, তাই বলছি—এখনও মাঝে মাঝে কাঁথা গায়ে দিই ইষ্টের দিকে তাকিয়ে; দীনভাবে থাকার চেষ্টা। ঠাকুরের দয়ায় টাকা-পয়সা থাকা সত্ত্বেও এই দারুণ শীতও কেটে গেল এ কাঁথা গায়ে দিয়ে।

যারা সংসারী তাদের সিদ্ধিলাভ হয় তখন—যখন সব কিছু ক’রে বলে সবই তাঁর, তিনি সব করিয়ে নেন। আমি কেবল তাঁর দীন সেবক। এই ভাব যখন প্রবল হয় তখন সিদ্ধির দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে থাকে।

সতীশদা (পাল)-এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—বোঝা যাচ্ছে?

সতীশদা—আজ্ঞে , হ্যাঁ।

[তাঁর সান্নিধ্যে/তাং-২০/১২/৭৪ ইং]

ভৃতিরাণী দে বাণীটি আলোচনা করার নির্দেশ পেয়ে বলল—দীন মানে গরীব। ঠাকুর বলছেন, দীন হওয়া মানে নোংরা হওয়া নয়।

শ্রীশ্রীপিতৃদেব—দীন মানে কি গরীবই হয়, আর কিছু হয় না? দীন মানে বিনয়ী হওয়া, নম্র হওয়া। আমি অমুক, আমি তমুক এসব না ভাবা। তাহলে বাণীর অর্থ হচ্ছে—বিনয় বা দীনভাব যা’র হল—তার মানে সে যে নোংরা, অপরিচ্ছন্ন হবে তা নয়। গরীবই যদি হয় তার মানে নোংরা থাকবে তা নয়। জামাকাপড় ময়লা, চোখ অপরিচ্ছন্ন, দাঁত মাজব না—তা নয়। আমি ইষ্টের সেবক—তাই পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

[পিতৃদেবের চরণপ্রান্তে/তাং-১৮/৯/৭৯ ইং]

[প্রসঙ্গঃ সত্যানুসরণ পৃষ্ঠা ১৫১]